সকালে বাসা থেকে বের হতেই বাতাসে ভেসে আসে, ‘বীরের জাতি বীরের মত থাকি, ব্যায়ামে না দেই ফাঁকি’। ঘোষণাটা মানুষকে দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ ও স্বাস্থ্যসচেতন করে তুলতে সহায়ক হয়। বিষয়টি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ গল্পের পাগল মেহের আলীর ‘সব ঝুট হ্যাঁয়, সব ঝুট হ্যাঁয়; তফাৎ যাও’-এর মতো শোনালেও উভয় আহ্বানের আবেদন কিন্তু এক ও অভিন্ন নয়। প্রথমজন আমাদের জাতীয় পরিচয়, বীরত্বগাঁথার বয়ান দিয়ে সম্মানের সাথে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেন ও সকলকে আত্মসচেতন-স্বাস্থ্যসচেতন হওয়ার আহ্বান জানান; অপরজন মানুষকে সতর্ক করেন মিথ্যার মায়াজাল থেকে বাঁচার জন্য। তবে উভয়ের মধ্যেই যে একটা আঙ্গিকগত মিল রয়েছে। উল্লেখ করা দরকার যে, এ আয়োজনের আয়োজক ‘উজ্জীবন, মধুবাগ’। যা মানুষকে উজ্জীবিত ও অনুপ্রেরণা দেয়; সমৃদ্ধ করে ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞানের ঝুলি।

চিকিৎসকের প্রেসিক্রিপশনেই জীবনকে আয়েসী-স্বস্তিদায়ক ও অপেক্ষাকৃত স্বাচ্ছন্দপূর্ণ করার জন্য অতিপ্রত্যুষে হাটাহাটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করেছি বেশ আগেই। বাসা থেকে হাতিরঝিল লেকটা বেশি দূরে নয়। তাই সহজেই প্রাতঃভ্রমণটা সেখানে সেরে নেওয়া যায় প্রতিদিন। যা দৈনন্দিক কার্যতালিকায় অবিচ্ছেদ্য হয়ে গেছে। লেকের নান্দনিকতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মোহাবিষ্ট করার মত। তাই এক অজানা আকর্ষণে প্রত্যহই ছুটতে হয় অপরূপ সৌন্দর্যের আকর লেক পাড়ে। এক্ষেত্রে খুব একটা হেরফের হয় না বললেই চলে।

পরিবেশটা বেশ মনোরম। বিশালাকায় লেকের চারপাশে সবুজের সমারোহ; নানা প্রজাতির বনজ, ফলজ, সপুষ্পক ও ওষুধী গাছ। আছে কয়েটা ব্রিজ। রয়েছে ওভারব্রিজও। লেকের মধ্যভাগে একটা সবুজাভ আইল্যাণ্ড; যা পুরো লেকের সৌন্দর্যকে অনন্যতা দিয়েছে; দিয়েছে ভিন্ন এক নান্দনিকতা। তবে তা পুরোপুরি লেক পাড় থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। আগে নাকি সেখানে সেনাছাউনি ছিলো। এখন পুরোপুরি মাদক ও গঞ্জিকাসেবীদের দখলে। লেকের ফুটপাথও বেশ দৃষ্টিনন্দন। ঢালাই দেওয়া আয়তাকার ব্লক আর সিরামিকের ইটের এক অসাধারণ ও অপূর্ব মেলবন্ধন। রীতিমত নজর কারার মত। সে পথেই প্রাতঃভ্রমণ। বিভিন্ন বয়সের, নানা শ্রেণির পেশার মানুষ হাতিরঝিল লেক পাড়ে হাটাহাটি করেন, নানাভাবে চলে শারীরিক কসরৎ। কেউ কেউ আবার আড্ডা দেন চুটিয়ে। বুড়ো-বুড়িরাও বয়সের বাধা-প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করেই লেক পাড়ে হাজির প্রাতঃভ্রমণে। যৌবনের সে হারিয়ে যাওয়া উত্তাল দিনগুলোর মতই যুগলবন্দী।

প্রতিদিন রঙধনু ব্রিজ সংলগ্ন হাতিরঝিল-মধুবাগ মোড় হয়ে পাটাতন বিছানো পথ ধরেই হাঁটাচলাটা বেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে নানা বিচিত্র ও বৈচিত্রময় অভিজ্ঞতাও কম নয়। নানা মত ও পথের মানুষের সাথে মতবিনিময় করার সুযোগ হয়। চিন্তা ও আদর্শের বৈপিরীত্য বিশেষভাবে আন্দোলিত করে। মানুষ সম্পর্কে দীর্ঘদিনের বদ্ধমূল ধারণার কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। পেশা ও শ্রেণিগত কারণেই মানুষ যে ভালমন্দ হয় না বরং সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যেই যে সুকৃতি কাজ করে এর প্রমাণও পাওয়া যায় এক হিজরার আচরণ ও বদান্যতায়।

হিজরা মানেই খারাপ প্রকৃতির মানুষ! এদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও নীতি-নৈতিকতা কাজ করে না। এরা পথেঘাটে চাঁদাবাজি করে অবলীলায়। অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও মানুষকে গালি দেয় বাজে ভাষায়। এমন ধারণাই বদ্ধমূল হিজরাদের সম্পর্কে। কিন্তু হাতিরঝিল লেকপাড়ে এক নতুন বৈশিষ্ট্যের হিজরা আবিষ্কৃত হলো। দীর্ঘদিন হিজরাদের সম্পর্কে লালিত বোধ-বিশ্বোসেরও এলো এক ইতিবাচক পরিবর্তন। যদিও সব হিজরাকেই একইভাবে মূল্যায়ন করার সুযোগ নেই।

হাতিরঝিল লেক পাড়ে প্রায় একই সময় একই জায়গায় প্রায় প্রতিদিন দেখা যেতো এক হিজরাকে। ধপধপে ফর্সা শাড়ী পরিহিতা দীর্ঘাঙ্গিনী তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। দেখা হলে খুবই সহীহ-শুদ্ধ সালাম দিতেন সকলকেই। সাধারণত হিজরাদের এভাবে সালাম চর্চা করতে দেখা যায় না। তাই বিষয়টি বেশ অভিনবই বলতে হবে। কিন্তু তার বদান্যতা, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ধর্মানুরাগ বেশ প্রশংসারযোগ্য।

প্রতিদিনই তাকে দেখা যেতো ফুটপাথের বিখারীদের মুক্তহস্তে দান করতে। এমনকি বিপদগ্রস্ত মানুষদের সাধ্যমত সাহায্য-সহযোগিতা করতেও দেখা গেছে। মসজিদ-মাদরাসা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সাহায্য করতেন মাঝে মধ্যে। কিন্তু কারো কাছে তাকে কিছু চাইতে দেখা যায়নি কখনো।

নানাদিক থেকেই অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেছে হাতিরঝিল লেক। মাঝে মাঝেই ওভার ব্রিজের ওপর দেখা মেলে এক তরুণীর। বয়স পঁচিশের বেশি হবে না। খুব ভোরবেলা কাঁধে ঝোলানো গিটার, হাতে ছোট একটা ভ্যানিটি ব্যাগ; পোশাক-পরিচ্ছদে মলিনতার ছাপ, উসকো-খুসকো চুলে খুবই অসহায়ের মত ঘোরাফেরা করতেন। একদিন তাকে ওভারব্রিজে দীর্ঘ সময় রূপচর্চা করতে দেখা গেলো। পরের দিন ছিলেন ওভার ব্রিজের বেঞ্চে ঘুমিয়ে; নিঃসংকোচে-নির্ভয়ে। বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করার কোন সুযোগ ছিলো না।

এ বিষয়ে উজ্জীবন সভাপতি সৈয়দ আকিবের কাছে জানা গেলো, ‘উনি তো একজন কবি। কবিরা এমন আত্মভোলা ও উদাসীন হন’। বিষয়টি নিয়ে হাস্যরসে মেতে উঠলেন তিনি। কিন্তু তার এমন বক্তব্য আশ্বস্ত হওয়ার মত বা স্বস্তিদায়ক ছিলো না। কারণ, তাকে কোনোভাবেই মানসিকভাবে সুস্থ মনে করার কোনো কারণ নেই। হয়তো কোন এক ভাগ্যবিড়ম্বিত পিতামাতার আদরের হতভাগ্য সন্তান।

বয়সের ভারে নুব্জ এক দম্পতি। জোর দিয়ে হাটার শক্তি নেই। তারপরও প্রতিদিনই একই সময়ে হাঁটতে আসনে সত্তরোর্ধ বয়সের এ দম্পতি। খুবই বেশি হাটাহাটি করতে না পারলেও চেষ্টার কোন কমতি থাকে না। ক্লান্ত হলে ইট-সিমেন্টের বেঞ্চিতে বসে গল্প করেন অবলীলায়। অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে। বার্ধক্য ও দুর্বলতা তাদের মনের জোরে কোন ফাটল ধরাতে পারেনি; যা কালেভদ্রেও দেখা যায় না।

নারী চরিত্র বরাবরই বিচিত্র। এরা কখন কী বলেন, আর কখন কী করেন তা বুঝে ওঠা বেশ কষ্টসাধ্য। বড়ই রহস্যময়ী চরিত্র। তাই বলা হয়, ‘স্ত্রীয়াস চরিত্রম দেবা ন জানন্তি’ অর্থাৎ নারীদের মনের খবর দেবতাই জানেন না। এমনই বিচিত্র চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যের দু’নারীকে আবিষ্কারকৃত হয়েছিলো হাতিরঝিল লেকে। তাদেরকে প্রায় প্রতিদিনই লেক পাড়ে হাটাহাটি করতে দেখা যায়। প্রাণখুলে গল্প-গুজবে মত্ত হোন। এদের গল্পের মাথামুণ্ডু খুঁজে পাওয়া বেশ দুষ্কর। শুধুই গল্পের ছলেই গল্প। এদের গল্পের অংশবিশেষ হলো, ‘ঘাস খেলে যদি গাভীর দুধ হয়, তাহলে মানুষের কেন নয়’। বড্ড হাসি পাওয়ার মত প্রশ্ন; এক অভিনব বয়ান। হয়তো তারা ঘাস খেয়েই নিজেদের সমস্য সমাধানের পথ খুঁজছেন। কিন্তু এদের মনে রাখা উচিত মানব আর ইতর প্রাণী এক নয়।

হাতিরঝিল-মধুবাগ মোড়ের লেক পাড়ের পাটাতনের পাশেই রয়েছে একটা ছোট বটগাছ। সাথে এসেমব্লী করার মত ছোট জায়গা। প্রতিদিনই সেখানে কিছু লোকের জটলা লক্ষ্য করা যেতো। প্রায় একই ধরনের পরিচ্ছদে সজ্জিত হয়ে নানা ধরনের শারীরিক কসরত করেন। সাউন্ড ও কাউন্ট শোনা যায় একই সাথে। সেখান থেকেই বাসাতে অবলীলায় ভেসে আসে পাগল মেহের আলীর মতো সিরাজুল ইসলামের দরাজ কণ্ঠ। বিষয়টা তো নিত্যদিনের। তাই তা আমার মধ্যে খুব একটা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারেনি। তবে প্রতিদিন কানে ভেসে আসতো বিভিন্ন ধরনের অতিচটকদার ও ইতিবাচক কিছু কথা। ‘শ্রবণশক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম সর্বোপরি বুদ্ধি বৃদ্ধির ব্যায়াম’। শুধু তাই নয় বরং মানবদেহের যত প্রকার সমস্যা রয়েছে সব কিছুর সমাধানের কথা বলা হয় ব্যায়ামের নানাবিধ ইভেন্টের মাধ্যমে। সরকারি হাসপাতালের মতো সকল রোগে সাদা বড়ি প্রয়োগের আদলে।

বুদ্ধি বৃদ্ধির ব্যায়ামের বিষয়টি আমার মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলো। কারণ, বুদ্ধিহীনতার অভিযোগ আমাকে সরাজীবনই পীড়া দিয়েছে। আমার বুদ্ধি আছে বা বয়স হয়েছে এমনটা মা কখনোই মনে করেন না। তার কথাবার্তা ও ভাবসাব দেখে মনে হয় আমিই পৃথিবীতে আসা সর্বশেষ ব্যক্তি। তাই বুদ্ধিমান হয়ে ওঠার মত কোন অনুসঙ্গ কখনো প্রস্তুত হয়নি।

মা অপ্রাপ্তবয়স্ক মনে করলেও অন্যদের মূল্যায়ন কিন্তু আলাদা। কেউ মনে করেন হারহাড্ডি পেকে একেবারে নারকেলের ঝুনা হয়ে গেলেও জ্ঞান-বুদ্ধিতে একেবারে নিম্নস্তরের মানুষ। বর্তমান সমাজে একেবারেই অচল আমি। তাই বুদ্ধি বৃদ্ধির ব্যায়ামের কথা বেশ উজ্জীবিত হওয়ার মত। আর এমন তাগিদ থেকেই ‘উজ্জীবন, মধুবাগ’ সাধারণ সদস্য পদ গ্রহণ।

উজ্জীবনে আমার যাত্রা শুরু হয় গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে। প্রথম দিনেই পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয় বুদ্ধি বৃদ্ধির ব্যায়ামের সাথে। ‘চার তালি’, ‘ত্রিকোণ আসন’, ‘মেরুদন্ড’, ‘জানু শির আসন’, ‘ব্রেনের ব্যায়াম’, ‘চিরুনী অভিযান’, ‘চেস্ট ক্যাপাসিটি’, ‘পেলভিক’, ‘পাপেট জাম্প’, ‘বোথ হেন্ড রাইজ’, ‘বক আসন’, ‘সিজার জাম্প’, ‘এইট কন্ডিশন, ‘সুইমিং’, ‘ত্রিকোনাসন’, ‘তিন স্তরের হস্ত প্রদর্শন’ ‘ফ্রন্ট ডাউন’, ‘ব্যাক ডাউন’, ‘থ্রি কন্ডিশন’, ‘এইট কন্ডিশন’, ‘হিপ,’ ‘বক্ষ প্রসারণ’ ‘হাফ সিটিং’, ‘উৎকট আসন’, ‘বীর মুষ্টি’, ‘ক্রস কিক’, ‘এরাবিক ফর্মে ব্যাক ডাউন’ ও ‘জাপানী আকুপেসার’ সহ আরো কত চমকপ্রদ ব্যায়ামের সব আজব, অভিনব ও আধুনিক পদ্ধতি। সবগুলোই মজাদার ও চরমপ্রদ। নিজের কান নিজে ধরলেই বুদ্ধি কী বৃদ্ধি হয়? এ বিষয়ে উজ্জীবন সভাপতির পাণ্ডিত্যপূর্ণ জবাব, ‘পণ্ডিত মশাইরা এমনিতেই আমাদেরকে কর্ণ ধরিয়া বেঞ্চের ওপর করতেন না’! একেবারে আক্কেল গুরুম হওয়ার মত। তাহলে হাতিরঝিলে এসে ব্যায়াম করার দরকার কী? বাসায় কান ধরাধরি করলেই তো চলে।

উজ্জীবনের ব্যায়াম চলে মোট ৫ পর্বে। প্রতিপর্বে দু’জন করে নির্দেশক-প্রশিক্ষক থাকেন। নানা ধরনের শারীরিক কসরত করানো হয়। কোন ব্যায়াম মানবদেরে কীভাবে ক্রীয়াশীল ও ইতিবাচক তাও জানানো হয় অংশীজনদের। এসবের মধ্যে ডায়াবেটিস, লিভার, কিডনী, এনার্জি বৃদ্ধি, রক্ত সঞ্চালন, টুনিটুনি, থাইরয়েড, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি সহ চোখের নানা ধরনের পীড়া, এসিডিটি-গ্যাস, শ্রবণশক্তি বৃদ্ধি, অশ্ব-ফিস্টুলা, ব্যথা-বেদনা, জ¦ালাপোড়া, উদরপীড়া; এমনকি যৌন বিষয়ক টিপসও দিয়ে থাকেন উজ্জীবনের নির্দেশক-প্রশিক্ষকরা। সবচেয়ে উপভোগ্য হয়ে ওঠে সাউন্ড ও কাউন্টগুলো। এসবের মধ্যে খাদ্য তালিকা ও খাদ্যাভাসে বিধি-নিষেধও নির্দেশ করা হয়। গণনায় ৪ ভাষার সংখ্যা ব্যবহার করা হয়েছে। মাঝে মাঝে শফিকুল ইসলাম চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘বেশি করে রুটি খাই, কালা-ভাজা আর গরু না খাই; গরু যা খায় তাই খাই’। যা ঘাসের প্রতি আসক্ত দু’নারীর কথার যৌক্তিকতায় প্রমাণ করে।

নিজের কান নিজেই ধরে বুদ্ধি বাড়ে কি না তা জানা না গেলেও উজ্জীবনের ব্যায়াম বেশ প্রেরণাদায়ক, প্রাণবন্ত, স্বস্তিদায়ক ও উপভোগ্য। উপভোগ্য বিভিন্ন বয়স, শ্রেণি, পেশা, মত ও পথের মানুষের সাথে একত্র হওয়ার সুযোগ পাওয়ায়। ব্যায়াম ছেড়ে কেউ যাতে অহেতুক গল্প-গুজবে লিপ্ত না হন, সে জন্য স্বতোঃপ্রণোদিত হয়েই শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করেন দ্বিতীয় পর্বের নির্দেশক নজরুল ইসলাম। কিন্তু তার বিরুদ্ধেই ব্যায়াম ফাঁকি দিয়ে গল্প করার অভিযোগ বেশ জোরালো। বিষয়টি নিয়ে মাঝ মাঝেই টিপ্পনী কাটেন সভাপতি নিজেই।

বিষয়টি হরিষ সিং-এর মাদরাসা ছাত্রদের নামাজ ও টুপি বিষয়ক শৃংখলা বিধান করার সাথে তুলনীয়। জয়পুরহাটের কড়ই নূরুল হুদা আলীয়া মাদরাসার হিন্দু শিক্ষক ও মাদরাসা ক্যাম্পাসের জমি দাতা টুপি ছাড়া কোন শিক্ষার্থী দেখলে মাথায় বেধরক পেটাতেন এবং নামাজ ফাঁকি দিলেও দিতেন কঠোর শাস্তি। আজান হলে ছড়ি হাতে ঘুরতেন সকল শিক্ষার্থীর নামাজ নিশ্চিত করার জন্য। ব্যায়ামে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিতে বিলম্ব করলে কলম হাতে টপাটপ গরহাজির করে দেন সাবেক অধ্যক্ষ আইয়ুব আলী। হয়তো পুরনো অভ্যাসটা ছাড়তে পারেন নি। উজ্জীবনের বিশেষ আকর্ষণ অ্যাডভোকেট মমতাজ। উনি ব্যায়াম করতে করতেই বটতলায় আসেন। ব্যায়ামটা বাসা থেকে শুরু হয় কি না তা সম্রাট শাহজাহানই বলতে পারবেন।

ব্যায়াম শেষে মাঝে মাঝে প্রাঞ্জল ও আকর্ষণীয় উচ্চারণে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা নূর আলম; ইসলামী আখলাক-সুরতে সুন্নতের পুরোপুরি পাবন্দ; জবরদস্ত আলেমে দ্বীন। তিনি সাবেক আমলা; প্রাক্তন যুগ্ম-সচিব। ‘আমলা’ কীভাবে ‘মোল্লা’ হলেন তা এখনো বেশ রহস্যাবৃত। এছাড়াও উজ্জীবন সভাপতি সৈয়দ আকিব, সেক্রেটারি মুরাদ মজুমদার, শেহাবুল আলম, জম্মুন খান, রেজাউল করিম, শামসুল হক, আনোয়ার হোসেন মানিক, আশরাফুল ইসলাম, নূরুল ইসলাম, লুৎফর রহমান, সাইদুর রহমান, আবু যর গিফারী, আবু বকর সিদ্দিক, আব্দুল হান্নান, আক্তারুজ্জামান, আসাদুজ্জামান, ইউসুফ আলী, শরীফুল হক, সরওয়ার আলম, আব্দুল কাইয়ুম, মাসুদ আলী, জহুরুল ইসলাম মুন্সী, মোস্তাফিজুর রহমান, আবুল হাসেম সিনিয়র, সজীব আহমেদ, তছির উদ্দীন, ইসহাক আলী, ফরিদ হোসেন, আবুল বাশার, ডা. আবুল হাসেম ও আব্দুল খালেক সহ শতাধিক মানুষের অংশ গ্রহণেই ব্যায়াম কার্যক্রম প্রাণবন্ত ও সাবলীল হয়ে ওঠে। একই সাথে উজ্জীবিত করে তোলে দেশপ্রেম ও আত্মসচেতনতায়।

তবে উজ্জীবনকে সব সময় উচ্ছল, প্রাণবন্ত ও উৎসব মুখর করে রাখেন বিটিসিএল-এ কর্মরত সিরাজুল ইসলাম; সিরাজ ভাই ওরফে ‘পানি সিরাজ’। পাগল মেহের আলীর আদলে তার ঘোষণা, ‘বীরের জাতি, বীরের মত থাকি, ব্যায়ামে না দিই ফাঁকি; নিয়মিত ব্যায়ামে আসি/রোগ জীবাণু দূরে রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি; স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি’-যা আমাদের জাতীয় বীরত্বগাঁথার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, প্রেরণা দেয় দেশপ্রেম ও আত্মোৎসর্গে বলীয়ান হওয়ার; করে তোলে শরীর ও স্বাস্থ্য সচেতন!

www.syedmasud.com