॥ মাহমুদ শরীফ ॥
জুলাই! ছত্রিশে জুলাই! রক্তে লেখা লাল জুলাই! ছাত্র-জনতার জুলাই! এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দুর্নীতি, গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণ, নিপীড়ন ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আপামর জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ। বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেখলে গুরুত্বপূর্ণ এবং অসংখ্য ঘটনার সাক্ষী জুলাই মাসটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ বৈকি। বিশেষ করে স্বাধীন বাংলাদেশের সমসাময়িক ইতিহাসে এটি এক গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক এবং আন্দোলন সংগ্রামের মহান সফল তাৎপর্য বহন করে। ঘটনাবহুল রক্তস্নাত জুলাই মাস কেন গুরুত্বপূর্ণ? তা নিচে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র তুলে ধরছি-
ঘটনাবহুল জুলাই : ১. জুলাই মাসটি উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস এবং দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকালের তীব্রতম মাস হিসেবে বিবেচিত।
২. ৪ঠা জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস। ১৭৭৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়ে এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
৩. ১৮ জুলাই নেলসন ম্যান্ডেলা আন্তর্জাতিক দিবস। দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন ও তার শান্তির লড়াইকে সম্মান জানাতে জাতিসংঘ এই দিনটি পালন করে।
৪. ২৬ জুলাই কারগিল বিজয় দিবস। ১৯৯৯ সালের ভারত-পাকিস্তান কারগিল যুদ্ধের সমাপ্তিকে স্মরণে রেখে এটি উদযাপিত হয়।
৫. যেহেতু বছরের দ্বিতীয়ার্ধের শুরু। জুলিয়ান ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জুলাই হলো বছরের সপ্তম মাস, যা দিয়ে বছরের দ্বিতীয় অর্ধেকের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
৬. জুলাই প্রতিবন্ধীদের গৌরববহ মাসও বটে। বিশ্বব্যাপী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নাগরিক অধিকার ও সমাজে তাদের অবদানকে সম্মান জানাতে পুরো জুলাই মাস জুড়ে তাদের নিয়ে উদযাপন করা হয়।
৭. এই মাসের নামকরণ সম্পর্কে জানা যায়, রোমান স¤্রাট জুলিয়াস সিজারের সম্মানে রোমান সিনেট খ্রিস্টপূর্ব ৪৪ অব্দে এই মাসের নাম রাখেন জুলাই। এর আগে রোমান ক্যালেন্ডারে এর নাম ছিল 'কুইন্টিলিস'। অন্যদিকে জুলাই
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জুলাইয়ের ভিন্নতর মর্যাদা : জুলাই কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সার্বিক প্রেক্ষাপটে ভিন্নতর মর্যাদা বহন করে। তাই 'জুলাই বিপ্লব' এর গুরুত্ব অপরিসীম। ৩৬ দিনের আন্দোলন, স্বৈরাচারের পতন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে টানা আন্দোলন শুরু হয়েছিল ১লা জুলাই থেকে। অহিংস এই আন্দোলন সহিংস হয় ১৫ জুলাই এর পর থেকেই। এই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক আন্দোলন ও অর্জন নয়। এটি ছিল গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আকাক্সক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল।
জুলাই শহীদদের আত্মদান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, রাষ্ট্রের শক্তির উৎস ও সর্বময় ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বার্থ, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। জুলাইয়ের চেতনা আমাদের একটি মানবিক, স্বৈরাচারমুক্ত, সমতাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা জোগায় সব সময়। জুলাই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান ও স্বীকৃতি, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। আর এই দাবি কাজে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক সৌহার্দ্যপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে দল-মত-পথ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
মূলতঃ কোটা সংস্কার আন্দোলনের সূচনায় ২০২৪ সালের ১লা জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলন দেশজুড়ে বড় আকার ধারণ করে। এই মাসেই অহিংস আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়, যা পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়। সফল হয় ছাত্র জনতার আন্দোলন। জেগে উঠে নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন।
জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদের স্মরণে প্রতি বছরের ১৬ জুলাই তারিখটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ঐতিহাসিক পট পরিবর্তন হলে এই মাসের ছাত্র-জনতার আন্দোলনটি বাংলাদেশের মানুষের আত্মপরিচয়, ন্যায়বিচার ও নতুন গণতান্ত্রিক চেতনার পুনর্জাগরণের প্রতীক হয়ে উঠেছে। অন্যায়ের কাছে আর মাথা নত নয়, দিয়েছে এই শিক্ষার সত্য বাস্তবায়ন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের নির্দেশে পুলিশ, র্যাব এবং তৎকালীন বিডিআর আন্দোলনকারীদের ওপর তীব্র সহিংসতা ও নৃশংসতা চালায়। এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি "জুলাই গণহত্যা" নামে পরিচিত। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের প্রতিবেদন এবং অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এই আন্দোলনে আইন শৃংখলা বাহিনীর নৃশংসতার কিছু চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো-
আন্দোলনে নৃশংসতা : ১. মোট নিহতের সংখ্যা: জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়, যাদের অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলীতে। মৃত্যুও নিহতদের মধ্যে প্রায় ১২ থেকে ১৩ শতাংশ ছিল শিশু। এছাড়াও এই আন্দোলনে ২০ হাজারের বেশি মানুষ আহত এবং পুলিশের ছররা গুলীতে ৪ শতর বেশি শিক্ষার্থী তাদের দৃষ্টিশক্তি হারায়।
২. নৃশংসতা ভয়াবহ : নৃশংসতার ধরন ছিল ভয়াবহ। মারাত্মক অস্ত্রের যথেচ্ছ ব্যবহার হয়। আন্দোলন দমাতে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেডের পাশাপাশি সরাসরি তাজা গুলী ব্যবহার করে। এক গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মাত্র ২২টি থানার ১০০টি মামলাতেই আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে ৪,৬৩৪টি গুলী চালানো হয়েছিল।
আন্দোলন দমনে পুলিশের পাশাপাশি যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরাও ঝাঁপিয়ে পড়ে। দুঃখ আর কষ্টের ব্যাপার হলো- পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়। ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে অত্যন্ত কাছ থেকে বুক পেতে থাকা অবস্থায় পুলিশ গুলী করে হত্যা করে, যা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। রক্তে যেন আগুন লাগে ছাত্র জনতার। জোরালো হয়ে উঠে আন্দোলন। এছাড়া বহু এলাকায় আবাসিক ভবনের ভেতরে এবং নিরস্ত্র মানুষের উপর ঠান্ডা মাথায় গুলী করার প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়াও হেলিকপ্টার থেকে স্নাইপার ও ছাদ থেকে হামলা করে নতুন ইতিহাসের জন্ম হয়। ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে বহুতল ভবনের ছাদ এবং র্যাব-পুলিশের হেলিকপ্টার থেকে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলী ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়, যা ছিল চরম আশ্চর্যের এবং লোমহর্ষক।
৩. চিকিৎসায় বাধা ও লাশ গুম : আহতদেও চিকিৎসায় বাধা ও লাশ গুমের অভিযোগ উঠে সর্বত্র। অনেক আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেয়া এবং আহতদের ফেলে রাখার ভিডিও চিত্র সামনে আসে। অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতাল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা এবং প্রকৃত নিহতের সংখ্যা লুকানোর চেষ্টাও করা হয়।
৪. বিজিবি এর ভূমিকা : সাবেক বিডিআর বা বর্তমান বিজিবিকে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে ঢাকার রামপুরা, যাত্রাবাড়ী ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন করা হয়েছিল। তারা যৌথভাবে বিক্ষোভকারীদের উপর গুলী চালায় ও কঠোর দমনপীড়ন নীতি অনুসরণ করে।
৫. বিচার ও সংস্কার : শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশ বাহিনীর এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে ব্যাপক জনক্ষোভ তৈরি হয়। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ৩০০-র বেশি মামলা হয়েছে। পুলিশের দলীয়করণ ও এই নৃশংস ভূমিকা নিয়ে বর্তমানে দেশে পুলিশ সংস্কার কমিশন কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বাহিনী রাজনৈতিক স্বার্থে জনগণের উপর এমন নৃশংসতা চালাতে না পারে।
মূলতঃ একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গঠন করাই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের মূল প্রত্যাশা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মূল চেতনা ছিল রাষ্ট্র সংস্কার এবং নাগরিকদেও ধর্মীয় ও মৌলিক অধিকার, গণতন্ত্র এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা।
শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা : জুলাই শহীদ ও তাদের পরিবারের প্রত্যাশা এই গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দ্রুত রায় বাস্তবায়ন। শহীদ আবু সাঈদসহ সকল জুলাই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দোষী ও স্বৈরাচারী শক্তির বিচার সম্পন্ন করাসহ বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন, জনগণের অধিকার, ভোট ও মতপ্রকাশের অধিকার ফিরিয়ে এনে একটি জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। এছাড়াও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির সমন্বয়ে গঠিত 'জুলাই সনদ' ও গণআকাক্সক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা অন্যতম। আবার রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে সব ধরনের ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে নতুন স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা রুখে দেয়াও তাদের দাবি।।
অপরদিকে শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসন করে যথাযথ মর্যাদা দেয়া আবশ্যক। জুলাই শহীদদের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস পাঠ্যপুস্তক, সংস্কৃতি ও জাতীয় ইতিহাসে অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি। শহীদ পরিবারের সদস্যদের উপযুক্ত কর্মসংস্থান প্রদান এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব সরকারের নিতে হবে। জাতীয় ঐক্য ও জনকল্যাণকর স্বার্থে ঊর্ধ্বে উঠে পুরো জাতির সমন্বয়ে একতার চেতনা সমুন্নত রাখা জরুরি। তাই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, নিপীড়ন ও শোষণমুক্ত একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
জুলাই আন্দোলনে নিহত জুলাই শহীদদের মা-বাবার প্রধান আকুতি হলো তাদের সন্তান হত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার। কলিজা ছেঁড়া সন্তানকে হারানোর এক বুক যন্ত্রণা বুকে চেপে এখনো দিন পার করছেন এই অভাগা পিতা-মাতারা। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যম ও স্মৃতিচারণামূলক অনুষ্ঠানে তাদের মুখ থেকে যে আকুতিগুলো উঠে এসেছে, তার মধ্যে আরো রয়েছে-
১. খুনি ও নির্দেশদাতাদের শাস্তি। মৃত্যুর আগে তারা কেবল খুনিদের ফাঁসি দেখতে চান।
২. জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণ ও শহীদের মর্যাদা রক্ষার্থে শহীদের স্মৃতি ও নাম যেন রাষ্ট্রীয়ভাবে চিরকাল সংরক্ষণ করা হয়, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের এই আত্মত্যাগের কথা ভুলে না যায়।
৩. অসহায় পরিবারের ভরণপোষণ ও ভবিষ্যৎ সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি শহীদদের অভাবী মা-বাবার অভাব-অনটন এবং নিঃস্ব অবস্থায় অবসান করা। ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তারা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
শহীদ পরিবারের এই যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণে সরকার এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এককালীন অনুদান, ফ্ল্যাট বরাদ্দ এবং পুনর্বাসনের কিছু উদ্যোগ নিলেও মা-বাবার হৃদয়ের প্রধান শান্তনা "খুনিদের বিচার" হোক।
শেষ কথা : শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনার ওপর ভিত্তি করেই বর্তমান বাংলাদেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়ে নতুন গণতান্ত্রিক পথে যাত্রা শুরু করেছে। তাদের এই স্বপ্নের রক্তের ঋত পরিশোধ করতে নাগরিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। এই জরুরি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণে যত অবহেলা করা হবে তত দ্রুতই হারিয়ে যাবে জুলাই। ইতিহাস হবে গুরুত্বহীন, আবার তৈরি হবে ফ্যাসিষ্ট। আবার জেগে উঠবে জেনজি বা জেনারেশন জেড। ওরা ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের প্রজন্ম। জেনারেশন ওয়াই-এর পরবর্তী এবং জেনারেশন আলফার পূর্ববর্তী একটি জনসংখ্যাগত শ্রেণী। বর্তমানে তাদের বয়স ১২ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে। ছোটবেলা থেকেই ইন্টারনেট, স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার সহজলভ্যতার মধ্যে বড় হওয়ায় এদের "ডিজিটাল নেটিভস" বা "জুমার" বলা হয়। এরা চরম ভয়ংকর, সুতরাং সামনে আগাতে হলে ন্যায় ইনসাফ আর সত্যের সাথেই থাকতে হবে। নচেৎ ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি আসবে এটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। শেষে‘ তিরিশ ছয়ে‘ শিরোনামে লেখা একটি কবিতা দিয়ে শেষ করতে চাই-
জুলাই মাসের ফুলগুলো সব আজকে দেখ লালেলাল
ঝরা কিবা থেতলে যাওয়ায় থাকবে স্মরণ কালেকাল।
ওরা প্রেমিক, দেশপ্রেমিক, পেতে দিলো বুকটা
তপ্ত লহুর শ্রোত গড়ালো, ভীষণ দারূণ সুখটা।
মাঠের পরে গাঁও পেরিয়ে, সব শহরে খুন
লাল জুলাইয়ে ডাইনি বুড়ি, দেখালো তার গুণ!
সাঈদ মুগ্ধ রিয়া আহাদ ইয়ামিনদের গুলী
লাশের সারি রক্ত শ্রোত, কেমন করে ভুলি।
ওরা আবার দেশ জনতার নতুন আশা জ্বালালো
ওদের ভয়ে তিরিশ ছয়ে, ভন্ড ফ্যাসিস্ট পালালো।
ফুলগুলো খুব তরতাজা- এক্কেবারে কচিরে
স্যালুট জানাই, শ্রদ্ধা জানাই তাই কাব্য রচিরে।
লেখক : শিক্ষক ও সাংবাদিক, কুমারখালী, কুষ্টিয়া।