বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুর রহমান

বৃহৎ ভারত বর্ষকে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী ২০০ বছর শাসন ও শোষণের পরে যখন পাক ভারত স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন শুরু করে তখন ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী ভারতকে দুটি ভাগে ভাগ করে। মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান। আর হিন্দু সংখ্যা গরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে ভারতবর্ষ। ১৯৪৭ সালে ১৪ই আগষ্ট পাকিস্তানের দুইটি অঞ্চল নিয়ে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলে স্বাধীন পাকিস্তানের জন্ম হয়। আর ভারত ১৯৪৭ সালে ১৪ ই আগস্টে স্বাধীন হয়।

দেশ ভাগ হওয়ার পর পরই পূর্ব পাকিস্তানে বড় বড় শিল্প কারখানা গড়ে উঠতে শুরু করে। যেমন: দেওয়ানী জুট মিল, চট্টগ্রাম বৃহত্তর রেলওয়ে কারখানা, গোপালপুর রাজশাহী সিতাবগঞ্জ, দিনাজপুর, দর্শনা, কুষ্টিয়াা, চড়সিন্দুর, ঢাকা আখেরকোলা, ঢাকা কিশোরগঞ্জ, শ্যামপুর, রংপুর, বড় বড় চিনির কল গড়ে উঠেছিল। রেলওয়ে বৃহৎ কারখানা ওয়ার্কসপ, ‣সয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কসপ, সবচেয়ে বড় কাগজের কল ছিল চন্দ্রঘোনায়। চন্দ্রঘোনায় পেপার মিল সর্বোবৃহৎ কর্ণফুলী পেপার মিল। আদমজী জুট মিল নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত। এটি বিশ্বের বৃহৎতম পাটকল হিসাবে পরিচিত ছিল। আদমজী ঢাকা কটনমিল, খুলনা টেক্সটাইল মিল, বগুড়া কটন মিল, সবচেয়ে বড় সরকারি ছাপাখানাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ইষ্ট পাকিস্তান গভর্মেন্ট প্রেস। ১৯৬২ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খাঁন ঢাকা পূর্ব পাকিস্তানের জন্য একটি আইনসভা ভবন নির্মাণের জন্য সিদ্ধান্ত নেন। একই বছরে বিশ্বের বিখ্যাত স্থপতি খড়ঁরং কধযহ-কে নক্সা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় আর ১৯৬৪ সালে নির্মাণ কাজ শুরু করে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যুদ্ধ চলাকালে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ২১০ একর জায়গায় এই আইনসভা ভবনটি নির্মিত হয়। তখন জনসংখ্যা ছিল ১৯৬১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন অর্থাৎ ৭.৫ (সাড়ে সাত) কোটি ১৯৬১ সালের আদমশুমারিতে প্রায় ৯৩.৩৭ মিলিয়ন অর্থাৎ ৯ কোটি ৩৭ লক্ষ। ১৯৭১ সালের কাছাকাছিতে প্রায় ১.৩০ বিলিয়ন অর্থাৎ ১৩ কোটি। ১৯৫১ সালে আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলে ছিল ৪.২ বিলিয়ন অর্থাৎ ৪ কোটি ২০ লক্ষ। ১৯৬১ সালে প্রায় ৫.৫ বিলিয়নে ৫.৫ (সাড়ে পাঁচ) কোটি, ১৯৭১ সালে প্রায় ৭.৭৫ বিলিয়ন অর্থাৎ সাড়ে সাত কোটি। ব্রিটিশ থেকে পাকিস্তান ও ভারত আলাদা হওয়ার পর পূর্ব পাকিস্তানে ২৫ বছরে অভূত উন্নয়ন হওয়ায় এটা ভারত কখনও ভালোভাবে দেখেনি। এবং আমাদের স্বাধীনতাও মেনে নিতে পারেনি ভারত। তারই ফসল স্বরুপ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন, ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচন আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় হওয়ার পরেও শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না করা। তার ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালের ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে জন্ম নেয় একটি স্বাধীনদেশ বাংলাদেশ। ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনই ছিল বাংলাদেশের দেশপ্রেমী নাগরিকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। স্বাধীনতার পর পরই তদানিন্তন পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যায় আত্মরক্ষার জন্য। আবার অনেকেই স্ব-ইচ্ছায় কারাবাস বেছে নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে মুসলিম লীগ, জামায়াত ইসলামী, চীনপন্থী কমিউনিস্টপার্টি ইসলামী ছাত্রসংঘ নেতাকর্মীদের উপরে নেমে আসে দুর্বিষহ অমানবিক জুলুম নির্যাতন। পরবর্তীতে শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বার্থে, জাতি গঠনের স্বার্থে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। আস্তে আস্তে দেশ যখন স্বাভাবিকের পথে এগুচ্ছে তখন বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের জন্য জামায়াত ও ছাত্রসংঘের নেতাকর্মীরা এগিয়ে আসেন। বাংলাদেশ স্বাধীনের পরে সাড়ে সাত কোটি এই জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজন অর্থনীতিক বিপ্লব সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজন হাসপাতাল ও ক্লিনিক, আবাসনের জন্য আবাসন প্রকল্প। তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষার হার ছিল ২০.২২%। উল্লেখিত বৃহৎ কাজগুলি বাস্তবায়নের জন্য জামায়াত ইসলামী পলিসি ঠিক করার জন্য কাজ শুরু করেন। শিক্ষার হার বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা নেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাহাতে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হতে পারে তার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয় এডুকেশন সোসাইটি বাংলাদেশ।

এছাড়াও অগণিত ইসলাম পন্থী জনগোষ্ঠী ও জামায়াত ইসলামীর সমর্থক, কর্মী ও নেতাগণ ছোট ছোট শেয়ার ক্রয় করেন ইসলামী অর্থনৈতিক ও সুদবিহীন অর্থব্যবস্থা চালু করার জন্য। সেই সময় প্রতিটি শেয়ার ছিল ১০০০/-টাকা করে। বগুড়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব আতাউর রহমান খান ঐ সময় ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকার শেয়ার ক্রয় করেন। এইভাবে কোটি কোটি টাকা ইসলামী ব্যাংক খোলার জন্য জমা হতে থাকে। আত্মবিশ্বাসী উদ্যোক্তাগণ প্রহর গুণতে থাকে কবে ইসলামী ব্যাংক ওপেন হবে। এরই মধ্যে সুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ে, ইসলামী ব্যাংক খোলার অনুমোদন পেয়েছে। ঐ সুসংবাদে সবাই আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। ১৩ই মার্চ ১৯৮৩ সালে কোম্পানী হিসাবে নিবনন্ধিত হয়। ২৭ শে মার্চ ব্যবসা শুরু করে। ৩০ শে মার্চ প্রথম শাখার উদ্বোধন হয়। আল হামদুলিল্লাহ। ইসলামী ব্যাংকের শুভ সূচনায় ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড অব ডাইরেক্টরের চেয়ারম্যান হন আলহাজ্ব মোঃ আব্দুর রহমান লস্কর আর এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হন মোঃ ইউনুস। ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন মোঃ আজিজুল হক তিনি জামায়াত নেতা ছিলেন। হাটি হাটি পা পা করে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যাংক এবং এক হাজার ব্যাংকের মধ্যে স্থান লাভ করে। বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের শাখা ৪০০টি, উপশাখা ২৭৮টি এবং এজেন্ট শাখা ২৭০০। মূলত অর্থনৈতিকে গতিশীল ও সুদমুক্ত করার জন্যই ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইসলামী ব্যাংক দ্বারা প্রায় ৩ কোটি মানুষ সেবা পাচ্ছে। ৪০% বিনিয়োগ গার্মেন্টস শিল্প কারখানাতে বিনিয়োগ করে উদাহরণ স্থাপন করেছে। অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বৈদেশিক রেমিট্যান্স আসে ৫০%। এজন্য ইসলামী ব্যাংক অনুসরণ করে অন্যান্য সুদীয় ব্যাংকও নিজ নিজ ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকের শাখা খুলেছে। বিগততে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি জনগণের অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস ছিল। এই ইসলামী ব্যাংকের অধীনে হতদরিদ্র ও খেটেখাওয়া মানুষের জন্য ক্ষুদ্র বিনিয়োগ প্রকল্প চালু আছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে লাখো লাখো দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিয়োগ পাচ্ছে এবং তারা উপকৃত হচ্ছে। এই ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে যখন বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল হচ্ছে শিল্প কারখানা গড়ে উঠছে বৈদেশিক রেমিট্যান্স ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে আসছে সামাজিক কাজ চলছে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আস্থা অর্জন হচ্ছে তখনই শকুনের নজর পড়ে ইসলামী ব্যাংকের উপরে। অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আবুল বারাকাত তিনি উস্কানিমূলক বই লেখে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে উস্কে দেন যে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের প্রতি নজরদারির রাখার জন্য। তিনি বলেন ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা, কেয়ারি লিঃ সহ আরও অন্যান্য ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম উল্লেখ করে বলেন উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে জঙ্গী গোষ্ঠীকে অর্থায়ন করা হয়। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে আবুল বারাকাত জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন।

তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে তার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয় বলে অভিযোগ আছে। হাসিনা সরকারের প্রথমেই নজরে পড়ে ইসলামী ব্যাংকের উপরে। যার ফলশ্রুতিতে এস আলম গ্রুপ মূলত ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ PLC এর নিয়ন্ত্রণ (Control) গ্রহণ করে। ৫ই জানুয়ারি ২০১৭ DGFI জোর পূর্বক পিস্তল ঠেকিয়ে বাসা থেকে হোটেল রেডিসন ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য পর্ষদের সদস্যদের পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। একই দিনে পরিচালনা পর্ষদে বড় পরিবর্তন আনা হয়। এবং এস আলমের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রভাবশালী অবস্থানে আছে। পরবর্তীতে এস আলম গ্রুপের প্রভাধীন শেয়ারের পরিমান প্রায় ৮২% পর্যন্ত পৌঁছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এস আলম জোর পূর্বক শেয়ার গুলো তার নামে নিয়ে নেয় তার ফলে ব্যাংকের অর্থনীতি সংকটে পড়ে যায়। ২৬ শে জুলাই ২০২৪ এর পরে ড. ইউনুস অন্তর্বর্তী সরকার ইসলামী ব্যাংককে পুনরুদ্ধার করে আবার নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন পূর্বক নতুন এমডি নিয়োগ দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চলার পথ পরিষ্কার করে দেয়। ব্যাংক যখন গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে শুরু করে এরই মধ্যে গত ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ অর্জন করে সরকার গঠন করেই বাংলাদেশ ব্যাংক দক্ষ, সৎ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ড. ইউনুস যে গভর্নরকে নিয়োগ দিয়েছিল তাকে সরে দিয়ে অন্য একজন ঋণখেলাপী, অদক্ষ, অসৎ ও এস আলমের লোককে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়।

শুধু কি তাই ? ইসলামী ব্যাংকের চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই এবং পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই এস আলম নিয়োগের জন্য সরাসরি আবেদনপত্রগুলি পাঠিয়ে দিত নিয়োগের জন্য। যাদেরকে চাকরিতে নিয়োগ দিত তাদের কোনো যোগ্যতাই ছিল না। যোগ্যতা ছিল মাত্র এস আলমের এলাকার লোক। এস আলম এর জেলার লোক ছাড়া অন্য কোনো জেলার লোক যোগ্য হলেও ইসলামী ব্যাংকে চাকরি মিলতো না। আমি একদিন আমার প্রয়োজনে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মনিরুল মাওলা ৪০ দিলকুশা হেড অফিস তার অফিসে গিয়েছিলাম। তার সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষ না হতেই দেখি প্রায় ২০০ মতো চাকরির আবেদন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সামনে দেয়। আমি জিজ্ঞাসা করলাম এগুলো কিসের আবেদন। তিনি উত্তর দিলেন, চাকরির আবেদন। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম কবে এদের ইন্টারভিউ হয়েছে। তিনি বললেন ইন্টারভিউ হয়নি। ফ্যাসিস শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এস আলম তার দোসর অদক্ষ, অসৎ ঋণখেলাপীদের দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকেও অদক্ষ, অসৎ ও ঘুষখোর ব্যক্তিগণকে দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। চাকরি নিয়োগের ক্ষেত্রেও উল্লেখিত নিয়মনীতি অবলম্বন করা হয়। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ইসলামী ব্যাংকের অচল অবস্থা বিষয়ে আলোচনা হয়। ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন ইসলামী ব্যাংক জামায়াত ইসলামী প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই জামায়াতে ইসলামী নিয়ন্ত্রণে থাকলে ব্যাংক থাকবে নিরাপদ। যেভাবে ২০১৭ সালে এস আলম ব্যাংক দখলের আগে নিরাপদ ছিল। কিন্তু অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ইসলামী ব্যাংক বিএনপি নিকটে নিরাপদ। এটা তার হাস্যকর দাবি।

কেননা, যে বিএনপির সংসদ সদস্য ৬০% ঋণখেলাপী তাদের নিকটে থাকবে নিরাপদ এটা শিয়ালের কাছে মুরগী বাগী দেওয়ার মতো। বিএনপি সরকারের নিকটে ব্যাংক গেলে ব্যাংকের আমানত সহ সবকিছু ফোকা করে ফেলবে। বাংলাদেশে প্রায় ৭০টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত রয়েছে। আরও অনিবন্ধিত দল রয়েছে। আমার জিজ্ঞাসা কোন দল কি দেশ গঠনের মতো কাজ করছে কি ? এর জবাব আছে কি নাই ? তাদের চিন্তা ক্ষমতায় গেলে জনগণের কাজ করবে। সরকারে গেলে জনগণের কাজের চাইতে নিজদের আখের গোছাবে। একমাত্র দল জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই দেশে কল্যাণমূলক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সহ ব্যাংক, বীমা, স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, আবাসনের জন্য আবাসন প্রকল্প, সামাজিক কাজ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে ইবনে সিনা ট্রাস্ট, ইবনে সিনা হাসপাতাল ও ক্লিনিক, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ও ওষুধ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছে।

আমি আহ্বান জানাবো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সহ আরও যেসব দল বা পার্টি আছে তারা দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসবে। ইসলামী ব্যাংক একটি সুদমুক্ত ব্যাংক। সুদমুক্ত অর্থনীতি চালু করার জন্যই ইসলামী ব্যাংকের জন্ম। ইসলামী ব্যাংকসহ সকল ব্যাংক ধান্দাবাজ, লুটেরা, অসৎ, ঋণখেলাপী লোকদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। এস আলমের অপতৎপরতার কারণে ইসলামী ব্যাংকে সাময়িকভাবে আস্থার সংকট হয়েছে। এই সংকট অতি তাড়াতাড়ি দূর হবে ইনশাআল্লাহ্। হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ইসলামী ব্যাংক জউঝ প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় সকল শ্রেণির লক্ষ লক্ষ হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী বিনিয়োগ নিয়ে সাবলম্বী হচ্ছে। লোকেরা বলে ‘র’ ট্রেনিং প্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদে মিথ্যা বয়ান দিলেন। তা হলো ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনের আগে জউঝ প্রকল্প থেকে ২২,০০০ (বাইশ হাজার) কোটি টাকা জামায়াত ইসলামী নির্বাচনের জন্য গ্রহণ করেছে। তিনি একটি শিট থেকে মিথ্যা ভাষণ দেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব তিনি যেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনকে থামান। দেশের চালিকা শক্তি হচ্ছে অর্থ। আর অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে দেশী বিদেশী উদ্যোক্তাদের দ্বারা সুদমুক্ত অর্থনীতি চালু করার জন্য ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে যে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসনের জন্য একমাত্র উপায় হলো যারা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে ইসলামী ব্যাংক পরিচালনার জন্য তাদের হাতে ছেড়ে দিলে ভালো হবে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ্ এবং অর্থনীতির চাকাও সচল হবে, জাতির আত্মবিশ্বাসও ফিরে আসবে।

লেখক : সাবেক সেনা সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান দৈনিক সাতমাথা, নবাববাড়ী রোড, বগুড়া।