লাগামহীন মূল্যস্ফীতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে উঠেছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়লেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। ফলে রীতিমত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক শ্রেণির জনগোষ্ঠীসহ নিম্নমধ্যবিত্তের মানুষ। ডিম, সবজি, মাছ, গোস্তসহ কোন পণ্যের দামই সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নেই। ১৫০ টাকায় ঠেকেছে এক ডজন ডিমের দাম। কোন কোন সবজির কেজি ১শ’ টাকার ওপরে। মাছ-গোস্তের অগ্নিমূল্যের সাথে সাথে ব্রয়লার মুরগির দামও বেশ আকাশচুম্বী। যা জনজীবনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মূলত, পণ্যের লাগামহীন উচ্চমূল্যের কারণে ভোক্তারা পণ্যক্রয়ের তালিকা কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন। তারপরও তারা নেই স্বস্তিতে। রয়েছেন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে। আয়-ব্যয়ের সমন্বয় করতে একেবারে নাকাল দশা সাধারণ মানুষের। রাজধানীর বাজার সংশ্লিষ্টরা এমন তথ্যই জানিয়েছেন গণমাধ্যমকে। যা রীতিমত উদ্বেগজনক।
বাজারসূত্রে জানা যাচ্ছে, খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে এই একই ডিম ১৩০-১৪০ টাকা ছিল। আর এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ১২০-১৩০ টাকায়। এছাড়া প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সঙ্গে প্রতিকেজি সোনালি ৩২০-৩৩০, হাইব্রিড ২৯০-৩০০ এবং লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকায়। এছাড়া প্রতিকেজি গরুর গোস্ত ৮০০-৮৫০ এবং খাসির গোস্ত বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকায়।
আসলে বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকার বাজারের প্রতি একবারেই নজর দিচ্ছে না। বন্যা-বৃষ্টির অজুহাতে ডিমের দাম বাড়িয়ে অসহনীয় করা হয়েছে। বিক্রেতারা একজোট হয়ে প্রতিটা বাজারে একই দামে বিক্রি করছে। যৌক্তিক বা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে কিনা তারও নজরদারি নেই। ডিমের দাম বাড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় বিক্রেতারা দাবি করছেন, তারা ডিমের দাম বাড়াননি বরং আড়ত থেকেই তাদেরকে বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। বিক্রিও করতে হচ্ছে বাড়তি দামে। এ বিষয়ে তারা অসহায়। বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, বাজারে ডিমের দাম মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের বিভিন্ন এলাকার খামারিরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এরপর দেশে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিভিন্ন খামারে মুরগি মারা যাওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারদরে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সবজির দাম শুনলেই এখন অবাক হতে হচ্ছে। একেকটা সবজির কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার ওপরে। মাছ-গোস্তের দামও বেশ বেড়েছে। পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে গিয়ে বাজেটের সঙ্গে কোনোভাবেই মিলানো সম্ভব হচ্ছে না। আগে যে টাকায় ব্যাগ ভরে বাজার করা যেত, এখন সে টাকায় অল্প কিছু পণ্য কেনা যায়। আয় না বাড়লেও নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আমাদের দেশের বাজার ব্যবস্থাপনায় কোন শৃঙ্খলা নেই। বাজার চলে সম্পূর্ণ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। একশ্রেণির সাধু ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছামত পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেন অধিক মুনাফা লাভের আশায়। কিন্তু এ বিষয়ে বাণিজ্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং ভোক্তা অধিকার পরিষদসহ সংশ্লিষ্টদের কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই। ফলে কারণে-অকারণে বা তুচ্ছ অজুহাতে পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সৃষ্টি হয় জনদুর্ভোগের।
এমতাবস্থায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে উদাসীনতা ও দুর্বলতা দেখানোর কোন সুযোগ নেই। প্রয়োজনীয় বাজার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টিম নামিয়ে জনমনে স্বস্তি ফিরে আনতে হবে। অন্যথায় আগামী দিনে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।