আমরা জানি ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে বৃটেনের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কিন্তু সেই ঘনিষ্ঠ মিত্রকেই এবার কটাক্ষ করে কথা বলেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃটেনকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব বৃটেন’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার প্রচারিত ইসরাইলি পডকাস্ট ‘মেলাখ ব্লিটজার হেইম’-এ এমন তির্যক মন্তব্য করেছেন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে ইসরাইলকে নিয়ে বৃটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেরও বিরোধিতা করেন তিনি। বৃটেন কি আসলেই ‘ইসলামিক রিপাবলিক’ হয়ে গেছে? না, বিশ্বের কোনো গণমাধ্যমেই এমন খবর প্রচারিত হয়নি। তাহলে কিসের ভিত্তিতে নেতানিয়াহু এমন মন্তব্য করলেন? তথ্য বা সত্য, এসব তো তার কাছে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। নিজের চাওয়াটাই নেতানিয়াহুর কাছে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি চান, তার সব অপকর্মে বৃটেন আগের মতো সায় দিয়ে যাক। এর কোনো ব্যতিক্রম নেতানিয়াহুর কাম্য নয়, আর সমালোচনা তো মহঅপরাধ! সাম্প্রতিক সময়ে বৃটেন সুবিবেচনাপ্রসূত কিছু কথা বলেছে, বৃটিশ গণমাধ্যমেও ইসরাইলের মন্দকর্মের কিছু চিত্র উঠে এসেছে। এত বড় ‘অপরাধ’ নেতানিয়াহু মেনে নেবেন কেমন করে? অতএব শুরু হলো কটাক্ষ। তাই তিন বৃটেনকে চিহ্নিত করলেন ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব বৃটেন’ হিসেবে। নেতানিয়াহু চান, আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলো যেন তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলে। এর ব্যতিক্রম হলেই উন্মাদের মত কথা বলতে থাকেন তিনি। বিরক্ত হয়ে কিছুদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তো তাকে ‘উন্মাদ’ বলেই মন্তব্য করেছেন। নেতানিয়াহুর পাতা ফাঁদে পা দিয়ে এখন যে বিপদে পড়েছেন ট্রাম্প, তাতে তাকে আরো বেশি কিছু বললেও অবাক হবো না আমরা।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে ওই পডকাস্ট বিষয়ে কিছু কথা বলা হয়েছে। পডকাস্টে-১৯ ৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্য করেছেন নেতানিয়াহু। ওই যুদ্ধে ইসরাইল সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশকারী বৃটিশ লেখক র‌্যান্ডলফ চার্চিলের উদাহরণ তুলে ধরে নেতানিয়াহু বলেন, সে সময় বৃটিশ সংবাদমাধ্যমে ইসরাইল সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যেত। নেতানিয়াহু এরপর ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘আজকের বৃটেনকে দেখুন, যাকে আপনারা ইসলামিক রিপাবলিক অব বৃটেন বলতে পারেন’। পডকাস্টের একটি অংশে নেতানিয়াহু ২০২২ সালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের করা একটি মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ভ্যান্স তার মন্তব্যে বলেছিলেন, বৃটেন হয়তো বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রধারী ‘ইসলামপন্থী দেশ’ হতে পারে। এরপর ইরানকে ইঙ্গিত করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করছি যে, এখানে ইরানের মতো আরেকটি এমন দেশ থাকবে না।’

ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর এমন উগ্র ও বিকারগ্রস্ত বক্তব্যে অবাক হওয়ার তেমন কিছু নেই। একজন মানুষ চিন্তাভাবনা ও আচরণে অসুুস্থ হয়ে পড়লে, তার কাছ থেকে স্বাভাবিক ও শুদ্ধ কিছু কি আশা করা যায়? নেতানিয়াহু হয়তো এখন বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বেলফোর-এর কথাও ভুলে গেছেন। ১৯১৭ সালে বেলফোর ঘোষণায় ফিলিস্তিনে ‘ইহুদিদের জন্য একটি জাতীয় আবাস’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বৃটেনের সেই অন্যায় ভূমিকার কারণেই নেতানিয়াহু আজ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী। অকৃতজ্ঞ নেতানিয়াহু আজ ব্যঙ্গ করে বৃটেনকে বলছেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক’। অন্যায়ের পরিণতি হয়তো এমনই হয়।