স্টাফ রিপোর্টার

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জনগণের নাভিশ্বাস উঠে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। তিনি বলেন, একদিকে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জনগণ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। কিন্তু এসব ভোগান্তি নিরসনের পরিবর্তে সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে জনগণের সঙ্গে তামাশা করছে।

গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা বিদ্যুৎ সংকটের কারণ হিসেবে মোবাইল চার্জ দেওয়া কিংবা গ্রামে লম্বা পুল হওয়ার মতো নানা বক্তব্য দিচ্ছেন। মন্ত্রীদের এমন বক্তব্য জনগণের সঙ্গে তামাশা ছাড়া কিছু নয়।

তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সরকার যেভাবে বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যেতে চাইছে, একইভাবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ বিদ্যমান জনদুর্ভোগের দায়ও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের জঞ্জালের ওপর চাপিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে চাইছে। অথচ এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কিংবা স্বল্পমেয়াদি কোনো কার্যকর পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না।

তিনি অবিলম্বে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করে বিদ্যমান সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জনগণের দাবি আদায়ের লড়াই সংসদের ভেতরে এবং বাইরে চালাতে হবে। সরকার যদি গণভোটের গণরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে গ্রহণ করে এবং জনগণের ভোগান্তি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতা করবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি গণভোটের গণরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি গ্রহণ না করে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটতে থাকে, তাহলে জনগণের দাবি আদায়ের সমাধান রাজপথেই হবে।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি ও ড. আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এ ছাড়া মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক নুর নবী মানিক, আব্দুস সালাম, শেখ শরিফ উদ্দিন আহমদ, ড. মোবারক হোসাইন, আব্দুর রহমান, কামরুল আহসান হাসান, সৈয়দ সিরাজুল হক, শাহীন আহমেদ খান, মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন ও সহকারী অফিস সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।