রাবির তাপসী-রাবেয়া হলে বর্তমানে ৭০০ এর বেশি শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হলো-এ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য একটি মানসম্মত রিডিং রুম নেই।

বিদ্যমান দু’টি ছোট রিডিং রুমে একসাথে ১০ জন করে শিক্ষার্থীও স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করতে পারে না। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিরব, মনোযোগী ও স্থিতিশীল পড়ার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিকল্প হিসেবে অনেকেই টিভি রুম ব্যবহার করে থাকে, কিন্তু সেটিও স্থায়ী সমাধান নয়। কোনো অনুষ্ঠান, মিটিং বা অন্যান্য কার্যক্রম থাকলে টিভি রুম বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। একটি আবাসিক হলে এমন অনিশ্চয়তা থাকা মোটেই কাম্য নয়-বিশেষ করে যখন শিক্ষার্থীদের এক্সাম বা নিয়মিত একাডেমিক প্রস্তুতির প্রয়োজন থাকে।

একটি কার্যকর রিডিং রুম কেবল একটি কক্ষ নয়; এটি একটি পরিকল্পিত একাডেমিক স্পেস-যেখানে থাকবে নিরব পরিবেশ, পর্যাপ্ত আলো, আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা এবং দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখার উপযোগী পরিবেশ। এমন সুবিধা নিশ্চিত করা হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান যেমন উন্নত হবে, তেমনি তাদের গবেষণা ও সৃজনশীল চর্চার পথও সুগম হবে।

অতএব, বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি-তাপসী-রাবেয়া হলে জরুরি ভিত্তিতে আধুনিক রিডিং রুম স্থাপন, বিদ্যমান সুবিধার সম্প্রসারণ এবং পরীক্ষাকালীন সময়ে অতিরিক্ত স্টাডি স্পেস চালুর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহায়ক ও নিরবচ্ছিন্ন একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

- তামান্না আক্তার

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।