এক অ্যাপসে সব; যাত্রা শুরুর মাত্র ১০ দিনে ১২০ দেশে ব্যবহার হচ্ছে দেশিগ্রাম। ইতোমধ্যে ১২০ দেশের প্রায় ২০ হাজার ব্যবহারকারী নির্বিঘ্নে ব্যবহার করছেন দেশিগ্রাম। ব্যবহারকারীদের কাছে ব্লকচেইন ও এআই প্রযুক্তিনির্ভর সোশ্যাল অ্যান্ড কমিউনিকেশন প্ল্যাটফর্মের পাবলিক বেটা দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দেশিগ্রাম (DeshiGram) হচ্ছে দেশিচেইন ইকোসিস্টেম (DeshiChain Ecosystem) প্রতিষ্ঠানের তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে দেশিগ্রাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দেশিচেইন ইকোসিস্টেমের ফাউন্ডার ও সিইও রাহাত জিদনি ওসামা এই প্রতিবেদককে জানান, বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে DeshiGram। এটি একটি Blockchain ও AI প্রযুক্তিনির্ভর Social & Communication Platform। তিনি আরও জানান, Public Beta চালুর মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যবহারকারী প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ব্লকচেইন ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ডিজিটাল পেমেন্ট (Social Networking, Artificial Intelligence, Blockchain Infrastructure, Digital Payments) এবং অন্যান্য ডিজিটাল সেবাকে একটি সমন্বিত প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তাঁর প্রতিষ্ঠান দেশিচেইন ইকোসিস্টেম।

দেশিগ্রামের সিইও রাহাত জিদনি ওসামা জানান, DeshiGram-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ব্লকচেইন ও এআই পাওয়ারড ফাউন্ডেশন। প্রচলিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরে গিয়ে DeshiGram নিজস্ব প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে গুরুত্ব দিচ্ছে। Blockchain ও Artificial Intelligence-এর সমন্বয়ে নিরাপদ, স্মার্ট এবং ভবিষ্যৎমুখী ডিজিটাল অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্ল্যাটফর্মটি নির্মাণ করা হয়েছে।

ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে প্ল্যাটফর্মটিতে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, AI Moderation এবং বিভিন্ন Privacy-Centric প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এক্ষেত্রে আরও প্রযুক্তি ও সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পোস্ট, স্টোরি, রিলস, মন্তব্য, রিয়্যাকশন, ফলো সিস্টেম এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের মতো আধুনিক সামাজিক যোগাযোগের ফিচারগুলো DeshiGram-এ রয়েছে। Public Beta পর্যায় থেকেই ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে নিয়মিত আপডেট নিয়ে কাজ করছে ডেভেলপমেন্ট টিম।

তিনি বলেন, দেশিগ্রাম বাংলাদেশে তৈরি হলেও শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যবহারকারীরা প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হয়েছেন।

দেশিগ্রামের ফাউন্ডার ও সিইও রাহাত জিদনি আরও বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশ শুধু বিশ্বের প্রযুক্তি ব্যবহার করবে না, বরং এমন প্রযুক্তি তৈরি করবে যা একদিন বিশ্ব ব্যবহার করবে। DeshiGram সেই দীর্ঘমেয়াদি ভিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।"

তিনি বলেন, DeshiGram শুধুমাত্র একটি Social Platform হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকার জন্য তৈরি করা হয়নি। এটি বৃহত্তর একটি প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমের অংশ, যেখানে সামাজিক যোগাযোগ, এআই, ব্লকচেইন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবাকে ধীরে ধীরে একই ইকোসিস্টেমের মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে Public Beta পর্যায়ে থাকা DeshiGram-এর জন্য নিয়মিত নতুন ফিচার ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে ডেভেলপমেন্ট টিম। ভবিষ্যতে প্ল্যাটফর্মটিতে নিজস্ব Large Language Model (LLM), উন্নত AI Services, Creator Monetization System, Digital Payments Integration এবং DeshiChain Blockchain-এর সঙ্গে আরও গভীর সংযুক্তি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে DeshiGram-এর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য শুধুমাত্র আরেকটি Social Media Platform তৈরি করা নয়। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো ধীরে ধীরে এটিকে Blockchain Industry এবং ভবিষ্যতের Decentralized Civilization-এর জন্য একটি Trusted Digital Platform হিসেবে গড়ে তোলা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী ৮ থেকে ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি ভিশন ও রোডম্যাপ সামনে রেখে কাজ করছে তাঁর টিম।

তাঁর মতে, এই যাত্রার ফলাফল হয়তো আগামী কয়েক মাসে পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে না। বরং আগামী ৮ থেকে ১০ বছরে ধাপে ধাপে গড়ে উঠবে সেই বৃহৎ ভিশন। যার ভিত্তি তৈরি হচ্ছে আজকের DeshiGram থেকেই। বাংলাদেশ থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু একটি অ্যাপ তৈরি করা নয়—বরং ভবিষ্যতের বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল বিশ্বের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি, নির্ভরযোগ্য এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা।