আব্দুর রাজ্জাক রানা

মানবসভ্যতার ঊষাকাল থেকেই সংবাদ আদান-প্রদান, তথ্য সংগ্রহ এবং তা প্রচার মানুষের সামাজিক জীবনের একটি অনিবার্য অংশ। বর্তমান আধুনিক যুগে এসে সংবাদ প্রচারের মাধ্যম ও পরিধি ব্যাপক রূপ লাভ করেছে, যাকে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাদার অর্থে ‘সাংবাদিকতা’ বলে অভিহিত করি। সাংবাদিকতাকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। একটি সমাজের শান্তি, শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার এবং নৈতিকতার ভিত মজবুত করতে সাংবাদিকতার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

ইসলাম ধর্ম কোনো নির্দিষ্ট যুগ বা গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রÑব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিকÑসর্বত্রই ইসলামের সুমহান দিকনির্দেশনা রয়েছে। সাংবাদিকতার মতো একটি দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল পেশার ক্ষেত্রেও ইসলাম এবং আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট, সুদূরপ্রসারী ও নৈতিক নীতিমালা প্রদান করে গেছেন। পবিত্র কুরআন এবং হাদিসের আলোকে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি ছিলেন পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সংবাদ বিশ্লেষক ও সত্য প্রচারক।

ইসলামে তথ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। কোনো সংবাদ গ্রহণ বা প্রচার করার ক্ষেত্রে ইসলাম অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। কারণ, একটিমাত্র অসত্য বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ পুরো সমাজব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা সংবাদদাতার সত্যতা যাচাইয়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে ইরশাদ করেছেন:

“হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো বার্তা নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা ভালোভাবে যাচাই করে দেখবে (তদন্ত করবে), পাছে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলো এবং পরবর্তীতে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হও।” (সুরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ৬)

এই আয়াতটি আধুনিক সাংবাদিকতার সবচেয়ে মৌলিক নীতিÑ‘সংবাদের সত্যতা যাচাই বা ঋধপঃ-ঈযবপশরহম-এর ভিত্তি স্থাপন করে। কোনো তথ্য পাওয়ার সাথে সাথেই তা যাচাই না করে প্রচার করা বা অন্ধভাবে বিশ্বাস করা ইসলামে নিষিদ্ধ।

নবী করিম (সা.) নবুওয়ত লাভের বহু আগে থেকেই কুরাইশদের কাছে ‘আল-আমিন’ বা বিশ্বাসী এবং ‘আস-সাদিক’ বা সত্যবাদী হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি পরতে সত্য ও আমানতদারিতার এক অনুপম আদর্শ ফুটে উঠেছে। সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো সত্যবাদিতা এবং বিশ্বস্ততা। একজন প্রকৃত সাংবাদিক তখনই সফল হতে পারেন, যখন তিনি ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে চরম সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত হন।

মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে অথবা সাফফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে তিনি যখন প্রথম ইসলামের দাওয়াত প্রচার শুরু করেন, তখন তিনি মক্কাবাসীদের কাছে সত্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তবেই বাণী প্রচার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি যদি বলি এই উপত্যকার পেছন থেকে একদল শত্রুবাহিনী আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, তবে কি তোমরা আমার কথা বিশ্বাস করবে?” সমস্বরে সবাই বলে উঠেছিল, “হ্যাঁ, আমরা আপনার কথায় কখনো মিথ্যা শুনিনি।” এই বিশ্বাসযোগ্যতাই ছিল তাঁর সংবাদ ও প্রচারের মূল শক্তি।

হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ এবং পবিত্র কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সাংবাদিকতার কিছু সুনির্দিষ্ট মূলনীতি রয়েছে। নিচে সেগুলোর বিশদ আলোচনা করা হলো:

ক. সত্যবাদিতা ও বস্তুনিষ্ঠতা (Truthfulness and Objectivity)

সাংবাদিকতার প্রাণ হলো সত্য। মিথ্যা বা মনগড়া তথ্য প্রচার সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। কুরআন মজিদে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন: ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক ও সত্য কথা বলো।’ (সুরা আল-আহজাব, আয়াত: ৭০)।

হাদিস শরিফেও সত্যবাদিতার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে, সত্য মানুষকে মুক্তি দেয় এবং মিথ্যা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: ‘তোমরা সত্যকে আঁকড়ে ধরো। নিশ্চয়ই সত্য পুণ্য বা কল্যাণের পথ দেখায় এবং পুণ্য জান্নাতের পথ দেখায়। আর মানুষ সত্য বলতে বলতে আল্লাহর কাছে সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

খ. সংবাদ যাচাই-বাছাই করা (Investigation and Verification)

যাচাই না করে যেকোনো তথ্য প্রচার করা সাংবাদিকতার নীতিবিরুদ্ধ এবং কবিরা গুনাহ। নবী করিম (সা.) এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন: ‘মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে (যাচাই না করে) সেটাই বলে বেড়ায়।’ (সহিহ মুসলিম)

আজকের যুগে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের যুগে ‘শেয়ার করার আগে ভাবুন’ বা ‘যাচাই করুন’ নীতিটি এই হাদিসেরই আধুনিক রূপ।

গ. গীবত, অপবাদ ও মিথ্যা রটনা থেকে বিরত থাকা (Avoidance of Slander and

Defamation)

সাংবাদিকতার নামে অনেক সময় কারো ব্যক্তিগত চরিত্রহনন, কুৎসা রটনা বা মনগড়া কাহিনি প্রচার করা হয়, যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে: ‘হে মুমিনগণ! অধিকাংশ অনুমান থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয়ই কিছু অনুমান পাপ। আর একে অপরের গোপনীয় বিষয় সন্ধান কোরো না এবং একে অপরের পিছে নিন্দা বা গীবত কোরো না।’ (সুরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২)

অন্যত্র অপবাদ রটাকারীদের কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে: ‘নিশ্চয়ই যারা ঈমানদার নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অথচ তারা সতী ও বিশ্বস্ত, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে লানতপ্রাপ্ত এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।’ (সুরা আন-নুর, আয়াত: ২৩)

ঘ. তথ্য গোপণ না করা এবং সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া (Transparency and Accountability)

জনস্বার্থে সত্য তথ্য গোপন করা বা অর্থের বিনিময়ে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া সাংবাদিকতার চরম লঙ্ঘন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: ‘আর তোমরা জেনেশুনে সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত কোরো না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন কোরো না।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪২)

হযরত মুহাম্মদ (সা.) জালিম শাসকের সামনে বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলাকে শ্রেষ্ঠ জিহাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন: ‘সর্বোত্তম জিহাদ হলো জালিম শাসকের সামনে ন্যায়সংগত ও সত্য কথা বলা।’ (সুনান আত-তিরমিজি)

৫. ঐতিহাসিক চুক্তি ও সংবাদ প্রেরণে নববী কূটনীতি

হজরত মুহাম্মদ (সা.) শুধু একজন আধ্যাত্মিক প্রচারকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক ও কূটনীতিবিদ। হুদায়বিয়ার সন্ধি, মদিনা সনদ কিংবা বিভিন্ন গোত্রের সাথে সম্পাদিত চুক্তিগুলো সম্পাদনের ক্ষেত্রে তিনি তথ্যের সঠিক আদান-প্রদান এবং স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছিলেন।

তিনি যখন বিভিন্ন রাজা-বাদশাহ ও গোত্রপ্রধানদের কাছে ইসলাম প্রচারের জন্য দূত ও পত্র প্রেরক (সাংবাদিক বা বার্তার বাহক) পাঠাতেন, তখন তাদের অত্যন্ত বিচক্ষণ, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত হওয়ার নির্দেশ দিতেন। বার্তার বাহকরা যেন কোনো অবস্থাতেই ভুল তথ্য না দেন বা নিজের পক্ষ থেকে মনগড়া কিছু না যোগ করেন, সেদিকে তাঁর কড়া নজর ছিল।

বর্তমান যুগে সাংবাদিকতা ও নবীজির আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা

বর্তমান একবিংশ শতাব্দীতে সাংবাদিকতা এক বিশাল শিল্পে পরিণত হয়েছে। হলুদ সাংবাদিকতা, চাঞ্চল্যকর সংবাদ তৈরির প্রতিযোগিতা (Clickbait), মিথ্যা প্রোপাগান্ডা এবং অর্থের বিনিময়ে সংবাদ বিক্রির প্রবণতা আজ গণমাধ্যমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। হলুদ সাংবাদিকতা সমাজের শান্তি বিনষ্ট করে, দুই সম্প্রদায়ের মাঝে বা দেশের ভেতর হানাহানি সৃষ্টি করে। এই সংকটময় মুহূর্তে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি:

দায়িত্বশীলতা: সাংবাদিককে বুঝতে হবে যে তিনি যা লিখছেন বা প্রচার করছেন, তার জন্য কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছেÑমানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে (সুরা কাফ, আয়াত: ১৮)।

নিরপেক্ষতা ও ইনসাফ: সংবাদ পরিবেশনে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ ত্যাগ করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও ইনসাফপূর্ণ হওয়া উচিত।

সঠিক শিরোনাম ও শালীনতা: সংবাদ বা প্রতিবেদনের শিরোনাম চটকদার করতে গিয়ে যাতে শালীনতা ও সত্যতার সীমা লঙ্ঘন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা।

ধর্ম-বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী, বিশেষ দেশ ও ভূখন্ড নির্বিচারে সংবাদ পরিবেশন এবং সাংবাদিকতা করা ইসলামি দাওয়াতের একটি গুরত্বপূর্ণ অংশ। আর তা কিছুতেই কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর একার নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন- (হে মানবজাতি) তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধর, বিচ্ছিন্ন হয়ো না (সূরা আলে ইমরান : ১১২)। কাজেই সব জাতি-গোত্র, শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়েই সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। এতে পক্ষপাতিত্ব বা বিশেষ কোনো সম্প্রদায়কে প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ নেই। সাংবাদিকরা পক্ষপাতিত্বকারী বা নতজানু হয়ে কাজ করলে গণমাধ্যমের কার্যকারিতাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। মূলত সত্য প্রকাশে আপসহীনতা এবং কোনো শক্তির কাছে মাথা নত না করা ও ভয়হীন সংবাদ পরিবেশন করাই একজন আদর্শ সাংবাদিকের অন্যতম কর্তব্য। আর ইসলামও সাংবাদিকের সত্য প্রকাশের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। হজরত আবু যর গিফারি (রা.) বললেন, রাসূল (সা.) আমাকে বলেছেন-তুমি সত্য বলবে, যদিও তা তিক্ত হয়। (ইবনু হিব্বান : ২/৯৫)। ব্যক্তিগত আক্রোশে কাউকে হেয় করার মানসে কারও একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা ইসলামের দৃষ্টিতে খুবই গর্হিত কাজ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের কখনো যেন সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে।’ (সুরা মায়েদা : ৮)।

হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি নিজ ভাইয়ের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখে, আল্লাহতায়ালা কেয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন।’ (সহিহ বোখারি)। তবে ব্যক্তির দোষ-ত্রুটি যদি এমন পর্যায়ের হয় যে, তার মাধ্যমে অন্য ব্যক্তি, মানবসমাজ কিংবা রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে তার অত্যাচার, দুর্নীতি ও প্রতারণা থেকে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে তার আসল চেহারা তুলে ধরতে অসুবিধা নেই। এ বিষয়ে ইসলাম বিশেষ ছাড় দিয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ মন্দ কথার প্রচার-প্রসার পছন্দ করেন না, কিন্তু যার ওপর জুলুম করা হয়েছে (তার কথা ভিন্ন)। (সুরা নিসা : ১৪৮)। প্রখ্যাত তাফসিরবিদ আল্লামা মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ‘এ আয়াতের উদ্দেশ্য হলো, নিপীড়িত জনতার সপক্ষে গিয়ে জালিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা এবং বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ করা বৈধ।’

সাংবাদিকতা ইসলামি দাওয়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, আর তা কিছুতেই নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ নয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তুমি বলো, হে মানবসমাজ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সবার কাছে আল্লাহর রাসুল।’ (সুরা আরাফ : ১৫৮)। কাজেই সব ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোত্র-শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়েই সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো সম্প্রদায়কে প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ নেই ।

কোনো শক্তির কাছে মাথা নত না করে ভয়শূন্য চিত্তে সংবাদ পরিবেশন করাই ইসলামের দাবি। হজরত মুয়াজ (রা.) বললেন, রাসুল (সা.) আমাকে বলেছেন, হে মুয়াজ, তুমি সত্য বলতেই থাকো, যদিও তা তিক্ত হয়।’ মূলত সত্য প্রকাশে আপসহীনতা একজন আদর্শ সাংবাদিকের অন্যতম কর্তব্য। সাংবাদিকরা নতজানু হয়ে কাজ করলে গণমাধ্যমের কার্যকারিতাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। ইসলাম সাংবাদিকের সত্য বলার অধিকার আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।

পশ্চিমা সমাজে মিডিয়া পুঁজিবাদের প্রতি নতজানু এবং সমাজতান্ত্রিক সমাজে মিডিয়া রাষ্ট্রের প্রতি দুর্বল। হাল আমলে বিভিন্ন দেশে বিশেষ রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ হয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতা চোখে পড়ার মতো। ইসলামের দৃষ্টিতে এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা সীমালঙ্ঘন করেছে, তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না; অন্যথায় জাহান্নামের আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে।’ (সুরা হুদ : ১১৩) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের কখনো যেন সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত

না করে।’ (সুরা মায়েদা : ৮)। ইসলামের নির্দেশনা হলো- পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ অবশ্যই বর্জন করতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, সাংবাদিকতা একটি মহান ও পবিত্র পেশা। এটিকে যদি স্রেফ ব্যবসা বা প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে তা সমাজের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। পক্ষান্তরে, পবিত্র কুরআন ও হাদিসের সুমহান নির্দেশনা এবং আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শনী সততা, বিশ্বস্ততা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্ববোধের আলো যদি এই পেশাকে পরিচালনা করা হয়, তবে সাংবাদিকতা হয়ে উঠতে পারে সমাজ সংস্কার ও মানবতার কল্যাণের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।

লেখক :

সাংবাদিক। সাধারণ সম্পাদক, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনা।