প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে প্রায়ই সমন্বয় হয় না। অসীম চাওয়া পূরণ হয় না বটে। কিন্তু মৌলিক বিষয়গুলো পূরণ হলেই মানুষ খুশি। প্রবল পিপাসার মধ্যে এক গ্লাস পানি যেমন প্রশান্তির তৃপ্তি দেয়। তেমনি কিছু মৌলিক চাওয়া পূরণ হলে সমাজে প্রশান্তি নেমে আসে।

শেখ হাসিনার পিতা তার একক রাজত্ব প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। তার কর্তৃত্বের সামান্যতম প্রতিদ্বন্দ্বীও তিনি সহ্য করতেন না। শেখ হাসিনা উত্তরাধিকার সূত্রে এই বৈশিষ্ট্য লাভ করেন। সাথে যুক্ত হয় তার মেকি ধার্মিকতা, চারিত্রিক অসততা, অসীম লোভ, মানসিক বৈকল্য এবং মানুষ হত্যার পৈশাচিক আনন্দ। এসব তাকে রূপকথার পিশাশিনী এবং লেডি ফেরাউনে পরিণত করে। হাসিনার ১৭ বছরের দুঃশাসন এ জাতির জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে ইতিহাসে বিরাজমান থাকবে। তার মানসিক বৈকল্য কিছু নরপিচাশ তৈরি করে যারা এখনো তাকে সাপোর্ট দেয়, বন্দনা করে। আখেরাতে বিশ্বাসী কোন ব্যক্তির পক্ষে এই ধরনের শয়তান চরিত্রকে সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব নয়।

হাসিনার দুঃশাসনের অতি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:

দায়িত্ব গ্রহণের একমাসের মধ্যেই বিডিআর মেসাকার।

ভারতীয় গোয়েন্দাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই হত্যাকাণ্ড হলেও এর দায় চাপানো হয় নিরীহ বিডিআর জোয়ানদের উপর। দীর্ঘ ষোল বছর এই নির্যাতন চলে। এখনো তাদের অনেকে মুক্ত হয়নি।

বিরোধী দল বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের উপর অকথ্য নির্যাতন নেমে আসে। তাদেরকে ধরার জন্য চিরুনি অভিযান চালানো হয়।

মিথ্যা অভিযোগে জর্জরিত করে তাদের বাড়িঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে। এমনকি লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী বছরের পর বছর ধরে তাদের বাড়ি ঘরে থাকতে পারেনি। বিএনপিকে জামায়াত জোট থেকে আলাদা করতে না পেরে একই নির্যাতন তাদের উপরেও নেমে আসে।

জামায়াতের আমীর, সেক্রেটারি জেনারেল সহ ৬জন মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলিয়ে ঝুলানো হয়। জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে হত্যা করা হয় আরো অন্তত চার জনকে। প্রত্যেকের পরিবারকে জেল জুলুমসহ চরম হয়রানিতে রাখে।

পিতৃহত্যার প্রতিশোধ হিসেবে কর্নেল ফারুকদের শুধু মৃত্যুদণ্ডই দেয়নি, তাদের পরিবারের উপর খড়্গ নেমে আসে। মেজর হুদাকে জেলখানায় যেয়ে নিজ হাতে জবাই করে শেখ হাসিনা।

শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের হাজার হাজার নিরীহ কর্মীদের রাতের অন্ধকারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

হাসিনার সিংহাসনের পুরো সতের বছর ধরেই চলে খুন এবং গুম। ব্যবসায়ী আলম এবং বিএনপি’র ইলিয়াস আলী সহ অসংখ্য ব্যাক্তিকে গুম করে যাদের সন্ধান আজও কেউ জানে না। শহীদ মীর কাশেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আরমানকে আট বছর গুম করে রাখা হয়। আর অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে আমান আজমিকে একই কায়দায় গুম করে রাখা হয়। জুলাই বিপ্লবের পর তারা মুক্তি লাভ করেন।

আলেমদেরকে আটক অত্যাচার নির্যাতন এবং তাদের চরিত্র হননের ব্যবস্থা করা হয়।

ভোটাধিকার হরণ

শেখ হাসিনা তার রাজত্ব স্থায়ী করার জন্য জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেন। দিনের ভোট রাতে করেন।

আওয়ামী মন্ত্রীরা বিদেশে বেগম পাড়া গড়ে তোলে। শত শত ফ্ল্যাটের মালিক হয় তারা।

জুলাই বিপ্লব

‘কোটা নয় মেধা’ছাত্রদের এই আন্দোলনে ঘি ঢালেন শেখ হাসিনা। ছাত্রদের এই যৌক্তিক দাবিকে না মেনে ওদেরকে রাজাকারের নাতি পুতি বলে উপহাস করা হয়। সমস্ত জুলাই মাস জুড়ে আন্দোলন চলে। আন্দোলন দমনের জন্য অত্যন্ত নিষ্ঠুর কায়দায় প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। জানতে পারা যায় অন্তত আট ধরনের অস্ত্র জনগণের উপরে প্রয়োগ করা হয় যা সাধারণত কোন যুদ্ধেও ব্যবহার করা হয় না। দেড় হাজার তাজা প্রাণ ও ৩০ হাজার আহতের বিনিময়ে শেষ পর্যন্ত হাসিনা সিংহাসন ও আওয়ামী লীগের পতন হয়।

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে মানুষ শরিক হয়েছিল বৈষম্যের অবসানের জন্য। তারা সততা ইনসাফ এবং ন্যায় বিচার চায়। ন্যায় সংগত অধিকার কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষা। এইজন্য সংবিধান সংস্কার দরকার। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কিছু ছিল না। গুমের সংস্কৃতি আর যেন ফিরে না আসে সেজন্য গম কমিশন গঠন করা হয়েছিল। মানুষের চাওয়া পাওয়াকে গণভোটের চার দফার মধ্যে সীমিত করে হ্যাঁ না ভোট চাওয়া হয়েছিল। মানুষ হ্যা এর পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সুযোগ সন্ধানী বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আরোহন করে এখন টালবাহানা করছে।

পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের শাস্তির আওতায় আনা।

স্বৈরাচার আমলের সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার করা। জুলাই বিপ্লবে আহত এবং নিহতদের পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

প্রশাসনিক কাঠামোতে স্বৈরাচারের দোসরদের চিহ্নিত করে তাদের অপকর্ম রোধের ব্যবস্থা করা।

দলমত নির্বিশেষে যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে সরকারি সকল পদে লোক নিয়োগ।

জুলাই বিপ্লবে নারীদের অংশগ্রহণের যথাযথ মূল্যায়ন।

যুব শক্তি দেশের সম্পদ। এই সম্পদকে কাজে লাগানোর জন্য এসএসসির পর কারিগরি প্রশিক্ষণ ছাড়া কোন শ্রমিককে বিদেশ না পাঠানো এবং উচ্চতর শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দান করা।

প্রসূতি পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করা এবং শিশুর যত্ন নিশ্চিত করার ব্যাপারে কর্ম ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদান।

সীমান্ত হত্যা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা এবং নারী ও শিশু পাচার রোধ করা।

মাদকের সয়লাবে যুবসমাজ ভেসে যাচ্ছে। মাদক সেবা রোধ করতে হলে যুব সমাজের সামনে আশার আলো জ্বালাতে হবে। হাতে কাজ দিতে হবে। আর মাদকের গডফাদার দের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সূদ হচ্ছে সমস্ত ধ্বংসের মূল। সুদ বিহীন অর্থ ব্যবস্থা চালু করে জনগণকে সুদের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে হবে। এজন্য ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা দরকার।

বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা

এদেশের মানুষ বড় আবেগী। আবেগ চলে গেলে বাস্তবতায় ফিরে এসে আবার সেটাকে ছুড়ে ফেলে দেয়। ৫৪ বছর ধরে তারা অনেক বঞ্চনা দেখেছে। আর নয়। তারা অধিকার ফিরে পেতে চায়। মিথ্যার বেসাতি দিয়ে সত্যকে ঢাকতে চায় না। শুধু ফাঁকা বুলি নয়, বাস্তবেই তাদের জন্য কি হচ্ছে তারা দেখতে চায়।

দেশের পাহাড়াদার এই দেশের জনগণ যুব সমাজ। ইসলামই একমাত্র এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ। ইসলামবিরোধী শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠলে স্বাধীনতা বিপন্ন হতে বাধ্য। তাই দেশ গড়ার কাজে প্রত্যেককে হতে হবে সতর্ক প্রহরী।