আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন। পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী, গতকাল ১৭ মে বিকেল ৪টায় প্রকাশ করা হয় খসড়া ভোটার তালিকা। আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ওই তালিকার ওপর আপত্তি গ্রহণ করা হবে। আপত্তির শুনানি শেষে ১৯ মে প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশের আগেই জানা গেছে, কারা কাউন্সিলর হয়েছেন। তবে বিসিবির দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মাহবুব উল আনাম কোনো ক্যাটাগরি থেকেই কাউন্সিলর হননি। ফলে আসন্ন নির্বাচনে তার অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এবার তিনি সভাপতি পদে লড়তে পারেনÑএমন আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকছেন না তিনি। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ১৯৮৬ সালে ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হন মাহবুব উল আনাম। প্রথমে ঢাকা মেট্রোপলিটন ক্রিকেট কমিটির (সিসিডিএম) সঙ্গে কাজ শুরু করেন। পরে ২০০১ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিবি) নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিসিবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আগের মতো এবারও তিনটি ক্যাটাগরি থেকে মোট ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। জেলা ও বিভাগ ক্যাটাগরি থেকে ১০ জন, ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে ১২ জন এবং সাবেক ক্রিকেটার ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হবেন একজন। জানা গেছে, ১৯২ জন কাউন্সিলরের বিপরীতে এবার জমা পড়েছে ১৮৪টি কাউন্সিলরশিপ। কয়েকটি জেলা ও প্রতিষ্ঠান থেকে কাউন্সিলরশিপ জমা পড়েনি। জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর মধ্যে কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী কাউন্সিলরশিপ জমা দেয়নি। এছাড়া কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপিও কাউন্সিলরশিপ পাঠায়নি। এদিকে ঢাকার ক্লাব ক্যাটাগরিতেও দেখা যায়নি কয়েকজন আলোচিত সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম। মাহবুব উল আনামের পাশাপাশি ফারুক আহমেদ, ইফতেখার রহমান মিঠু, ইশতিয়াক সাদেক ও লোকমান হোসেনও কাউন্সিলর তালিকায় জায়গা পাননি।
আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি গ্রহণের পর ১৯ মে প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত তালিকা। এরপর ২০ ও ২১ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যে (অফেরতযোগ্য) মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা যাবে। মনোনয়ন জমা নেওয়া হবে ২১ ও ২২ মে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রকাশ করা হবে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা। ২৪ মে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করা হবে। একই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া পোস্টাল ও ই-ভোটের জন্য আবেদন করা যাবে ২৫ মে রাত ১২টা পর্যন্ত। এসব ভোট গ্রহণ চলবে ১ জুন থেকে ৬ জুন পর্যন্ত। ৭ জুন দুপুর ১টার পর আর কোনো পোস্টাল বা ই-ভোট গ্রহণ করা হবে না। এরপর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন।
এদিকে, ঢাকার ক্লাব থেকে কাউন্সিলরশিপ বোর্ডে নাম নেই বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীর। যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে গুঞ্জন ছিল। শেষ পর্যন্ত ফারুক আহমেদ, ইফতেখার রহমান মিঠু, মাহবুব আনাম, ইসতিয়াক সাদেক, লোকমান হোসেনদের নাম দেখা যায়নি কাউন্সিলরশিপ তালিকাতে।
বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কাউন্সিলর হওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি
ঢাকার বিভিন্ন ক্লাব থেকে : আবাহনী-ফাহিম সিনহা, মোহামেডান- মাসুদুজ্জামান, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ-লুৎফর রহমান বাদল, প্রাইম ব্যাংক-তানজিল চৌধুরী, বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স-তাসবির উল ইসলাম, ব্রাদার্স ইউনিয়ন-ইসরাক হোসেন, পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাব ক্রিকেট ক্লাব-আজিজ আল কায়সার, সিটি ক্লাব- মইনুল হক মইন। উত্তরা ক্রিকেট ক্লাব-ফায়াজুর রহমান মিতু, ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব-ইয়াসির ফয়সাল আশিক, ওল্ড ডিওএইচএস-তামিম ইকবাল। কাকরাইল বয়েজ ক্লাব-সালাউদ্দিন চৌধুরী, ট্রাই স্টেট ক্রিকেটার্স-আমজাদ হোসেন, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব-মির্জা ইয়াসির আব্বাস, এক্সিউম ক্রিকেটার্স ক্রিকেট ক্লাব-ইসরাফিল খসরু, ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র-রফিকুল ইসলাম বাবু, ঢাকা মেরিনার্স ইয়াংস ক্লাব-শানিয়ান তানিম, ফায়ার ফাইটার্স স্পোর্টিং ক্লাব-সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, প্রগতি সেবা সংঘ-সাব্বির আহমেদ।
সাবেক খেলোয়াড় ক্যাটাগরি ‘সি’ থেকে : নাঈম ইসলাম, সৈয়দ রাসেল, নাদিফ চৌধুরি, নাজমুল হোসেন, ডলার মাহমুদ, মাজহার উদ্দিন, শামসুর রহমান, নাজিম উদ্দিন, নাফিস ইকবাল খান, তালহা জুবায়ের।
সাবেক অধিনায়কদের মধ্যে : শফিকুল হক, গাজী আশরাফ হোসেন, খালেদ মাহমুদ সুজন, হাবিবুল বাশার, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
বিসিবি নির্বাচনে কাউন্সিলরশিপ জমা দেয়নি বেশ কিছু সংস্থা
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-শাহাদাত হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-দেবব্রত পাল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-সিরাজউদ্দিন আলমগীর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-জাহিদ হোসেন।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে : কবির খান, রুহুল আমিন, সরফরাজ আহমেদ, সালাউদ্দিন হায়দার, জাহিদ পারভেজ চৌধুরী।
জেলা-বিভাগ থেকে : ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা– সাইদ বিন জামান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা-শহিদুর রহমান, রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা-আমিনুল হক দেওয়ান, রংপুর বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা-শামসুজ্জামান সামু, খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা- শফিকুল ইসলাম, বরিশাল বিভাগীয় সংস্থা– মিজানুর রহমান, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা-কাইয়ুম চৌধুরী।