সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনে ব্যাট-বলের লড়াইয়ের পাশাপাশি বাড়তি উত্তাপ ছড়িয়েছে মাঠের কথার লড়াইও। আর সেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার ব্যাটার লিটন দাস ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান। তখন চলছিল ৭২তম ওভারের খেলা। হঠাৎ খেলা থামিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়লেন পাকিস্তানি ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও লিটন দাস। তাদের তর্কের প্রসঙ্গ জানা গেল খানিক পর স্টাম্প মাইকে। এই উত্তেজনা থাকল শেষ সেশনের প্রায় পুরোটা। রিজওয়ান প্রায় প্রতি ওভারেই কোনো না কোনো কারণে দেরি করছিলেন। একাধিকবার ক্র্যাম্প, পিঠের ব্যথা, পানি পানের অনির্ধারিত বিরতি চলছিলই। এসব নিয়ে তর্কাতর্কি লেগে যায় তার। লিটন রিজওয়ানকে বলেন, ‘তুমি তো প্রতি বলেই সময় নষ্ট করছ।’ রিজওয়ান উত্তরে কিছু একটা বলেন। এমন তর্কাতর্কি চলতে থাকায় পরে আম্পায়ারের মধ্যস্থতায় শান্ত হয় পরিস্থিতি। রিজওয়ান আবার স্ট্যান্স নিলে পেছন থেকে লিটন ভাঙা উর্দুতে তার বোঝার মতো করে বলতে থাকেন, ‘অভিনয় শুরু হয়ে গেছে ভাই।’ শান্তকে তখন বলতে শোনা যায়, ‘খুব ভালো অভিনয় হচ্ছে ভাই।’ শান্ত আবার বলেন, 'ওভার এক্টিংয়ের জন্য ৫০% কাটা হবে। '
রিজওয়ানের সময়ক্ষেপণ চলেছে গোটা সেশন জুড়ে। এমনকি অভিজ্ঞ মোস্তাফিজুর রহমানও, ‘নাটক শুরু হয়ে গেছে’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। এই ঘটনায় বাকবিতণ্ডার বিস্তারিত না জানলেও তা উপভোগ করার কথা জানান বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ টেইট, ‘আমি জানি না কী কথা বলা হচ্ছিল, কিন্তু আমি অস্ট্রেলিয়ান, আমি খুবই উপভোগ করেছি। আমার মনে হয় সেখানে কিছু আগড়ম-বাগড়ম কথা হচ্ছিল (হাসি)। আমার মনে হয় কিছুটা উত্তেজনা থাকা প্রয়োজন- ঠিক আছে, সব সময় নয়, আপনি সীমা অতিক্রম করতে চাইবেন না, আমরা সবাই সীমা অতিক্রম না করার ব্যাপারে কথা বলি এবং এই ধরনের বিষয়গুলো, কিন্তু আপনার মধ্যে কিছুটা আগ্রাসন থাকতেই হবে। মানে, এটি একটি টেস্ট ম্যাচ, আপনি জানেন, পাকিস্তান-বাংলাদেশ। আমার মনে হয় ভক্তদের জন্য, আমাদের সবার জন্য, আপনি খেলায় কিছুটা আবেগ দেখতে চাইবেন এবং কিছু খেলোয়াড়কে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং একে অপরকে আউট করার চেষ্টা করতে দেখবেন। সবাই তো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে। তাই, আমি এটা ভালোবাসি।’
৪৩৭ রানের লক্ষ্যে নামা পাকিস্তান চা-বিরতির আগে ১৬২ রানে হারায় পঞ্চম উইকেট। ওই জায়গা থেকে চতুর্থ দিনেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা ছিল তাদের। তবে সালমান আলি আঘাকে নিয়ে ১৩৪ রানের জুটি গড়েন রিজওয়ান। এই জুটিটি মনে হচ্ছিল বিস্তর ভোগাবে। শেষ সেশনে উইকেট তুলতে মরিয়া বাংলাদেশ দ্রুত আক্রমণ করতে চাইছিল।
অন্যদিকে খেলার গতি মন্থর করে সময় নিয়ে পড়ে থাকার দিকে মন দিচ্ছিলেন পাকিস্তানি ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত সালমানকে বিদায় করে হাসান আলিকেও ছাঁটেন তাইজুল ইসলাম। শেষ দিনে হাতে ৩ উইকেট নিয়ে ১২১ রান নিতে হবে পাকিস্তানকে। শেষ দিনে রোমাঞ্চের দোলাচল তাই কিছুটা থাকবে।