সিলেট টেস্টে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন শেষে ও চতুর্থ দিনের প্রথমার্ধ পর্যন্ত জয়ের খুব কাছাকাছি অবস্থানে স্বাগতিকরা। অন্যদিকে কঠিন সমীকরণে পড়ে এখন আবহাওয়ার দিকেও তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে পাকিস্তানকে।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭৮ রান করার পর পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ২৩২ রানে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে টাইগাররা। সেখানে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে বাংলাদেশ।

অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম খেলেন ১৩৭ রানের চমৎকার ইনিংস। তাকে ভালো সঙ্গ দেন লিটন দাস। তার ব্যাট থেকে আসে ৬৯ রান। এছাড়া জয়ের ব্যাট থেকে আসে ৫২ রান এবং শেষদিকে তাজুল ইসলাম ২২ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে তোলে ৩৯০ রান।

পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে কিছুটা সফল হন খুররম শাহজাদ। তিনি নেন ৪ উইকেট। এছাড়া শাজিদ খান শিকার করেন ৩ উইকেট।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। চতুর্থ দিনের প্রথমার্ধে এখন পর্যন্ত তাদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৫৬ রান। এখনও জয়ের জন্য প্রয়োজন অনেক রান, হাতে সীমিত উইকেট। উইকেটের আচরণ এবং বাংলাদেশের বোলারদের ধার দেখে ম্যাচে সফরকারীদের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

সিলেট টেস্টে জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে বাংলাদেশ যে বিশাল পাহাড় সমান টার্গেট দাঁড় করিয়েছে, সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে পাকিস্তানকে বিশ্বরেকর্ড গড়তে হবে। শেষ ইনিংসে ৪৩৭ রানের টার্গেট টেস্ট ক্রিকেটে আজ পর্যন্ত কেউ টপকাতে পারেনি। আর এই পাকিস্তান দল চলতি সিরিজে যে কোমর ভাঙ্গা ও নুয়ে পড়া ব্যাটিংয়ের নমুনা দেখিয়েছে তাতে সিলেটে তারা চমকপ্রদ কিছু করে ফেলবে এমন কিছুর সম্ভাবনা বহুত দুরস্ত!

এ অবস্থায় পাকিস্তানের বড় ভরসা হতে পারে সিলেটের আবহাওয়া। বৃষ্টি বা খেলার সময় নষ্ট হলে ড্রয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে ম্যাচ বাংলাদেশের দিকেই ঝুঁকে আছে স্পষ্টভাবে এবং সেটা হতে পারে আজ চতুর্থ দিনেই।