আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন। বর্তমানে নির্বাচনী মনোনয়নপত্র কেনা-বেচা এবং জমাদানের প্রক্রিয়া চলায় উৎসবমুখর ও ব্যস্ত সময় পার করছেন কাউন্সিলররা। এই নির্বাচনী আবহ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে। গতকাল বিসিবির পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন বোর্ড নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়ার কার্যক্রম চলমান থাকায় শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অবস্থিত বিসিবি কার্যালয় প্রাঙ্গণের সবকটি গেটে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ করা হয়েছে। অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল রাখতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা ও অনুরোধ জানিয়েছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বিসিবি জানায়, পেশাগত দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে গণমাধ্যমকর্মীরা যখন স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে প্রবেশ করবেন, তখন যেন তারা প্রবেশদ্বারে কর্তব্যরত আনসার সদস্য এবং নিরাপত্তা কর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা করেন। এছাড়া সাংবাদিকদের পরিচয় নিশ্চিতকরণের সুবিধার্থে আরেকটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় যাচাইকরণের সুবিধার্থে সব গণমাধ্যম প্রতিনিধিকে বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের মূল পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) সাথে রাখার পরামর্শ দেয়া যাচ্ছে। এছাড়া আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিধি বজায় রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে বিসিবি।
তবে শেষ পর্যন্তও হয়তো নিরুত্তাপ নির্বাচনই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে। তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে প্যানেল তৈরি এবং সেই প্যানেলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও ভেতরে ভেতরে ১২ জন ঠিক হয়ে গেছে। অর্থাৎ ক্যাটাগরি-২, মানে ঢাকার ক্লাব কোটায় ৭৬ ভোটারের ভোটে কোন ১২ জন পরিচালক হবেন, তা একরকম ঠিক হয়ে গেছে। ধরেই নেওয়া যায় যে, তাদের বিপক্ষে আর কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। তাই ওই ১২ জন হয়তো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই বিসিবি পরিচালক হতে যাচ্ছেন। সেই তালিকায় সবার ওপরেই ছিল তামিম ইকবালের নাম। জাতীয় দলের এ সাবেক অধিনায়ক ও দেশসেরা ওপেনার ওল্ডডিওএইচএস ক্লাবের কাউন্সিলর। তার সঙ্গে ফাহিম সিনহা (আবাহনীর কাউন্সিলর) ও রফিকুল ইসলাম বাবু (ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র) আছেন। সঙ্গে সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ (ফেয়ার ফাইটার্স), ইসরাফিল খসরু চৌধুরী (এক্সিয়ম ক্রিকেটার্স), ইয়াসির আব্বাস (আজাদ স্পোর্টিং) এবং শাহনিয়ান তানিমের (মেরিনার্স ক্লাব) নামও আগেই উচ্চারিত হয়েছে। এ সাতজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মোহামেডানের কাউন্সিলর মাসুদুজ্জামান, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের কাউন্সিলর অধ্যাপক ড. সরকার মাহবুব শামিম আহমেদ, ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল এবং শাইনপুকুরের আসিফ রাব্বানী ও সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু (তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমি)। যতদূর জানা গেছে, ওপরের এই ১২ জনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি পরিচালক হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। এছাড়া জেলা ও বিভাগ তথা ক্যাটাগরি-১-এও নির্বাচনের সম্ভাবনা খুব কম। ৬৪ জেলা আর ৭ বিভাগের ৭১ ভোটারের মধ্যে থেকে ১০ পরিচালক সেখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে বিসিবির সাবেক পরিচালক ফুয়াদ বিন রেদওয়ান, ঢাকা বিভাগ থেকে সাইদ বিন জামানের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত বলে জানা গেছে। তবে ক্যাটাগরি-৩-এ সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর আর দেবব্রত পালের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে বিসিবির সাবেক কর্তা সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীরের (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর) পাল্লা বেশ ভারী।
তবে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন নির্বাচন নিয়ে নিজের কথা। তামিম বলছিলেন, 'ভোটারদের গিয়ে বলতে হবে আমি কী করতে চাই বা চাই না। আমার লক্ষ্যটা তাদের সাথে শেয়ার করতে হবে।' 'আমার একটা সুবিধা থাকবে, এটা অস্বীকার করব না। সুবিধা কাজে আসবে না যখন এটা ভোটিংয়ে আসে। আমাকে ওইভাবে উনাদের (ভোটার) সাথে মিশতে হবে, উনাদের বুঝাতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আমি কী ভাবি এবং আমার পরিকল্পনা কী।' নির্বাচনী ইস্যুতে নিজে কিছু করছেন না তামিম। ইলেকশন কমিশনের কথা জানালেন তিনি, 'আমি নিজেকে পুরোপুরি এই জায়গা (নির্বাচনী কাজ) থেকে সরিয়ে নিয়েছি। জিনিসটা পুরোপুরি ইলেকশন কমিশনের ওপর। পার্থক্য হলো আমি কোন চিঠিও সাইন করছি না, কাউন্সিলরশিপ রিটার্নও করছি না।' তামিমের আশা সবাই ভোট দিবে, সবাই অংশগ্রহণ করবে, 'আশা করি একটা ওপেন ইলেকশন হবে। সবাই অংশগ্রহণ করবে, সবাই সবার মতো করে ভোট চাইবে।'