আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন বাবর আজম। করাচিতে কোয়ালিফায়ার ম্যাচে পেশোয়ার জালমির অধিনায়ক হিসেবে তিনি খেললেন দারুণ এক ইনিংস, যা শুধু দলকে জয়ের পথেই এগিয়ে নেয়নি, বরং ব্যক্তিগত অর্জনের খাতাতেও যোগ করেছে নতুন অধ্যায়। ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৫৯ বলে ১০৩ রানের ইনিংস খেলে বাবর দলকে ৭০ রানের বড় জয় এনে দেন এবং ম্যাচসেরার পুরস্কারও নিজের করে নেন। এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এসেছে বাবরের সঙ্গে বিরাট কোহলির তুলনা। একসময় নিয়মিতই যেটি আলোচনায় থাকত, মাঝখানে ফর্মের ওঠানামায় সেই তুলনা কিছুটা স্তিমিত হয়েছিল। তবে এবার তুলনাটি কোনো বিতর্ক নয়, বরং পরিসংখ্যানের জায়গা থেকে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক দেশের মাটিতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় এতদিন কোহলি ও অভিষেক শর্মা এগিয়ে ছিলেন, দুজনেরই ছিল ৮টি করে সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের মাটিতে নিজের অষ্টম সেঞ্চুরি করে সেই তালিকায় সমতায় পৌঁছেছেন বাবর। শুধু এটিই নয়, নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও নতুন ইতিহাস গড়েছেন পাকিস্তানের এই ব্যাটার। টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন এককভাবে তার দখলে। এতদিন এই তালিকায় তার সঙ্গে সমানভাবে ছিলেন ফাফ ডু-প্লেসি দুজনেরই ছিল ৮টি করে সেঞ্চুরি। তবে ইসলামাবাদের বিপক্ষে এই শতকটি ছিল অধিনায়ক হিসেবে বাবরের নবম, যা তাকে নিয়ে গেছে সবার শীর্ষে। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে বাবরের সেঞ্চুরির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩-তে। পিএসএলের ইতিহাসেও নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন বাবর। এই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন যৌথভাবে তার দখলে। উসমান খানের সঙ্গে সমান ৪টি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। যদিও ইনিংসের হিসাবে পার্থক্য রয়েছে উসমান যেখানে ৩৫ ইনিংসে এই কীর্তি গড়েছেন, বাবরের লেগেছে ১০৮ ইনিংস। চলতি মৌসুমে বাবরের ব্যাট যেন নতুন করে কথা বলছে। ইতিমধ্যেই ১০ ইনিংসে ৫৮৮ রান করে ফেলেছেন তিনি, যার মধ্যে রয়েছে দুটি সেঞ্চুরি। এক মৌসুমে পিএসএলে এত রান আগে দেখা গিয়েছিল মাত্র একবার, যখন ফখর জামান ২০২২ আসরে ১৩ ইনিংসে করেছিলেন ৫৮৮ রান। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন বাবর, কারণ ফাইনালে ওঠায় তার সামনে এখনও আরও ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নিজের ফর্ম ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন বাবর। তিনি জানান, ধীরে ধীরে নিজের সেরা ছন্দে ফিরছেন এবং চেষ্টা করছেন খেলাকে সহজ রাখতে। পিচের আচরণ, বোলারদের ধরন এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার দিকেই এখন বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি। তার এই আত্মবিশ্বাসই হয়তো আবারও তাকে বিশ্বের সেরা ব্যাটারদের আলোচনায় ফিরিয়ে আনছে।
ক্রিকেট
অধিনায়ক হিসেবে যে রেকর্ড শুধুই বাবরের
আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন বাবর আজম। করাচিতে কোয়ালিফায়ার ম্যাচে পেশোয়ার জালমির অধিনায়ক হিসেবে তিনি খেললেন দারুণ এক ইনিংস
Printed Edition