পিএসজিকে সবচেয়ে ভালো দল বলে অ্যাখ্যা দিয়েছিলেন কোচ লুইস এনরিকে। ম্যাচে তারই প্রমাণ দিলেন শিষ্যরা। প্রথমে গোল হজম করলেও স্মরণীয় এক লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে স্বাগতিকরাই। গোলৎসবের ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ৫-৪ ব্যবধানে জিতেছে পিএসজি। পিএসজি-বায়ার্ন মধ্যকার ৯ গোলের ম্যাচটিতে হয়েছে এক অনন্য রেকর্ড। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের এক লেগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এটি। আর ইউরোপিয়ান কাপ যুগ হিসাবে করলে এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে আইট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং রেঞ্জার্স মধ্যকার সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগেও হয়েছিল ৯ গোল। সেখানে রেঞ্জার্স জিতেছিল ৬-৩ ব্যবধানে। পিএসজির ঘরের মাঠ প্রাক দ্য প্রাসের আলো ঝলমলে রাতে শুরু থেকেই ম্যাচে ছিল আগুনঝরা গতি। গ্যালারিতে পিএসজি সমর্থকদের বিশাল টিফো যেন আগাম ইঙ্গিত দিয়েছিল লড়াইয়ের তীব্রতার। মাঠেও তার প্রতিফলন দেখা গেল প্রথম মিনিট থেকেই। ম্যাচের শুরুটা ছিল বায়ার্নের দখলে। আক্রমণাত্মক ফুটবলের ধারাবাহিকতায় ১৭ মিনিটে এগিয়ে যায় জার্মান জায়ান্টরা। পেনাল্টি থেকে গোল করেন হ্যারি কেইন, যিনি ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন। চলতি আসরে এটি ছিল তার ১৩তম গোল, যা তাকে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের কাতারে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। তবে ম্যাচের রঙ বদলাতে বেশি সময় নেয়নি পিএসজি। ২৪ মিনিটে অসাধারণ একক নৈপুণ্যে সমতা ফেরান খিচা কাভারাস্কেইয়া। বায়ার্নের ডিফেন্সকে ছিন্নভিন্ন করে তার বাঁকানো শট প্যারিসের দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেয়। এরপর ৩১ মিনিটে জোয়াও নেভেসের হেডে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধেই আবারও সমতা ফেরায় বায়ার্ন। ৪০ মিনিটে মাইকেল ওলিসে দারুণ দক্ষতায় গোল করে ম্যাচকে ২-২ করেন। তবে বিরতির আগে শেষ হাসি হাসে পিএসজি। ইনজুরি টাইমে পেনাল্টি থেকে গোল করেন ওসমান দেম্বেলে, ফলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় লুইস এনরিকের দল। দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজি যেন আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। ৫৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কাভারাস্কেলিয়া, আর তার ঠিক দুই মিনিট পরই ডেম্বেলের গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-২। এই সময়ে বায়ার্নকে কিছুটা দিশেহারা মনে হচ্ছিল, যেন ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে গেছে। কিন্তু ইউরোপিয়ান ফুটবলে বায়ার্নের লড়াকু মানসিকতা নতুন কিছু নয়। ৬৫ মিনিটে ডায়েট উপমেকানোর এর হেডে গোল করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় তারা। এরপর ৬৮ মিনিটে লুইস দিয়াজ ব্যবধান কমিয়ে ৫-৪ করেন। শেষ মুহূর্তগুলোতে ম্যাচের উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়, সমতা ফেরানোর খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল বায়ার্ন।
ফুটবল
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বায়ার্নকে হারাল পিএসজি
পিএসজিকে সবচেয়ে ভালো দল বলে অ্যাখ্যা দিয়েছিলেন কোচ লুইস এনরিকে। ম্যাচে তারই প্রমাণ দিলেন শিষ্যরা।
Printed Edition