চীনের হাইনান প্রদেশের সানিয়া শহরে শুরু হতে যাচ্ছে ৬ষ্ঠ এশিয়ান বিচ গেমস। এই মর্যাদাপূর্ণ আসরটি আগামী ২২ হতে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। গেমসে মোট ১৪ ডিসিপ্লিনে খেলা হলেও বাংলাদেশ দল মাত্র ৬ টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিচ্ছে। ছয় ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদের সংখ্যা ৩১, কর্মকর্তা ১০। এর বাইরে আরো ১৪ রয়েছেন কন্টিনজেন্টে। এশিয়ান বিচ গেমসের ইতিহাসে গত পাঁচ আসরের মধ্যে প্রথম তিনটিতেই তাম্র পদক জিতেছিল লাল সবুজের কাবাডি দল। কিন্তু শেষ দুই আসারে কাবাডি দলের অংশগ্রহণ ছিল না। এবার চীনের সানিয়াতে সেই পদক পুনরুদ্ধারের পালা। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে (বিওএ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান গেমসের শেফ দ্য মিশন ও বিওএর সহসভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ বিচ গেমসের প্রথম তিন আসরে কাবাডি থেকে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছিল। চতুর্থ ও পঞ্চম আসরে কাবাডি ছিল না। এই গেমসে আবার কাবাডি সংযুক্ত হওয়ায় আমাদের প্রত্যাশাও বেশি কাবাডিকে ঘিরে।’ গেমসকে সামনে রেখে ৮০ দিনের প্রস্তুতি নিয়েছে কাবাডির পুরুষ ও নারী দল। এশিয়ান বিচ গেমসে কাবাডির একটি ড্র হয়েছিল। সেই ড্র নিয়মানুসারে না হওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিবাদ করে। পরবর্তীতে আরেকটি ড্র করে নতুন ফিকশ্চার হয়েছে। যা অনেকটাই বাংলাদেশের অনুকূলে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন গেমসের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব)। কাবাডির পাশাপাশি ভলিবল ও হ্যান্ডবল গেমসে অংশগ্রহণ করছে। হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ ভালো ফলাফলের আশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা মালদ্বীপে বিচ কমনওয়েলথ হ্যান্ডবলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছিলাম। এশিয়ান বিচের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি, আশা করছি ইতিবাচক ফলাফলের।’ বিচ কুস্তিতে তিন মিনিটের খেলা। বাংলাদেশের দুই জন পুরুষ কুস্তিগীর অংশ নেবেন। ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও দলের কর্মকর্তা মুবিন আহমেদ মৃদুভাবে পদকের আশা দেখিয়েছেন। ওপেন ওয়েটার সুইমিংয়ে একজন পুরুষ সাতারু এই গেমসে অংশগ্রহণ করবেন। গেমসের উদ্বোধনী মার্চ পাস্টে বাংলাদেশ দলের পতাকা বহন করবেন হ্যান্ডবল খেলোয়াড় রবিউল ও অ্যাথলেটিক্সের সুমাইয়া দেওয়ান। সমাাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা থাকবে বাংলাদেশ ভলিবল দলের অধিনায়ক হরষিৎ বিশ্বাসের কাছে। গেমস শুধু পদক নয়, শৃঙ্খলা-ভাতৃত্ব বন্ধনেরও বিষয়। বিগত সময়ে অনেক গেমসে বাংলাদেশের ম্যানেজার-কোচরা বিতর্কের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি আসার পর এটিই প্রথম গেমস।

এই গেমসের শেফ দ্য মিশন শৃঙ্খলার ব্যাপারে বলেন, ‘কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রত্যেকে প্রত্যেকের দায়িত্ব সম্পর্কে জ্ঞাত। এরপরও আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করব।’ এই গেমসে প্রশিক্ষণের জন্য বিওএ দুই কোটি টাকার বেশি খরচ করেছে। অংশগ্রহণ ও সর্বসার্কুল্যে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়। বিওএ এই ব্যয় বহন করেছে আপাতত তবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পাওয়ার আশা করছে।