দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, দোহার বাংলাদেশ দূতাবাস কাতারের শ্রমমন্ত্রীর বাংলাদেশে সফর গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেছে, আমরা আশা করি, এই সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হবে এবং কাতার ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বকে সামনের দিনগুলোতে আরও সুদৃঢ় করবে। সফরকালে আল মাররি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ নেতা এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া, একটি যৌথ কমিটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শ্রম, জনশক্তি এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও কাতারে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি আলোচনার কথা রয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাতারের শ্রমমন্ত্রী মাররির বিশেষ সখ্যতা রয়েছে। গতকাল রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে আয়োজিত এক নৈশভোজে অংশ নেন তিনি। নৈশভোজের পাশাপাশি দুই নেতা এক দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাতে মিলিত হন। সেখানে বাংলাদেশ ও কাতারের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বর্তমান উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কাতারের নেতৃত্ব, সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা সফরকালে কাতারের শ্রমমন্ত্রীর মূল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে। আজ সোমবার (১৮ মে ২০২৬) দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দুই মন্ত্রীর এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ‘কাতারে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত রয়েছে এবং নিয়মিত কর্মী যাচ্ছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় শ্রমবাজারে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কাতারের মন্ত্রীর এই সফরে চলমান পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি আলোচনার একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে।’ এর আগে, চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির কাতার সফর করেছিলেন। সেই সফরকালে তিনি কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখির ছাড়াও শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররির সঙ্গে বৈঠক করেন। বর্তমান সফরটি সেই আলোচনারই একটি ধারাবাহিকতা।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের ধাক্কায় বর্তমানে জনশক্তি রপ্তানি খাত কিছুটা টালমাটাল। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৮ জন কর্মী বিদেশে গেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অন্তত ৬৭ হাজার কম। বিএমইটি’র পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৩৭ জন কর্মী বিদেশে চাকরির ছাড়পত্র পেয়েছিলেন। এর মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ কাতারে গত বছর গেছেন এক লাখ সাত হাজার ৬০৩ জন কর্মী। তবে, চলতি বছরে কাতার যাওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। গত বছরের ১ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত যেখানে ১৪ হাজার ৫৩২ জন কর্মী কাতারে গিয়েছিলেন, সেখানে চলতি বছরের একই সময়ে গেছেন মাত্র চার হাজার ৭২৪ জন।