আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন নিয়ে নানা বির্তক সৃষ্টি হয়েছে। বুথ ও কেন্দ্রের সামনে ভোটার ছাড়াও বহিরাগতদের অবস্থান, নির্বাচনের নিয়ম ভেঙে প্রার্থীদের প্রচারণা এবং ক্লোজড সার্কিট ক্যামরার ব্যবস্থা না করা-এ ধরনের অনিয়ম ও বিতর্কের মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিট পর ভোট গ্রহণ শুরু হয়। অবশেষে দিনব্যাপী ভোট গ্রহণ শেষে সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিট থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। ৫৭০জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলে জানা গেছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ৯টা) ভোট গণনা চলছিল।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। পরে কিছুটা বিলম্বে ভোট গ্রহণ শেষ হয় বিকেল ৪টা ৩২ মিনিটে। এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চল মিলিয়ে মোট ৬৭৩ ভোটার ছিলেন। নির্বাচন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৫৭০ জন। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চল থেকে ভোট দিয়েছে ৫১২ জন ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে ভোট দিয়েছেন ৫৮ জন। এরপর ভোট গ্রহণ শেষে সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিট থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। এ সময় ভোট গণনায় কারা উপস্থিত থাকবেন, এ নিয়ে আলোচনায় ভোট গণনা শুরু করতে দেরি হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, ভোট গ্রহণ শুরু হলেও কোনো কোনো প্যানেলের প্রার্থীরা নিয়ম ভেঙে বুথের সামনে জড়ো হয়ে প্রচারণা চালাতে থাকেন। এ নিয়ে নির্বাচন বোর্ড কর্তৃপক্ষ মাইকে প্রার্থীদের উদ্দেশে বারবার অনুরোধ করলেও অনেকেই নিয়মবহির্ভূত উপায়ে প্রচারণা করেন। এর আগে সকালে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় প্রার্থীরা আপত্তি জানান। এ নিয়ে শুরুতে প্রার্থী ও নির্বাচন বোর্ডের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। পরে সব প্যানেলের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সভাপতি প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে নির্ধারিত সময়ের ৪০ মিনিট পর ভোট গ্রহণ শুরু হয়। পরে বেলা দেড়টায় নির্বাচন বোর্ড থেকে মাইকে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কথা জানানো হয়। পরে নির্বাচন বোর্ড জানায়, সব মিলিয়ে ভোটকেন্দ্রে মোট ১০টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়।

সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩২ মিনিট পর্যন্ত একটানা প্রায় ৬ ঘণ্টা ভোট গ্রহণ হয়। সব মিলিয়ে মোট ১০টি বুথে প্রথম ৩ ঘণ্টায় ৩৫০টির বেশি ভোট পড়ে। রিহ্যাবে এবার এই প্রথম সভাপতি, ৬ সহসভাপতি ও ২২ পরিচালক পদের সব কটিতে সরাসরি নির্বাচন হবে। সব মিলিয়ে সংগঠনটির ২৯ পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৭৭ জন ব্যবসায়ী। প্রার্থীদের অধিকাংশই তিনটি প্যানেলের হয়ে লড়ছেন।

প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদের প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মো. আলী আফজাল সকালে সাংবাদিকদের বলেন, সিসি ক্যামেরা ভেতরে এবং বাইরে একটা ডিসপ্লে ব্যবস্থা করা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আমরা কিন্তু বারবার কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বারবার কথা বলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আমরা গত পরশুদিনÑসরিÑগত পরশুদিন বাধ্য হয়ে আমরা গিয়েছিলাম প্রেস ক্লাবে আমরা কনফারেন্স করেছি।

তিনি বলেন, তারা প্রথম বলেছে পোলিং এজেন্ট থাকবে না। আমরা অবাক হয়েছি, বিস্মিত হয়েছি যে বিশ্বের কোথায় পোলিং এজেন্ট ছাড়া ইলেকশন হবে? ওনারা বারবার বুঝাচ্ছেন যে, পোলিং এজেন্ট লাগে না কোনো নির্বাচনে। জাতীয় নির্বাচনে পোলিং এজেন্ট লাগে আর এখানে লাগবে না কেন? হোয়াই নট? যাই হোক ওনারা শেষ পর্যন্ত এটা মানতে বাধ্য হয়েছেন, পোলিং এজেন্ট ওনারা একসেপ্ট করেছেন। দ্বিতীয় নম্বর বলেছি যে টোটাল ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরা আওতায় থাকতে হবে। কোনো অকারেন্স হলে বা সমস্যার জন্য আমরা যাতে তথ্য পাই, ডেটা পাই। কিন্তু আমরা গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় যখন এখানে আসলাম, এসে দেখলাম সিসি ক্যামেরা নাই। সাথে সাথে ইলেকশন কমিশনকে অবহিত করেছি যে আপনি সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করেন। উনি বলছে লাগাচ্ছি, লাগাচ্ছি, লাগাচ্ছি... টিল নাও উনি বলছে লাগাচ্ছি। এখন পর্যন্ত সিসি ক্যামেরা লাগান নাই। আমরা চাই না কোনো অকারেন্স হোকÑযদি কিছু হয় তাহলে এটার তথ্য উপাত্ত পাবেন কোথায়? ইভেন পুলিশ প্রশাসন সবাই যদি চায় তাহলে তো নরমালি সিসি ক্যামেরা থেকে রিওয়াইন্ড করে এটা বের করে যে আসলে এখানে কী ঘটনা ঘটছে। কিন্তু সেটা ইলেকশন কমিশন করে নাই। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক, খুবই হতাশাজনক।

জাগরণ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মোকাররম হোসেন নির্বাচনের পরিস্থিতি সর্ম্পকে বলেন, ইলেকশন ক্যাওটিক, ক্যাওটিক (বিশৃংখলা)। আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে আমার এখানে ক্যামেরা নেই, ক্যামেরা না থাকার কারণ যেটা একদম এটা কমিটমেন্ট ছিল। এখানে ভেতরে কোনো ক্যামেরা নেই বলরুমে। সিসি ক্যামেরা না থাকার কারণে আমরা খুব ভয় পাচ্ছি যে কোনো ইন্সিডেন্ট বা কিছু হলে আমরা সেটা রেকর্ড করতে পারব না। তো আমরা সেই কারণে দেখছি যে অনেকে অ্যালাউ করা হয়েছে ভেতরে। অ্যালাউ করলে যেটা হচ্ছে ক্যাওস হচ্ছে। আমি আশা করব যে এই পরিস্থিতিটা ইলেকশন কমিশন নিজে চেষ্টা করছেন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসে সুন্দরমতো ইলেকশন জানি হয়। এখন পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে ইলেকশন ভোটাররা যেতে পারছে, ভোট দিতে পারছে, কিন্তু সিচুয়েশনটা এখানে খুব ক্যাওটিক।

ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা না থাকাসহ অন্যান্য অভিযোগ প্রসঙ্গে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান জহিরুল হক ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তো ইনডোর ভিনাইল ক্যামেরা লাগিয়েছি। এখন সিসি ক্যামেরা আসতেছে, শীঘ্রই সিসি ক্যামেরাও লাগানো হবে।

ভোটের পরিবেশটা এখন পর্যন্ত কেমন দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকে আমাকে সাহায্য করতেছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সুন্দরভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারিনি। আমাকে কিছু কিছু লোক অসহযোগিতা করছে।

দেরিতে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়া নিয়ে বলেন, এটার কারণ হচ্ছে সিসি ক্যামেরা নিয়ে একটা তর্ক-বিতর্ক চলছিল। উনারা বলছেন সিসি ক্যামেরা না আসা পর্যন্ত ভোট শুরু করা যাবে না। আমরা ইনডোর ক্যামেরা লাগিয়েছি তারপরও উনারা সিসি ক্যামেরার দাবি করছেন।