স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ও শ্রীপুর সংবাদদাতা : গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদরাসাছাত্রী অপহরণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ভিকটিম আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অপহরণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। এ ঘটনায় এজাহারনামীয়সহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানার বীরখারুয়া গ্রামের বাসিন্দা, বর্তমানে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খ- এলাকায় বসবাসরত মসজিদের ইমাম হাদিউল ইসলামের মেয়ে, মাওনা তাহফিজুল কোরআন মহিলা মাদরাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্রী (১৬) গত ১৪ এপ্রিল সকালে মাদরাসায় যাওয়ার পথে শ্রীপুরের মাওনা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া পশ্চিম খ- এলাকার সুরুজ মিয়ার ছেলে মোঃ আবিদ (২১) ও তার সহযোগীরা ছাত্রীটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরদিন চাপের মুখে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলেও একই দিন সালিশ চলাকালে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে পুনরায় তাকে অপহরণ করা হয়। এসময় পরিবারের সদস্যদের মারধর ও বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

পরে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দিনের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) ও শ্রীপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে শনিবার ভোরে শ্রীপুরের নয়নপুর এমসি বাজার এলাকা থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর শনিবার দুপুরে তাকে গাজীপুরের শ্রীপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসমা জাহান আদালতে হাজির করা হয়। এসময় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তার জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়।

জবানবন্দীতে ভিকটিম জানান, আবিদ ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক ঘরের তালা ভেঙে তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে বিভিন্নস্থানে স্থান পরিবর্তন করে আটক রাখে। একপর্যায়ে তাকে জোর করে তথাকথিত “কোর্ট ম্যারেজ” করানো হয়। তার এই বক্তব্যে পিতার দায়ের করা অভিযোগের সত্যতা উঠে আসে।

পরবর্তীতে আদালত ভিকটিমকে তার পিতার জিম্মায় প্রদান করেন।

এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামী আবিদসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জনকে আসামী করা হয়।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় ঘটনাটিকে ন্যক্কারজনক ও মানবতাবিরোধী উল্লেখ করে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। ভিকটিমকে দ্রুত উদ্ধারের মাধ্যমে আমরা প্রাথমিকভাবে সফল হয়েছি। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের অপরাধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। কোনো অপপ্রচার বা গুজব বরদাশত করা হবে না।’ পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।