ক্স ২২৩ কোটি মার্কিন ডলারে চীনের তৈরি ২০টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনবে

ক্স পাকিস্তানের ‘জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক-৩’ যুদ্ধবিমান ক্রয় নিয়ে আলোচনা চলছে

ভৌগোলিক অখণ্ডতা, আকাশসীমা ও বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা সুসংহত করাই লক্ষ্য ঢাকার

মুহাম্মদ নূরে আলম

দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভূ-রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন ও নয়া সমীকরণের উদ্ভব ঘটেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রতিরক্ষা কৌশলে এসেছে দৃশ্যমান নতুন মাত্রা। আঞ্চলিক কোনো একক শক্তির ওপর অতি-নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে ঢাকা এখন বেইজিং ও ইসলামাবাদের সাথে সামরিক সম্পর্ক পুনর্গঠন ও সামরিক আধুনিকায়নে বিশেষ জোর দিচ্ছে। ইতোমধ্যেই চীনের তৈরি ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান, আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার ও ড্রোন ক্রয়ের প্রাথমিক প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে দীর্ঘদিন পর পাকিস্তানের সাথে বরফ গলে সামরিক ও গোয়েন্দা যোগাযোগের নতুন পথ উন্মুক্ত হয়েছে। সামরিক কৌশলবিদদের মতে, বেইজিং ও ইসলামাবাদের সাথে ঢাকার এই সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আর এ নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে চলছে নানান পর্যালোচনা।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান কৌশলগত অবস্থানকে সম্পূর্ণ ‘ভারত-বিরোধী’ বলা যুক্তিযুক্ত নয়, বরং এটি একটি আত্মমর্যাদাশীল স্বাধীন রাষ্ট্রের ভারসাম্য রক্ষা। প্রবাসী আয় নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্য, পোশাক খাতের বাণিজ্য ধরে রাখতে ইউরোপ-আমেরিকা এবং সাশ্রয়ী প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর জন্য চীন-পাকিস্তানের ওপর ঢাকার এই বহু-মাত্রিক নির্ভরতা বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় উন্নীত করেছে।”

এদিকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পেশাগত উচ্চতর প্রশিক্ষণ, সামরিক শিক্ষাক্রম বিনিময় এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত। আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে চীনের ভূমিকা প্রশংসনীয়। আমরা বিশ্বাস করি, বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটের আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেইজিংয়ের সাথে আমাদের এই প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বাংলাদেশ চীনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বস্ত কৌশলগত অংশীদার। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়ন এবং সামরিক বাহিনীর সার্বিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চীনের অব্যাহত সমর্থন ও সার্বিক সহযোগিতা সবসময় বজায় থাকবে।

বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে জে-১০সিই ও জেএফ-১৭ থান্ডার: সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বহরকে আধুনিক যুগের উপযোগী করতে ৪.৫ প্রজন্মের বহুমুখী চেংদু জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগিয়ে চলছে। এটি মূলত শব্দের চেয়ে দ্বিগুণ গতিসম্পন্ন (মাখ ১.৮ থেকে ২) এক ইঞ্জিনের একটি যুদ্ধবিমান, যা উন্নত এইসা রাডার এবং দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে আঘাত হানার পিল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। প্রস্তাবিত প্রায় ২২০ থেকে ২২৩ কোটি (২.২-২.২৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের এই প্যাকেজে ২০টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের সাথে অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি পরিবহন হেলিকপ্টার, সশস্ত্র ড্রোন, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংক্ষিপ্ত সামরিক সংঘাতের সময়ে এই বিমানের সফল ব্যবহারে বৈশ্বিক বাজারে এর বাণিজ্যিক গুরুত্ব ও চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর পাশাপাশি চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধানদের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠকে যৌথভাবে উৎপাদিত ‘জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক-৩’ যুদ্ধবিমান কেনা, পাইপলাইন প্রশিক্ষণ এবং মহাকাশ-প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ যদি আকাশে আধিপত্য বিস্তারকারী ভারী জে-১০সিই এবং কম পরিচালন ব্যয়ের হালকা জেএফ-১৭ একসাথে বহরে যুক্ত করে, তবে বিমানবাহিনী একটি আদর্শ ‘হাই-লো’ প্রতিরক্ষা কাঠামো লাভ করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানাযায়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলভিত্তি হলো আমাদের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’। বাংলাদেশ যেকোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের সাথে তার নিজের জাতীয় স্বার্থ, ভৌগোলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা চাহিদা অনুযায়ী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার অধিকার রাখে। চীন ও পাকিস্তানের সাথে সাম্প্রতিক যোগাযোগ আমাদের নিয়মিত প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন এবং ভারসাম্যমূলক আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চর্চারই অংশ।”

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমান সরকার একটি জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত নির্বাচিত ও শক্তিশালী সরকার। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এখন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা কোনো নির্দিষ্ট জোটে সামরিকভাবে অন্ধভাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছি না, বরং আমাদের ভৌগোলিক অখ-তা, আকাশসীমা ও বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা সুসংহত করতেই নতুন প্রযুক্তি ও অংশীদারদের সাথে সংযোগ বাড়াচ্ছি। প্রতিটি দেশের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থই আমাদের একমাত্র অনুঘটক।

সাবেক সিনিয়র কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ সাকিব আলী বলেন, দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এক ধরনের একপেশে প্রভাব তৈরি হয়েছিল, যা গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভেঙে পড়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর কৌশলগত কূটনীতি ফিরিয়ে আনার যে প্রয়াস দেখিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। ভারতের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা পালিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে দুই দেশের সুসম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, সেই ফাঁকে বাংলাদেশ তার প্রতিরক্ষা উৎসে বৈচিত্র্য আনছে। পাকিস্তান ও চীনের সাথে যৌথ সামরিক তৎপরতা দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে একটি অবহেলা না-করার মতো শক্তিতে পরিণত করছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদরা চীনের ওপর একক সামরিক নির্ভরতার কিছু কারিগরি ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করছেন। আর পাশাপাশি পাকিস্তানের জেএফ-১৭ বিমান ক্রয়েরর সাথে সাথে কারিগরি ঝুঁকি দূর করতে উন্নত প্রশিক্ষণ ও যন্ত্রণাংশ আগে থেকেই মজুদ রাখার পরামর্শ দেন।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির বলেন, চীনের জে-১০সিই কিংবা পাকিস্তানের সাথে সামরিক সমঝোতা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শিলিগুড়ি করিডোর (চিকেনস নেক) এবং বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত সমীকরণে বিশাল বার্তা দিচ্ছে। বাংলাদেশ এত দিন মূলত পুরোনো যুগের সামরিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এই আধুনিক ক্রয়ের ফলে দুই দেশের সামরিক শক্তিমত্তার ব্যবধান অনেকটাই কমে আসবে। তবে মনে রাখতে হবেÑমিয়ানমারের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি জেএফ-১৭ বিমানের কারিগরি ত্রুটি ও খুচরা যন্ত্রাংশের সংকট তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশ যাতে চীনা সামরিক সরঞ্জামের অতি-নির্ভরতায় না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রেখে তুরস্ক ও জাপানের মতো প্রযুক্তিসমৃদ্ধ দেশের সাথেও কেনাকাটার ভারসাম্য বজায় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তিনি আরও বলেন, ভারতের ২৯টি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন থাকলেও বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তে জে-১০সিই-র অবস্থান ভারতের মাত্র ২০ কিলোমিটার চওড়া সংবেদনশীল ‘শিলিগুড়ি করিডোর’-এর ওপর কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই পদক্ষেপগুলো স্রেফ সমরাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নয়া মেরুকরণের সূচনা। শেখ হাসিনা সরকারকে গণহত্যার অপরাধ সত্ত্বেও আশ্রয় দিয়ে ভারত যে কৌশলগত ভুল করেছে, তার খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের সীমান্ত নীতিতে। বাংলাদেশের বিজিবি এখন সীমান্তে বিএসএফের যেকোনো আগ্রাসনের মুখে কাস্তে হাতে দাঁড়ানো সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে সমানে সমানে প্রতিরোধ গড়ছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রস্তাবিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’-র প্রতি ঢাকার ইতিবাচক মনোভাব এবং চীন-পাকিস্তানের সাথে এই যৌথ সামরিক মেলবন্ধন ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যবাদী মনস্তাত্ত্বিক বলয়কে চূর্ণ করে দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, চীনের কাছ থেকে আধুনিক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার কেনা এবং পাকিস্তানের সাথে সামরিক সম্পর্কের বরফ গলে যাওয়া বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন ও বলিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চীনের সমরাস্ত্র প্রযুক্তি সাশ্রয়ী ও কার্যকর হলেও কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ বজায় রাখার দূরদর্শিতা বাংলাদেশকে দেখাতে হবে। একইভাবে তুরস্কের সাথে ‘২+২’ প্রতিরক্ষা মেকানিজম এবং জাপানের সাথে প্রযুক্তি চুক্তির মাধ্যমে বহুমাত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে আগামী দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রধান চালিকাশক্তি। এদিকে বাংলাদেশের এই বড় ধরনের সামরিক সংস্কার নয়া দিল্লীর প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সীমানা সংলগ্ন এলাকায় একক প্রভাব বজায় রেখে আসছিল। তবে সীমান্ত হত্যাকা-ে বিজিবির কঠোর প্রতিরোধ, ফেলানী ও ওসমান হাদী হত্যাকা-ের বিচারের দাবি এবং পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্টদের আশ্রয় প্রদান ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাধারণ বাংলাদেশিদের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব চরম আকার ধারণ করেছে।