দোকান-শপিংমল খোলা রাখা যাবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত
জ্বালানি সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহের অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও প্রতিফলিত হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল কিনতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করছেন মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা। এই দীর্ঘ লাইনের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে।
এদিকে, ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দোকানপাট ও শপিংমল খোলার সময় সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে ৭টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার রাসেল ফিলিং স্টেশনের সামনে শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, দুই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, আমার সামনে আরও ৩০-৪০টি মোটরসাইকেল আছে। মৎস্য ভবন এলাকায় এক প্রাইভেটকার চালক হাবিবুর রহমান জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বারডেম হাসপাতাল ও শিল্পকলা একাডেমির চারপাশ ঘুরে রমনা পাম্পে তেল সংগ্রহের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি, তবে সামনে আরও ৫০-এর অধিক গাড়ি আছে। লাইনের কারণে চারপাশের এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
জামালপুরের জুঁই এন্টারপ্রাইজ পাম্পে দেখা গেছে, চালকরা রাত কাটিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত লাইনে দাঁড়ানো চালকরা ক্লান্ত হলেও তেল পাওয়ার আশায় ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছেন। চালকরা জানান, সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহে ব্যস্ত থাকলে চাকরি বা অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ করতে পারা কঠিন। কেউ আবার মোটরসাইকেল লাইনে রেখে গেস্ট হাউসে রাত কাটাচ্ছেন। দেশজুড়ে অবৈধ তেল মজুত ও বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। ৬৪ জেলা থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে শনিবার মোট ৩৩৩টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে ১০৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, চার লাখ ৩৪ হাজার ৬৫০ টাকা জরিমানা আর দুজনকে ১৪ দিন করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জে অধিক মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে পুকুরে লুকিয়ে রাখা এক ব্যারেল ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জে পাম্প মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কৃষকরা ডিজেলের কৃত্রিম সংকট ও লিটারপ্রতি ২৫-৩০ টাকা বেশি দামের কারণে সেচ কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন।
দোকান-শপিংমল খোলা রাখা যাবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত: দেশের দোকান মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে এক ঘণ্টা বাড়িয়ে ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। গত বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সন্ধ্যা ৬টা থেকে দেশের সব দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিসভা। গত শনিবারও সারাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বৈঠকেও সিদ্ধান্ত অটল থাকে সরকার। তবে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ চেয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির নেতারা। তারা বলেছেন, প্রয়োজনে সকাল ৯টার পরিবর্তে বেলা ১১টায় দোকানপাট খোলা যেতে পারে। তবে সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ চান তারা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে। এতে তারা দোকান খোলা রাখার সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।