• দেশের জন্য জীবন দিতে নিবন্ধন করেছেন ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানী
  • বিদ্যুৎ কেন্দ্র রক্ষায় ইরানীদের মানবঢাল হওয়ার আহ্বান
  • খারগ দ্বীপে হামলা

যুক্তরাষ্ট্র রেডলাইট পার হলে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে। ইরান যদি হরমুজ প্রণালী খুলতে সম্মত না হয় ট্রাম্প ইরানী বিুদ্যৎ কেন্দ্র এবং সেতুগুলোতে আঘাত হানবে এমন হুমকির জবাব দিতে গিয়ে আইআরজিসি বলেছে, ইরানও পাল্টা আঘাত হানতে দ্বিধা করবে না। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা আমেরিকা এবং তার মিত্রদের অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানব। এতে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা বহু বছর ধরে এই অঞ্চলের তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে বঞ্চিত হবে। এদিকে দেশের জন্য জীবন দিতে নিবন্ধন করেছেন ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানী। এছাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র রক্ষায় ইরানীদের মানবঢাল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারের পক্ষ হতে। কাতার বলেছে, এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এছাড়া ইরানের প্রধান তেল কেন্দ্র খারগ দ্বীপে ভয়াবহ হামলার খবর পাওয়া গেছে। আল জাজিরা, এপি, দি টাইমস অব ইসরাইল, বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স, প্রেস টিভি।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়াবে : ইরান

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র রেড লাইন অতিক্রম করলে ইরানের জবাব আঞ্চলিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবব্ধ থাকবে না।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলটিমেটামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলতে সম্মত না হয় তবে তিনি ইরানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সেতুগুলোতে আঘাত হানবেন। ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে আইআরজিসি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বেসামরিক স্থাপনায় আক্রমণ করে তবে ইরানও পাল্টা আঘাত হানতে দ্বিধা করবে না।বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা আমেরিকা এবং তার মিত্রদের অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানব। এতে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা বহু বছর ধরে এই অঞ্চলের তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে বঞ্চিত হবে।’আইআরজিসি বলেছে, ‘তারা আক্রমণ করলে আমাদের যোদ্ধাদের রেঞ্জের মধ্যে তাদের কত সম্পদ ঝুঁকিতে পড়বে, সেই হিসাব করার ক্ষমতা আমেরিকার নেতাদের নেই।’ বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র রেড লাইন অতিক্রম করলে ইরানের জবাব আঞ্চলিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবব্ধ থাকবে না।

ইরানের খারগ দ্বীপে হামলা

পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল কেন্দ্র খারগ দ্বীপে ভয়াবহ এক হামলার খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপে আঘাত হানা হয়েছে, যা নিশ্চিত হলে চলমান সংঘাতের ইতিহাসে একটি বড় ধরনের মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।এর আগেও বিভিন্ন সময়ে খারগ দ্বীপে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তবে সেগুলো ছিল মূলত দ্বীপটির সামরিক স্থাপনা কেন্দ্রিক। কিন্তু এবারের হামলার লক্ষ্যবস্তু যদি তেল অবকাঠামো হয়ে থাকে, তবে তা ইরানের অর্থনীতির ওপর চরম আঘাত হিসেবে দেখা দেবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় ইরানিদের ‘মানবঢাল’ হওয়ার আহ্বান

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ‘চরম ধ্বংসাত্মক’ হামলার হুমকি মোকাবিলায় এবার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো রক্ষায় তরুণ সমাজকে ‘মানবঢাল’ বা মানববন্ধন গড়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান সরকার। মার্কিন বার্তা সংস্থা এ খবর জানিয়েছে।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি: কাতার

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানান, এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যেকোনও মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।আল-আনসারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা এমন এক বিন্দুর খুব কাছাকাছি অবস্থান করছি, যেখান থেকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’তিনি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি এই শত্রুতা কোনও রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করবে না। যদি এই যুদ্ধ চলতেই থাকে, তবে কেউ জয়ী হবে না।

দেশের জন্য জীবন দিতে নিবন্ধন করেছেন ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি

দেশের জন্য জীবন দিতে ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি নিবন্ধন করেছেন বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি এক বক্তব্যে বলেন, “১৪ মিলিয়নের বেশি গর্বিত ইরানি তাদের জীবন উৎসর্গ করতে নিবন্ধন করেছেন। আমিও আমার জীবন ইরানের জন্য উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিলাম, আছি এবং থাকবো।” যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে ইরানের নেতৃত্ব দেশবাসীর মধ্যে প্রতিরোধ ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা জোরদার করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সরকার দাবি করছে, বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছায় দেশ রক্ষায় এগিয়ে এসেছে। এদিকে ইরানের রেলব্যবস্থা ব্যবহার না করতে দেশটির জনগণকে সতর্ক করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ট্রেনে ভ্রমণ করলে ‘জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে’ বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এখন পর্যন্ত ইরানের ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা মার্কিন বাহিনীর

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তারা দেশটির ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই যুদ্ধ চলছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের সাংকেতিক নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। এই অভিযান সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দিয়ে সেন্টকম বলে, এখন পর্যন্ত তারা ১৫৫টির বেশি ইরানি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে। সেন্টকমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লবী বাহিনীর (আইআরজিসি) সদর দপ্তর, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, নৌবাহিনীর জাহাজ ও সাবমেরিন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৬৬৫ জনই বেসামরিক নাগরিক।

ইরানে রেলওয়ে সেতুতে ইসরাইলি হামলায় নিহত ২

ইরানের কাশান শহরের একটি রেলওয়ে সেতুতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানের কাশান শহরের ইয়াহিয়া আবাদ রেলওয়ে সেতুতে ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে। ইসফাহানের ডেপুটি গভর্নরের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই হামলায় দুই জন নিহত হয়েছে। এর আগে ইসরায়েল ট্রেন ব্যবহার না করতে ইরানের জনগণকে হুমকি দেয়। ওই হুমকির পর এ হামলা চালনো হলো। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিজেদের ফার্সি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্টে ইরানিদের উদ্দেশে ‘জরুরি সতর্কবার্তা’ দিয়ে বলে, ইরানিদের আগামী ১২ ঘণ্টা ট্রেন ব্যবহার না করতে, রেললাইন থেকে দূরে থাকতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় আহত ১৫ আমেরিকান

কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে রাতভর ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় অন্তত ১৫ জন মার্কিন সেবা সদস্য আহত হয়েছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ নিশ্চিত করেছে। দুইজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানায়, আহতদের অধিকাংশের আঘাত গুরুতর নয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁরা নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের এই ঘাঁটিতে হামলার ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, এই হামলার দায় ও এর নেপথ্য কারণ নিয়ে পেন্টাগন এবং কুয়েত সরকার বিস্তারিত খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনার পর ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা লেবাননের অভ্যন্তরে এবং ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও ট্যাংক লক্ষ্য করে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে। গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ লেবাননের আইনাতা এবং মারকাবাহ শহরে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর রকেট ও ‘ডাইভ-বোম্বিং’ বা আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে সফল হামলা চালানো হয়েছে। লেবানন সীমান্তের পাশাপাশি ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও হিজবুল্লাহর তৎপরতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনাং এবং সাসা শহরের ভেতরে ও আশপাশে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর তারা নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করেছে। এই হামলায় ইসরায়েলি পক্ষের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। উভয় ফ্রন্টে এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।

অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪ : ইসরাইলি জাহাজ ও মার্কিন সংশ্লিষ্ট কারখানায় ইরানের হামলা

‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ফোর’-এর অংশ হিসেবে ৯৯তম ধাপে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিশোধমূলক হামলায় পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন মালিকানাধীন একাধিক পেট্রোক্যামিক্যাল স্থাপনা ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।

আইআরজিসি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে পুনরায় আঘাত করা হলে এবার কোনো ধরনের সংযম প্রদর্শন না করে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। পবিত্র কোড ‘ইয়া ফাতিমা আল-জাহরা (সা.)’ ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত এই অভিযানে সৌদি আরবের জুবাইল অঞ্চলে অবস্থিত সাদারা, এক্সনমোবিল ও ডাউ কেমিক্যালের মতো বৃহত্তম মার্কিন পেট্রোক্যামিক্যাল কমপ্লেক্সগুলোতে সফলভাবে হামলা চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে জুয়াইমাহ এলাকায় শেভরন ফিলিপসের একটি বিশাল কেন্দ্রে মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও সুইসাইড ড্রোনের নিখুঁত আঘাত নিশ্চিত করেছে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স। ভারত মহাসাগরের গভীরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘সিভিএন ৭২’-কে লক্ষ্য করে দীর্ঘপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান বন্দর ব্যবহার করে স্থলপথে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের চেষ্টাকালে একটি ইসরায়েলি কন্টেইনার জাহাজকেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধ্বংস করা হয়েছে।

হামলায় আহত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় ১৩৩ ইসরাইলি হাসপাতালে

ইরান ও হিজবুল্লাহর হামলায় আহত হওয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৩ জন ইসরাইলিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় বলেছে, পর্যন্ত ১৩৩ জনকে হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, পাঁচজন মাঝারি মাত্রায় আহত হয়েছেন আর ১২৭ জন হালকা আঘাত পেয়েছেন। ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে লেবাননের হিজবুল্লাহ ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে প্রচুর আলোচনা ও দরকষাকষির ইঙ্গিত

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে ‘প্রচুর আলোচনা ও দরকষাকষি’র ইঙ্গিত পেয়েছেন। এই সময়সীমা পার হলে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালানোর কথা ।

ইরান কোনো গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে আসবে কি না—এ বিষয়ে ভ্যান্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমান সময় থেকে প্রায় ১২ ঘণ্টা পরের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন, আমরা তখনই সব জানতে পারব। তবে এর মধ্যে অনেক আলোচনা হবে এবং আমি আশাবাদী যে একটি ভালো সমাধান আসবে।’

হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে এক সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স যখন এই মন্তব্য করছেন, ঠিক তখনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ পোস্ট করে বলেছেন, গতকাল মঙ্গলবার একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি এটা চান না। কিন্তু সম্ভবত এটি হতে যাচ্ছে।

এর আগেও ট্রাম্প ইরানকে উড়িয়ে দিয়ে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি দেশটির সমস্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুতে হামলার কথা বলেছিলেন এবং এ ধরনের হামলায় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের উদ্বেগকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের আলটিমেটাম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় (ইস্টার্ন টাইম) গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) চূড়ান্ত সময়সীমা শেষ হচ্ছে।

সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে ইতিমধ্যে ইরানের বিভিন্ন রেলসেতু, সড়ক সেতুসহ বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা শুরু হয়েছে।