তিন দিন আগে বিলের কপি হাতে না পাওয়ায় সংসদ অধিবেশনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ১৩৩টি অধ্যাদেশকে দ্রুত আইনে রূপান্তর করতে স্পিকার তার বিশেষ ক্ষমতাবলে বিল উত্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে প্রয়োজনে শুক্রবারও সংসদ অধিবেশন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে বিলের কপি সময়মতো না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অধিবেশনের শুরুতেই সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন কার্যপ্রণালী বিধি উল্লেখ করে তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বলেন, বিধিতে আছে বিলের প্রতিলিপি অন্তত তিন দিন আগে সদস্যদের হাতে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু আমাদের ৪৯ পৃষ্ঠার একটি বিশাল দলিল এইমাত্র দেওয়া হলো।
আমরা নতুন এমপি, আমাদের শেখার সময় দিতে হবে। এভাবে হুট করে বিল দিলে আমরা আলোচনা করব কীভাবে? আমরা অধিকার বঞ্চিত হচ্ছি।
মিলনের আপত্তির জবাবে স্পিকার বলেন, বিধিতে তিন দিনের কথা বলা থাকলেও স্পিকারের একটি বিশেষ ক্ষমতা আছে। জরুরি প্রয়োজনে তিনি সেই সময়সীমা মওকুফ করতে পারেন। সেই ক্ষমতা বলেই বিলটি এখানে আনা হয়েছে।
১৩৩ অধ্যাদেশ পাসের চ্যালেঞ্জ ও চিফ হুইপের ব্যাখ্যা
পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমাদের সামনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ রয়েছে। সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইনে রূপান্তর না করলে ল্যাপস (বাতিল) হয়ে যাবে। এতে দেশ বড় ধরনের বিড়ম্বনায় পড়বে। আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে এই সবগুলো বিল পাস করতে হবে।
তিনি আরও জানান, ‘প্রতিটি বিলের ৯০০টি করে কপি তৈরি করতে বিজিবি প্রেস ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে। সময়ের অভাবে আমরা বিলের কপি আগেভাগে পৌঁছাতে পারিনি বলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
ম্যারাথন অধিবেশনের সিদ্ধান্ত
চিফ হুইপ জানান, স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে:
১. মঙ্গলবার থেকে প্রতিদিন দুই সেশনে (সকাল সাড়ে ১০টা এবং বিকেল সাড়ে ৩টা) অধিবেশন চলবে।
২. আগামী বৃহস্পতিবারের ‘বেসরকারি সদস্য দিবস’ বাতিল করে বিল পাসের জন্য ‘সরকারি দিবস’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
৩. প্রয়োজন হলে আগামী শুক্রবার বিকেল থেকেও বিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত অধিবেশন চলবে।
চিফ হুইপ বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা ১৭ বছর জুলুম ও জেল-জুলুমের শিকার হয়ে এই সংসদ গঠন করেছি। আয়নাঘরের শিকার আরমান সাহেবও (মীর আহমদ বিন কাসেম) এখানে আছেন। আমরা চাই গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে। আমাদের এই সীমাবদ্ধতা আপনারা আশা করি উপলব্ধি করবেন।’