বাংলাদেশ আর কারও অধীনে তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আলোচনা হবে, লড়াই হবে সমানে সমান। আমরা কারও অধীনতা আর মেনে নেব না। বাংলাদেশ আর কারও অধীনে তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না। ওই চ্যাপ্টার ক্লোজড। ওইটা আর রি-ওপেন হবে না। আমাদেরকে সেই জায়গায় শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, যেভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে, যেভাবে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করে, যেভাবে কেয়ারটেকার সরকার সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করে এই দলটি সম্মানিত হয়েছেন; এবার গণভোটের জনরায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা আরেকদফা সম্মানিত হবেন বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাড়ে ১৫ টি বৎসর তারা বিরোধী দলের উপর তাণ্ডব চালিয়েছে। যে র্যাব আজকে বিলুপ্ত হলো, সেই র্যাবকে ব্যবহার করা হয়েছে, পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে, অন্যান্য সেনসিটিভ বাহিনী, সংস্থা, এজেন্সিকে ব্যবহার করা হয়েছে। অসংখ্য মানুষকে গুম করা হয়েছে, খুন করা হয়েছে, পঙ্গু করা হয়েছে। ঘরবাড়ি ছাড়া করা হয়েছে। লাখ লাখ মামলা দেওয়া হয়েছে, দফায় দফায় জেলে নেওয়া হয়েছে। এই সবগুলোর সাক্ষী আমরা সকলেই। শেষ পর্যন্ত ২৪-এ ছাত্র-তরুণদের একটা ন্যায্য দফার দাবিতে আন্দোলন গড়ে উঠে এবং সেই আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এবং তার সরকারকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়।
তিনি বলেন, ওরা ২৪ সালে নির্বাচিত হয়ে— নির্বাচিত তো হয়নি, ১৪ সাল ছিল বিনা ভোটের, ১৮ সাল ছিল মিডনাইট ইলেকশন, আর ২৪ সাল ছিল জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত আমি এবং ডামি ইলেকশন। হ্যাঁ, ৮ সাল আগেই বলেছি, যে পেছনের ব্যাকডোর পলিটিক্স-এর মাধ্যমে এসেছিল। তো তারা ধরে নিয়েছিল ২০৪১ সাল পর্যন্ত থাকবে। ২০৪১ সাল পর্যন্ত তারা সাসটেইন করবে। আমরা তখন জেলে ছিলাম, ২৪-এর নির্বাচনটি যখন হয়। আজকে এখানে অনেক নির্বাচিত সংসদ সদস্য আমরা একসাথে ছিলাম। আমাদের মধ্যে এই ধরণের একটা ভাবনা ছিল, যে এই জাতিকে মুক্ত করার জন্য আমাদেরকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে ৪১ কে টার্গেট করে নামতে হবে। অনেকেই এটা ভাবছিলেন। কিন্তু না, আল্লাহ তাআলা হচ্ছেন ‘কুন ফায়াকুন’-এর মালিক। তিনি যখন কিছু করতে মনস্থ করেন, তখন তার সিদ্ধান্তটা শুধু তিনি এক্সপ্রেস করেন, সাথে সাথেই এটা বাস্তবায়ন হয়। ওরা তরুণরা নেমেছিল তাদের মেধার স্বীকৃতির দাবিতে এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের দাবিতে, চাকরির দাবিতে। শেষ পর্যন্ত অতীতের কায়দায় মুগড় বাহিনী, হাতুড়ি বাহিনী, হেলমেট বাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে অপব্যবহার করে এই আন্দোলনকেও দমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এই আন্দোলনের নেতাদেরকে ডিবিতে নিয়ে তাদের সাথে কি আচরণ করা হয়েছে, এরও সাক্ষী আমরা সকলে। এই সময় জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির হিসাব অনুযায়ী, কমপক্ষে ১৪০০ মানুষ এখানে খুন হয়েছেন খুনি বাহিনীর হাতে। কমপক্ষে ২০,০০০ মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছে। আর সারা দেশবাসী এই আন্দোলনে শরীক হয়েছে।
তিনি আন্দোলনকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই আন্দোলনের সফলতার জন্য আমি আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করি এবং যে তরুণদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত অর্গানাইজ হয়েছিল, আমি তাদেরকেও মোবারকবাদ জানাই। এই আন্দোলনে আমরা যারা শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক সকল পক্ষ সম্পৃক্ত হয়েছিলাম, তাদের সকলকে অভিনন্দন জানাই। এইভাবে সারা দেশবাসীর ঐক্যবদ্ধ একটি প্রয়াসের সামনে ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তারা চলে গেছে, কিন্তু শান্তি দেবে না। পালিয়ে গিয়েও এই জাতিকে বারবার বিরক্ত করছে, উস্কানি দিচ্ছে, সমাজ এবং দেশকে অস্থির করার চেষ্টা করছে। এই আসি, ওই আসি। আসি আসি বলে— তো বলি, এত আসি আসি বলেন তো গেলেন কেন? থাকতেন! রাজনীতি করেছেন, যদি বিশ্বাস করেন যে এই দেশকে জাতিকে ভালোবাসেন, তাহলে মাটি কামড়ে থাকতেন। অপরাধ করলে অপরাধের শাস্তি নিতেন, না করলে নিজেকে পরিষ্কার করতেন। পালায় কে? পালায় যে দোষী, পালায় যে অপরাধী, পালায় যে চোর, পালায় যে লুটেরা— তারা শুধু পালায়, কোনো সৎ মানুষ পালায় না। সৎ মানুষরা দেশে থাকে। ফাঁসি হলে ফাঁসি নিবে, খুন হলে খুন করবে, জেলে নিলে জেলে যাব, কিন্তু দেশ ছেড়ে পালাবে না। আমরা বিস্মিত এবং আমরা দুঃখিত।
তিনি ভারত সর্ম্পকে বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ, আমাদের জন্য তাদের অবদানকে আমরা অস্বীকার করি না। কিন্তু এরকম খুনিদেরকে তারা অবলীলায় শুধু আশ্রয় দিবে না, তাদেরকে রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দিবে— এটা আমাদেরকে ব্যথিত করে। তারা আমাদের সাথে সৎ সম্পর্ক চান, আমরাও চাই। প্রতিবেশীর সৎ সম্পর্ক গড়ে তুলুক, আমরাও চাই। যদি সত্যিই আমরা সৎ প্রতিবেশী হতে চাই, তাহলে উভয় পক্ষকেই আমাদের সদিচ্ছা ব্যক্ত করতে হবে। তাহলে আমরা আর সীমান্তে কাঁটাতারে ফেলানীর লাশ ঝুলতে দেখতে চাই না। নির্বিচারে আমাদের দেশের নাগরিকদেরকে ধরে নিয়ে হত্যা করবে, এটা আমরা দেখতে চাই না। উত্তরবঙ্গের কান্না তিস্তার কোনো সমাধান হবে না, এটা আর আমরা সহ্য করতে রাজি নই। পদ্মা-গঙ্গাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, আগামীতে এটার সুরাহা কি হবে, এই বছরেই তা আবার এই চুক্তি শেষ হবে, নবায়নের সময় আসবে। আমি অনুরোধ করব সরকারকে এখন থেকে এই শক্তিশালী নীতিমালা নিয়ে সাহস করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে তাদের সাথে যেন মোকাবেলা করা হয়। এখানে আলোচনা হবে, লড়াই হবে সমানে সমান। আমরা কারও অধীনতা আর মেনে নেব না। বাংলাদেশ আর কারও অধীনে তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না। ওই চ্যাপ্টার ক্লোজড। ওইটা আর রি-ওপেন হবে না। আমাদেরকে সেই জায়গায় শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে।
বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সকল বঞ্চনার পরে, তারই ভিত্তির উপর এত শহীদের রক্ত, জীবন, পঙ্গুত্ব, জেল-জুলুম, এত ত্যাগ, এত গুম-খুন, এত আয়নাঘর— সবকিছুর অভিজ্ঞতা প্রত্যক্ষ করে যে নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত হলো, তার আগে জাতীয় ঐকমত্যের জন্য একটা কনসেনসাস কমিশন হয়েছিল। দীর্ঘদিন মাসের পর মাস সেখানে বৈঠক হয়েছে, মতবিনিময় হয়েছে, কথা হয়েছে। কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারই আলোকে এই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে একসাথে দুটো। একটা সংসদ নির্বাচন, আর একটা গণভোট। সংসদ নির্বাচনের আমরা যতটুকু হোক কার্যকারিতা পেলাম, কিন্তু গণভোটের কোনো সুরাহা এখনো হলো না। ৬৮.২ ভাগ মানুষ তারা গণভোটে 'হ্যাঁ' বলেছেন, রায় দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তখন তিনি জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন ছিলেন, চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু এরপরে যেদিন আমাদের শপথ হলো, সেদিন থেকে এই জায়গাটায় আমাদের সমস্যা তৈরি হয়ে গেল। এবং আজ পর্যন্ত এর কোনো সুরাহা হলো না। আমরা চেয়েছিলাম কি? আমরা কোনো দলীয় শাসন চাইনি।
তিনি ক্ষমতাসীন দল সর্ম্পকে বলেন, জাতীয়তাবাদী দল ক্ষমতায় আসুক— আলহামদুলিল্লাহ, জনগণ আমাদেরকে পাঠাক— আলহামদুলিল্লাহ, অন্য কোনো দলকে নির্বাচন করুক— আলহামদুলিল্লাহ। আমরা চেয়েছিলাম যে দলটিই নির্বাচিত হয়ে দেশ এবং জনগণকে পরিচালনা করবে, সরকার গঠন করবে, তাদের মধ্যে আর যেন ফ্যাসিবাদ ভর না করে। আর যেন কোনো বৈষম্য না হয়। আর যেন কোনো মায়ের বুক অপ্রয়োজনে, অহেতুক খালি না হয়। দেশে যেন সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর জন্যই প্রয়োজন ছিল একটি আমূল পরিবর্তনের। সেই পরিবর্তনের লক্ষ্যেই ছিল গণভোট। অনেকে বলেন, যে গণভোট ঠিক আছে মানলাম, তো সংস্কার আর সংশোধনীর তফাৎটা কি? সংশোধনীর সমস্যা হচ্ছে— আজকে এখানে কোনো বিল আকারে আসবে, আমরা এটা পাস করে দেব, কালকে আদালত চাইলে এটাকে চ্যালেঞ্জ করে শেষ করে দেবে। এরকম উদাহরণ একটা নয়, দুইটা নয়, অনেক। কিন্তু যদি এটা গণপরিষদ কিংবা একটা সংস্কার পরিষদের মধ্য দিয়ে এই আইন তৈরি হয়, তাহলে আমাদের জানামতে এই আইনের ওপর আদালত কোনো হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পায় না। আমরা সেইজন্য চেয়েছিলাম যে এখানে সংসদে খোলামেলা আলাপ-আলোচনা করে আমরা সবাই একমত হয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন আর যাতে আমাদের দেশে ফেরত না আসে, এজন্য আমরা এই সংস্কারটা সম্পন্ন করব। আমি মনে করি সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। আমি অনুরোধ করব বিষয়টার সরকার যেন বিবেচনায় নিয়ে জনরায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে জনআকাক্সক্ষাকে আমরা যেন বাস্তবায়ন করতে পারি। তাহলে যেভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে, যেভাবে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করে, যেভাবে কেয়ারটেকার সরকার সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করে এই দলটি সম্মানিত হয়েছেন; আমি মনে করি এবার গণভোটের জনরায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা আরেকদফা সম্মানিত হবেন। এবং গোটা সংসদ সম্মানিত হবে। আমরা তার অপেক্ষায় থাকলাম।
তিনি বলেন, আকাক্সক্ষা ছিল ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক একটা সমাজ গঠনের। এর জন্য প্রয়োজন একটি স্বাধীন বিচারব্যবস্থা। ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের সময় এই পদক্ষেপটা নিয়ে স্বাধীন সচিবালয় কায়েম করা হয় এবং তার কার্যক্রম চালু হয়। এই ওয়াদাটা বর্তমান সরকারি দলেরও ছিল— বিচারবিভাগকে স্বাধীনতা দেওয়া হবে। কিন্তু এটা এখন আবার হারিয়ে গেছে। জাতি এখানে এসে ধাক্কা খেল। আদৌ আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারব কি না, পাব কি না— দেখার বিষয়ে আমরা অপেক্ষায় থাকলাম। তবে, ২৪-এ যে গণহত্যা হলো, হত্যাকারীদেরকে বিচারের আওতায় এনে তাদের বিচার নিশ্চিত করার যে প্রক্রিয়াটি বিগত ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের সময় শুরু হয়েছিল এবং যেটুকু দৃশ্যমান অগ্রগতি আমরা লক্ষ্য করেছিলাম, বর্তমান সরকারের ছয় মাসে আমরা তা দেখতে পাচ্ছি না। আমাদেরকে শহীদ পরিবারের সদস্যরা বলেন— সন্তান তো চলে গেল, পিতা তো চলে গেল, বাবা তো চলে গেল, ভাই তো চলে গেল, বিচারটা কি আমরা পাব? আমাদের কাছে তার কোনো সদুত্তর নাই, আমরা বলতে পারি না। আমরা এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করব। স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়া আছে, আবার ট্রাইব্যুনাল আছে, যেখানে যেটা প্রযোজ্য— এই বিষয়টাকে এক্সপেডাইট করে ন্যায়বিচার যেন নিশ্চিত করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়। এই ন্যায়বিচারটি শুধুমাত্র ওই সময়ের জন্য কার্যকর নয়, বরঞ্চ ওই সময়ের বিপ্লবীরা যাদেরকে পরবর্তী পর্যায়ে হত্যা করা হয়েছে, তারাও যেন বিচারটা পায়। এবং আমি স্পেশালি শরীফ ওসমান হাদী-র কথাটাই এখানে বলছি। তার পরিবার যেন এই বিচারটা পায়।
তিনি আরো বলেন, একটা বৈষম্যহীন সমাজ আমরা চেয়েছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম যে এই সংসদ থেকে বৈষম্য দূর করার উদ্যোগটা নেওয়া হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বলতে হচ্ছে, আবারও বলতে হচ্ছে— এর আগেও বলেছি, যে না, আমরা বৈষম্যের শিকার। আমরা যারা বিরোধী দলীয় সদস্য এখানে আছি, তারা আমাদের ন্যায্য অধিকারটা, সম্মানটা আমরা সব ক্ষেত্রে পাচ্ছি না। যেমনটা ভোগ করছেন আমাদের সরকারি দলের সদস্যবৃন্দ। উদাহরণস্বরূপ— ফান্ড অ্যালোকেশনের ক্ষেত্রে আমরা প্রথমেই দেখলাম যে আমরা বৈষম্যের শিকার হলাম। দ্বিতীয় পর্যায়ে দেখলাম সরকারি দলের নারী সদস্যরা তারা অ্যালোকেশন পেলেন, কিন্তু আমাদের নারী সদস্যরা পেলেন না। এখনো আমরা সেই ধারাটা দেখছি যে কন্টিনিউ করছে। দেশটা সকলের। ট্রেজারিতে টাকা দেয় সবাই। ১৮ কোটি মানুষের অবদান এখানে আছে। কোন ব্যক্তি এলাকাকে পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার কোন সুযোগ নেই। এইজন্য আমি অনুরোধ করব যে বিষয়টা বিবেচনায় নেবেন সরকার। আমাদের নির্বাচিত বিরোধী দলীয় সদস্যদের আসনগুলোতে সরকারি দলের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদেরকে আবার সেখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনগণ সরাসরি আমাদেরকে যাদেরকে ভোট দিয়েছে, আমরা আমাদের নির্বাচিত এলাকার প্রত্যেকটি মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। এখন যদি আমাদের কাজটা আমরা মসৃণভাবে না করতে পারি, কোন বাধাহীনভাবে, তাহলে আমাদের এই দায়বদ্ধতার জায়গা তো আরও কঠিন হয়ে যাবে।
তিনি উপজেলা পরিষদের এমপিদের বসার বিষয়ে বলেন, যদিও আমি এটা মানসিকভাবে তখনও পছন্দ করি নাই— যে সংসদ সদস্যদের বসার একটা জায়গা লাগবে, সেই দাবিটা পূরণ করা হয়েছে, উপজেলা পরিষদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত পজিশন এখানে ডিফারেন্ট। আমি মনে করি স্থানীয় সরকারের কোনো স্থাপনায় সংসদ সংসদীয় যারা নির্বাচিত হয়ে এসেছেন সম্মানিত সদস্য, তাঁদের কোনো স্থাপনায় বসা উচিত নয়। এখনো সমস্যা তৈরি হচ্ছে, আগামীতেও তৈরি হবে। হ্যাঁ, তাঁদের জন্য আমরা সেপারেট এভিনিউ তৈরি করতে পারি। সেই এভিনিউতে তাঁরা গিয়ে বসবেন। সেখানে তাঁরা জনগণকে সময় দিবেন, জনগণের কথা শুনবেন এবং জনগণের সমস্যার সমাধান করবেন। এটি হবে তাঁদের জন্য সম্মানজনক এবং এটি হবে যুক্তিযুক্ত। এতে যদি কিছু সময় লাগে লাগুক। শেষপর্যন্ত অতীতের সদস্যরা যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, আমরা সেভাবে করবো। অতীতের সদস্যরা তো আর ওই উপজেলা পরিষদের কোনো কক্ষে গিয়ে বসেননি। আমি এই বিষয়টাও সক্রিয় বিবেচনার জন্য নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি নিয়োগ প্রসঙ্গে বলেন, বিভিন্ন জায়গায় যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ার কথা, সেখানে দলীয় প্রশাসক বসানো হয়েছে। এমনকি সরকারি বিভিন্ন কর্পোরেশন, সংস্থায়ও বসানো হয়েছে। রিসেন্টলি চাকরিতে ভাইবা আর রিটেনের মার্ক, সেটা নিয়ে আরেকটা নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। যারা তরুণ সমাজ, ইতিমধ্যেই তার প্রতিবাদ করেছে। আমরাও তার প্রতিবাদ করি। যা চলে আসছে সেটাই বহাল রাখা হোক। মেরিটকে সবাই মিলে সম্মান করি। মেরিটোরিয়াসরা এসে আমাদের আগামী সমাজটা বিল্ড আপ করে দেবে—এটা আমরা চাই। এক্ষেত্রে আমরা কোনো দলীয় আনুগত্য আমরা দেখতে চাই না।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজ থেকে দুর্নীতি নির্মূল না করলে এ সমাজ মাথা সোজা করে দাঁড়াতে পারবে না। আমাদের অর্থনীতি ভঙ্গুর, বিধ্বস্ত। বিশৃঙ্খলা চলছে সকল ক্ষেত্রে। অর্থনীতির দুইটা মূল পিলার—একটা হচ্ছে ব্যাংকিং সেক্টর, আরেকটা হচ্ছে স্টক মার্কেট। দুইটাতেই বিপর্যয়। এই জায়গাগুলো সকল ধরনের দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে উপযুক্ত লোকদের দ্বারা সেই জায়গাগুলো পরিচালনা করা দরকার। পরিচালনায় অন্য কারো আসা উচিত নয়। কোনোভাবেই না। আমরা এর ব্যতিক্রম দেখতে পাচ্ছি। সে জায়গা দূর হোক, এটা আমরা চাই। দুর্নীতি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। আমি ধন্যবাদ জানাই বর্তমান মহামান্য প্রেসিডেন্টকে। তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন যে গত চার-পাঁচ মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরঞ্চ দুর্নীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে। শুধু প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজের জায়গা থেকে চেষ্টা করে চলছেন। এটা আমার কথা নয়, এটা মহামান্য প্রেসিডেন্ট জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবের কথা। জনগণও আমাদের কাছে বলে, আপনাদের কাছেও নিশ্চয়ই বলে যে দুর্নীতির মাত্রা আগের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা যদি আমরা লাগাম টেনে ধরতে না পারি, তাহলে যত পরিকল্পনা আমরা নেই, কোনো পরিকল্পনাই আসলে সফলতার মুখ দেখবে না। দুর্নীতিবাজদের পেটের ভিতরে সব কিছু ঢুকে যাবে। আমরা এই সমাজটাকে দুর্নীতিমুক্ত একটি সমাজ হিসেবে দেখতে চাই এবং এই ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্ব দেবেন, সেটা আমরা দেখতে চাই।
শিক্ষা সর্ম্পকে তিনি বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। এই শিক্ষাটাকে ধ্বংস করা হয়েছে দুইভাবে। একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চর দখলের মতো দখল, আরেকটা শিক্ষার মানকে ধ্বংস করে অবাধ্য নকল, প্রশ্ন সাপ্লাই ইত্যাদির মাধ্যমে। আমরা আশা করবো দুইটার অবসান হবে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো দখল হবে না, গেস্ট রুম, গণরুম ফিরে আসবে না, অস্ত্রের ঝনঝনানি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে হবে না। আমাদের সন্তানদেরকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে কলমের বদলে অস্ত্র হাতে নিতে হবে না। আমরা সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেখতে চাই। নৈতিকতা এবং দক্ষতার ভিত্তিতে নতুন কারিকুলাম এবং সিলেবাস সাজিয়ে আমাদের তরুণ সমাজকে আগামী উপযুক্ত দেশ গড়ার নাগরিক এবং নায়ক হিসেবে গড়ে তোলা হোক—সেই উদ্যোগটা আমরা দৃশ্যমান দেখতে চাই। কিন্তু ইতিমধ্যেই যা হয়েছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ধরনের অভ্যুত্থান হয়েছে। এটা আগে অনেকবার বলেছি, এখন আর বলতে যাচ্ছি না। এগুলো ত্যাগ করে আমাদেরকে সুস্থ ধারায় ফিরে আসতে হবে।
কৃষি ও শিল্প সর্ম্পকে তিনি বলেন, কৃষি এবং শিল্প-ইন্ডাস্ট্রি—এই দুইটা জাতির অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখে। কৃষি নিয়ে আমরা আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। গতকালই এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, আজকে এই বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না। আমি শুধু শিল্পের ব্যাপারে বলতে চাই—দেশটি আমাদের খুব ছোট, কৃষিতে খুব বড় কিছু টেনে বড় করার জায়গা আমাদের কম। কিন্তু আমরা শিল্পে পারবো। অল্প জায়গায় বেশি মানুষকে আমরা একোমোডেট করতে পারবো। সেই শিল্প আজকে এনার্জি এবং পাওয়ারের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। গতকালকে সরকারি দলের একজন সংসদ সদস্য—সম্ভবতঃ মুন্সীগঞ্জ-১ থেকে নির্বাচিত জনাব আব্দুল্লাহ—তিনি নিজে বলেছেন যে 'আমি একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী, আমরা দারুণ সমস্যার মধ্যে আছি।' সংসদে তিনি এ কথা বলেছেন। এই সংসদে অনেকের সাথে এরকম ব্যবসার সাথে যারা জড়িত, আমার কথা হয়েছে। সবাই খুব উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন। এইজন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এখন শিল্পটাকে কীভাবে বাঁচানো যায়—সেই ব্যাপারে আমি অনুরোধ করবো যে সকল কাজের ঊর্ধ্বে এখানে ফান্ড আরো বেশি যদি ডিপ্লয় করতে হয়, অন্য জায়গা থেকে কাটছাঁট করতে হয়—করে আমাদের শিল্পকে রক্ষা অর্থাৎ কোটি কোটি পরিবারকে রক্ষা করার ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তা না হলে এরা ব্যাংকরাপ্ট হওয়ার মানে হচ্ছে ব্যাংক নিজে ব্যাংকরাপ্ট হওয়া, ধ্বংস হয়ে যাওয়া। অর্থনীতি আমাদের খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আল্লাহ ভালো জানেন। আমি শিল্পের এই বিষয়টাকে বিশেষ বিবেচনায় নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাবো।
প্রবাসীদের বিষয়ে তিনি বলেন, বিদেশে আমাদের যারা শ্রমিক আছেন, তাঁদের অনেক সমস্যা—সে নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেই সমস্যা নিরসনে আমরা সরকারের আন্তরিক উদ্যোগের দৃশ্যমান উন্নয়ন আমরা দেখতে চাই। জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে জ্বালানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দামটা সহনসীমার ভিতরে রাখার চেষ্টা আমাদেরকে অবশ্যই করতে হবে। আমরা বুঝি—যখন জ্বালানি খাতে সংকট, তখন পরিবহনে খরচ বাড়বে। এই বাড়ার কারণে ওখানে গিয়ে চাপ পড়বে। কিন্তু জনগণের সামনে এটা খোলাসা করতে হবে যে, 'এই আমাদের পজিশন, এতটুকু আমরা পারছি বা পারবো, বাকিটা আপনারা ধৈর্য ধরে সহযোগিতা করুন।' কিন্তু কৃষক যেন প্রতারিত না হয়। এখন যেভাবে বঞ্চিত হচ্ছে—উৎসস্থলে ১০ টাকা, ঢাকায় আমরা ৮০ টাকা—এটা যেন না হয়। এই বৈষম্যটা যেন দূর হয়। এই মাঝখানের সিন্ডিকেশন, চাঁদাবাজি ইত্যাদির কারণে জনজীবন যেভাবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, এর অবসান আমরা চাই। অন্তত চাঁদাবাজদের হাত থেকে যদি সমাজ বের হয়ে আসতে পারে, তাহলে আমাদের সমাজজীবনে অনেকটা স্বস্তি ফিরে আসবে, ইনশাআল্লাহ।
আইন শৃংখলা সর্ম্পকে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমি আবারও বলবো, বিশেষ করে মাদক এবং অবৈধ অস্ত্র—এই দুইটায় আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। এ দুইটাকে নির্মূল করার জন্য—এটাকে নিয়ন্ত্রণ নয়, নির্মূল বলবো—নির্মূল করার জন্য উদ্যোগটা যেন দৃশ্যমান হয়। আমরা আইন পাস করেছি নিয়ন্ত্রণের, আমি বলবো যে এটাকে নির্মূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এর কোনো চিহ্নবর্ণ রাখা যাবে না। যে সন্তানগুলা নষ্ট হচ্ছে, এগুলো আমাদের সন্তান। এগুলো শুধু ব্যক্তি এবং পরিবারের জন্য সমস্যা নয়, পুরো জাতির জন্য সমস্যা। এই বিষয়টাকে অবশ্যই আমাদের দেখতে হবে। রাষ্ট্রে যারা কমিটেড ম্যানপাওয়ার, যাদের সততা এবং দক্ষতা আছে, আনফরচুনেটলি সাড়ে ১৫ বছর তাঁদের সমর্থন অথবা সহযোগিতা যাই বলি, বিরোধী দলের প্রতি থাকার কারণে তাঁরা নিগ্রহের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এর মধ্যে এখনো যারা বিরোধী দলে, তারা সেই সমস্যা—একই সমস্যা ভোগ করছে। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশে এটি দেখতে চাই না। আমরা চাই যে মেধা, দক্ষতা এবং তার কমিটমেন্টের ভিত্তিতে, সততার ভিত্তিতে মানুষকে যেন যথাযথ জায়গায় মূল্যায়ন করা হয়। এই সমস্যাটা সব জায়গায় দৃশ্যমান, স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও এটা প্রকট। সব জায়গায় এর অবসান চাই, এর নিরসন চাই।
তিনি আইন সর্ম্পকে বলেন, আরেকটা আইন দুঃখের সাথে বলতে হয়, যেটা সম্পদ হস্তান্তর আইন, প্রপার্টি ট্রান্সফার—এটা আসলেই কোরআন এবং সুন্নাহর সাথে একেবারে সাংঘর্ষিক। এই এদেশের প্রসিদ্ধ সকল আলিম-উলামা এ ব্যাপারে তাঁদের দ্বিমত পোষণ করেছেন, প্রতিবাদ জানিয়েছেন। যদিও আইনটা সংসদে পাস হয়েছে, আমি অনুরোধ করবো মাননীয় রাষ্ট্রপতি যেন এটাতে সিগনেচার না করেন। আমি অনুরোধ করবো বিএনপির প্রতি সম্মান রেখে, সরকারের প্রতি সম্মান রেখে—তারা বলেছেন কোরআন-সুন্নাহর বিপরীতে কোনো আইন হবে না। আমি অনুরোধ করবো খোলা মনে এটাকে, আমি আবারও বলছি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কাছে ফিরিয়ে দিন। এই প্রতিষ্ঠান সরকারি প্রতিষ্ঠান। আপনারা স্কলারদেরকে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ ব্যাপারে আপনাদেরকে সহযোগিতা করুন। আমরা তখন সহযোগিতা করবো। যত ধরনের সহযোগিতা লাগে, সব সহযোগিতা করব।
সংসদে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন অন্যায়, বিচারিক হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার তাণ্ডব ছিল আওয়ামী লীগের পরবর্তী শাসনকালের এক ভয়াবহ মহড়া। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেই তারা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। ওই নির্মম ঘটনার প্রকৃত তদন্ত রিপোর্ট আজও আলোর মুখ দেখেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ ১১ জন নেতাকে মিথ্যা মামলায় ক্যাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে মৃত্যুদণ্ড ও সাজা দিয়ে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ ঘটানো হয়েছে। শাহবাগের অনাচার, আইন পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বিরোধী দলের নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয়। একই সাথে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ বিরোধী দলের ওপর সাড়ে ১৫ বছর ধরে নির্বিচারে গুম, খুন, জেল-জুলুম ও তাণ্ডব চালানো হয়েছে।
২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হেলমেট ও হাতুড়ি বাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে প্রায় ১৪০০ মানুষকে হত্যা ও ২০ হাজার মানুষকে পঙ্গু করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২৪-এর গণভোটে ৬৮.২ শতাংশ মানুষ ফ্যাসিবাদের চিরতরে অবসান ও সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সেই জনআকাক্সক্ষাকে সম্মান জানিয়ে সংসদে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও গণরায়ের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে ভালো সম্পর্ক কাম্য হলেও সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে শক্ত ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, ২৪-এর গণহত্যার সঠিক বিচার ও শহীদ পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি, সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্যদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও বরাদ্দ বঞ্চনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং সুস্থ সংসদীয় চর্চা বজায় রাখার আহ্বান জানান।