- চুক্তি হল স্বাক্ষরের জন্য পাকিস্তানে যেতে পারেন ট্রাম্প
- যুদ্ধের চিরস্থায়ী অবসান চায় ইরান
- শান্তি আলোচনায় বসানোর নেপথ্যে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির
- হোয়াইট হাউসে শান্তি সংলাপে বসবে ইসরাইল-লেবানন
- এরদোগানের সঙ্গে বৈঠকে পাক প্রধানমন্ত্রী
- ট্রিগারে আঙুল রাখবে হিজবুল্লাহ
লেবাননের যুদ্ধবিরতির মধ্যে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। ১০ দিনের যুদ্ধ বিরতির সময়ে এই প্রণালী দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ অতিক্রম করতে পারবে বলে ইরান জানিয়েছে। ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানী প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফা সংলাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে স্বাক্ষরের জন্য পাকিস্তান যেতে পারেন ট্রাম্প। এদিকে তেহরান কোনো ধরনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করবে না। তারা চায় যুদ্ধের চিরস্থায়ী অবসান। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে শান্তি প্রক্রিয়ার নেপথ্যের মূল কারিগর হিসেবে হচ্ছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এছাড়া হোয়াইট হাউসে শান্তি সংলাপে বসবে ইসরাইল-লেবানন। হিজবুল্লাহ ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে ট্রিগারে আঙুল রাখবেন বলে জানিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। দ্য গার্ডিয়ান, দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, আল-জাজিরা, রয়টার্স, এপি, ডন, আনাদুলো এজেন্সি।
লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত: ইরান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময়ে এই প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ অতিক্রম করতে পারবে। লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা ইরানের অন্যতম দাবি ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। বাংলাদেশ সময় গতকাল শুক্রবার ভোর তিনটা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এর আগে ৮ এপ্রিল ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি হয়। লেবাননও ওই যুদ্ধবিরতির আওতায় ছিল বলে বারবার বলে আসছিল ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানও সেটাই বলছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তা অস্বীকার করছিল। ইসরাইল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল। ইরান দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত হলে গত বৃহস্পতিবার লেবাননে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। এরপর শুক্রবার ইরান বলল, লেবাননে যুদ্ধবিরতির ১০ দিন হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে আল–জাজিরা।
যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে ইসরাইলকে বাধ্য করা হয়েছে: ইরানের প্রেসিডেন্ট
লেবাননে যুদ্ধবিরতি করতে ইসরাইলকে বাধ্য করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য এটা সম্ভব হয়েছে।টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে বা লেবাননের অন্যান্য ফ্রন্টগুলিতে আক্রমণ করার কোনো অধিকার লেবাননের নেই। ইরানের মর্যাদা এবং গর্ব অক্ষুণ্ন রেখে নিবেদিতভাবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান পেজেশকিয়ান।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিতীয় দফা সংলাপের প্রস্তুতি শুরু করেছে পাকিস্তান
ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফা সংলাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। দেশটির দু’টি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের বার্তাসংস্থা এবং ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআই। পাকিস্তানের একটি সূত্র এ প্রসঙ্গে আনাদোলু এজেন্সিকে বলেছে, “আমরা মঙ্গলবার থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছি। মূলত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করার দিকেই মনযোগ দেওয়া হচ্ছে।” সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সেনা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির যে তেহরান সফরে গিয়েছিলেন, সেটিও ছিলো সেই প্রস্তুতিরই অংশ।
ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে স্বাক্ষরের জন্য পাকিস্তান যেতে পারেন ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে তাতে স্বাক্ষরের জন্য পাকিস্তান যেতে পারেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। লাস ভেগাস সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে তা স্বাক্ষরের জন্য তিনি পাকিস্তানে যেতে পারেন। চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য পাকিস্তানে যেতে পারেন কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যেতে পারি, হ্যাঁ। যদি ইসলামাবাদে চুক্তি স্বাক্ষর হয়, তাহলে আমি যেতে পারি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’ চুক্তির বিষয়ে গত সপ্তাহান্তে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একটি মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে ইসলামাবাদে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে তিনি কোনো অগ্রগতি ছাড়াই ফিরে আসেন। ওহায়াইট হাউস জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে কথাবার্তা চলছে। পাকিস্তানেই এই আলোচনা হতে পারে।
সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয় যুদ্ধের চিরস্থায়ী অবসান চায় ইরান
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ জানিয়েছেন, তেহরান কোনো ধরনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করবে না। আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের এক পার্শ্ববৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইরান বর্তমানে সমগ্র অঞ্চলজুড়ে চলমান যুদ্ধের একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ অবসান চাইছে। খাতিবজাদেহ জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন থেকে শুরু করে লোহিত সাগর পর্যন্ত সমস্ত সংঘাতপূর্ণ এলাকা অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। ইরানের কাছে এটি একটি ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় শর্ত। তিনি আরও যোগ করেন, ইরান কোনো খণ্ডিত বা সাময়িক সমাধানে বিশ্বাসী নয় এবং এই সংঘাতের চক্র এখনই চিরতরে বন্ধ হওয়া উচিত। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও অবস্থান প্রসঙ্গে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই জলপথটি ঐতিহাসিকভাবেই উন্মুক্ত ছিল। যদিও এটি ইরানের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত, তবুও দীর্ঘকাল ধরে এটি আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড এই অঞ্চলে অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। খাতিবজাদেহর মতে, এই দুই দেশের নেতিবাচক তৎপরতা বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
হোয়াইট হাউসে শান্তি সংলাপে বসবে ইসরাইল-লেবানন : ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে সংলাপে বসবেন ইসরাইল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা। আগামী কিংবা তার পরবর্তী সপ্তাহেই হতে পারে সেই বৈঠক।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, “এটা দারুণ একটা ব্যাপার। গত ৪৪ বছরে এই প্রথম ইসরাইল এবং লেবাননের মধ্যে একটি বৈঠক হতে যাচ্ছে এবং আমার মনে হয়, সেই বৈঠকেই আমরা একটি চুক্তিস্বাক্ষর দেখতে পাবো। আগামী সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহে হতে যাচ্ছে সেই বৈঠক।”
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তি আলোচনায় বসানোর নেপথ্যে কে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধে এক অভাবনীয় কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। আর এই শান্তি প্রক্রিয়ার নেপথ্যের মূল কারিগর হিসেবে দেখা হচ্ছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফিল্ড মার্শাল মুনির সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতে সক্ষম হয়েছেন। একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তিনি দুই চিরশত্রু দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদান করছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই আলোচনার পুরো প্রক্রিয়াটি ইসলামাবাদের সংসদ ভবন থেকে নয়, বরং রাওয়ালপিন্ডির সেনা সদরদপ্তর থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি এই প্রক্রিয়ায় সেনাপ্রধানের ভূমিকার প্রশংসা করে জানিয়েছেন, ফিল্ড মার্শাল মুনিরই এই শান্তি উদ্যোগের মূল চালিকাশক্তি। আসিম মুনির না থাকলে এই আলোচনা কার্যকর হতো না বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই মুনিরের ওপর আস্থা রাখছে, যেখানে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সরকারি মন্ত্রীরা কেবল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। মূলত সামরিক বাহিনীর এই প্রভাবশালী অবস্থানের কারণেই পাকিস্তান বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে এক শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছে।
এরদোগানের সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
তুরস্কের আন্টালিয়ায় আয়োজিত আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম-এ যোগ দিতে পৌঁছেই দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শাহবাজকে ফোরামে অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর সাথে একান্ত বৈঠক করেন। বৈঠকে শাহবাজ শরিফ তুরস্কের আতিথেয়তার প্রশংসা করে দেশটিকে তার ‘দ্বিতীয় নিবাস’ হিসেবে অভিহিত করেন। এই সফরে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সৈয়দ তারিক ফাতেমিও তার সাথে রয়েছেন।ফোরামের সাইডলাইনে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সিরিজ বৈঠক করেছেন। তিনি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলমেদিন কোনাকোভিচের সাথে সাক্ষাত করে দুই দেশের ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনর্নিশ্চিত করেন।
লেবানন-ইসরাইল যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেন শাহবাজ শরিফ
লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শুক্রবার এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে শাহবাজ শরিফ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘সাহসী ও বিচক্ষণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার’ ফলে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি টেকসই শান্তির পথ সুগম করবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পাকিস্তানের অটল সমর্থন অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব ধরনের প্রচেষ্টায় সহায়তা অব্যাহত রাখবে পাকিস্তান।
ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে ট্রিগারে আঙুল রাখবেন হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা
হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা শত্রুর বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা প্রতিহত করতে প্রস্তুত ইসরাইল লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা ‘ট্রিগারে আঙুল রাখবেন’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। লেবাননের রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ–নিয়ন্ত্রিত আল-মানার টেলিভিশনে প্রচারিত ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলে, মুজাহিদিনেরা ট্রিগারে আঙুল রাখবেন। তাঁরা শত্রুর বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা প্রতিহত করতে প্রস্তুত।
যে ৬ শর্তে লেবানন-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি
লেবানন ও ইসরাইল ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুদেশের নেতাদের মধ্যে প্রথমবারের মতো বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প জানান, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। পরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যুদ্ধবিরতির ছয়টি শর্ত প্রকাশ করে, যা উভয় দেশ মেনে নিয়েছে বলে জানানো হয়। আনাদোলু এজেন্সি, পিটিআই, এএফপি, আল-জাজিরা, রয়টার্স, এপি, গার্ডিয়ান, দ্য ডন, আনাদোলু এজেন্সি ।
যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো হলোÑ
১. ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল বিকাল ৫টা থেকে লেবানন ও ইসরাইল সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ রাখবে। প্রাথমিকভাবে এই যুদ্ধবিরতি ১০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে, যা স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ তৈরির জন্য নেওয়া হয়েছে।
২. আলোচনায় অগ্রগতি হলে এবং লেবানন তার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা দেখাতে পারলে, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে।
৩. ইসরাইল আত্মরক্ষার অধিকার সংরক্ষণ করবে এবং সম্ভাব্য বা চলমান হামলার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে এ সময় লেবাননের ভেতরে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান চালাবে না।
৪. আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় লেবানন সরকার হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য অনিয়ন্ত্রিত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা বৈরী কর্মকাণ্ড চালানো থেকে বিরত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
৫. লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীই দেশটির সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় প্রতিরক্ষার একমাত্র দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে স্বীকৃত হবে; অন্য কোনো দেশ বা গোষ্ঠী এ দাবিদার হতে পারবে না।
৬. বাকি অমীমাংসিত বিষয়—বিশেষ করে আন্তর্জাতিক স্থলসীমা নির্ধারণসহ অন্যান্য ইস্যু সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে দুই দেশ, যাতে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।