বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সমমনাদের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে একটি এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে দু’টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।

ইসি সচিব বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র কমিশন গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদের দু’টি এবং বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি মনোনয়নপত্র রয়েছে। একই প্রার্থীর দু’টি মনোনয়নপত্র দাখিলের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব জানান, এটি নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়। প্রথম মনোনয়নপত্রটি যদি কোনো কারণে বাতিল হয়, কেবল তখনই দ্বিতীয়টি যাচাই করে দেখা হবে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে জমা পড়া মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় সার্বিক সহযোগিতা ও উপস্থিতির জন্য সংসদ সচিবালয়ের একজন প্রতিনিধি থাকবেন।

তফসিল সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১৯৯১ সালের পর এটিই প্রথম যেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সরাসরি ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে।

বিএনপির মনোনয়ন জমা

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র নির্বাচন কার্যালয়ে জমা দিয়েছে বিএনপি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে নির্বাচন কার্যালয়ে তা এসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে জন্য প্রস্তাবক হয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তাকে সমর্থন করেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া বিএনপি প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন অপু, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

গণভোট সংসদেই প্রতিফলিত করা হবে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আলাদা বিষয়

গণভোটের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

গতকাল নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, গণভোটের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। গণভোট পুরোপুরি মানাও যাবে, না মানাও যাবে। তবে তারা তা মানবেন এবং পর্যায়ক্রমে সেই গণভোট সংসদে প্রতিফলিত করা হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে আলাদা বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কোনো নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়।

বিরোধী পক্ষ এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তাদের স্বাগত জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, নির্বাচনে তাদের কত ভোট আছে তা জেনেও অংশগ্রহণ করায় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সংবিধান এবং আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সমন্বয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব এবং এলজিআরডি মন্ত্রী কে হচ্ছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সংক্ষেপে বলেন, এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে, পরে জানা যাবে।

এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়া হয়।

১১ দলের মনোনয়ন দাখিল

আসন্ন বাংলাদেশের ২৩মত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম-এর পক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শেরে বাংলা নগরে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি মাওলানা ফখরুল ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. ওমর ফারুক, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি, ঢাকা-৫ আসনের এমপি কামাল হোসেন, ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ জয়নাল আবেদিন চৌধুরী, ঢাকা-১৬ আসনের এমপি কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন, শেরপুর সদর আসনের এমপি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, নাজমুন নাহার নিলু এমপি, মারদিয়া মমতাজ এমপি, এনসিপির নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আল আমীন, ডা. মাহমুদা মিতু এমপি প্রমুখ।

১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক, ১১ দলীয় জোট তা চায় না। গণতন্ত্র চর্চার নতুন ধারা সৃষ্টি এবং গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই তারা রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আজকে তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাদের এই মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন। আমরা প্রতিনিধিদল সবাই একসঙ্গে উনার কনফারেন্স রুমে গিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি।’

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমাদের মনোনীত প্রার্থী ১১ দলের পক্ষ থেকে ড. কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খেতাবপ্রাপ্ত। তার মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক হচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান এমপি, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির। আর নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য আল-আমিন সমর্থক। ফরমে তারা যে সকল তথ্য-উপাত্ত চেয়েছেন, সুনিপুণভাবে ও বিশুদ্ধভাবে আমরা লিখিতভাবে পূরণ করে আজ জমা দিয়েছি। এরসঙ্গে প্রস্তাবক ও সমর্থকের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আইনে অন্য কোনো ডকুমেন্টের কথা বলা নেই। নির্দেশিকাতেও নেই। যতটুকু প্রয়োজন, তা পূরণ করে আমরা জমা দিয়েছি। আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ আমাদের প্রার্থী ব্যালট প্রার্থী হিসেবে যথাযথ যাচাইয়ের পর ১৬ তারিখের যাচাইপর্বে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হবেন। আমরা এই প্রত্যাশা রাখছি।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন নিয়ে অনেকের কৌতূহল আছে। ইতোমধ্যে পুরো জাতির মধ্যে এটি একটি আলোচিত বিষয়। কারণ বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সরকার এবং সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে সাধারণত সরকারি দলেরই একক প্রার্থী থাকে। এখানে প্রতিনিধিত্ব হয় না।’

তিনি বলেন, ‘একটি মাত্র ইতিহাস বা রেকর্ড আছে, ১৯৯১ সালে যখন সংসদে কারও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না। তখন জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে বিএনপির ১৪২ জন সংসদ সদস্য ছিল। পরে নারী আসন যোগ হয়েছে। সেখানেও দেখা গেছে, এককভাবে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী বিজয়ী করার মতো সংসদ সদস্য ভোটার বিএনপির ছিল না। সে সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদের বিরোধী দল ছিল। তারা একজন প্রার্থী দিয়েছিল, বদরুদ্দোজা চৌধুরী, যার নাম আপনারা জানেন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসকে জামায়াতসহ অন্যান্য সমর্থক সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছিলেন। এরপর আর কখনো বিরোধী দল থেকে কোনো প্রার্থী এই পদে হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এবার আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ১১ দলের বৈঠকে শীর্ষ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ড. কর্নেল অলি আহমেদকে আমরা মনোনয়ন দিয়েছি।’

কেন সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুটি প্রশ্ন আপনাদের পক্ষ থেকে আগেও এসেছিল, এখনো জাতির কাছে আলোচিত প্রশ্ন। একটা হলো, আপনাদের তো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তাহলে আপনারা কেন এখানে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন? আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছি, বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চার নতুন ধারা আমরা সৃষ্টি করছি।’

‘১৯৯১ সালে যদিও একটা সম্ভাবনা ছিল, বিএনপির আসন কম থাকায়। এখানে তো সেই সম্ভাবনাও নেই। বিএনপি আগেই নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার কলাকৌশল করে নিয়েছে। সেই কারণে তাদের সেফ সাইড আছে। এখানে আমরা জিতবো কি হারব, সেটা নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক, আমরা তা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের ধারা। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এমন একজন প্রার্থীকে আমরা এখানে মনোনয়ন দিয়েছি, যিনি জাতীয়ভাবে পরিচিত, বিতর্কের ঊর্ধ্বে এবং দেশের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি তিনবার মন্ত্রী ছিলেন, ছয়বার এমপি ছিলেন। তিনি পিএইচডি হোল্ডার, উচ্চ ডিগ্রিধারী এবং দেশের জন্য অনেক অবদান রেখে গেছেন। রাজনীতিতে আসার পর থেকেই দীর্ঘ সময় একসময়ে বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছিলেন। আবার আলাদা দল করেছেন। এখন আবার আমাদের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে রাজনীতি করছেন। আমরা আশা করছি, জাতি এটাকে অবশ্যই ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং আমাদের ১১ দলের সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করছে।

গণতন্ত্র চর্চায় সাংবিধানিক বাধা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সমস্যা হচ্ছে, গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা একটা ব্যারিয়ার তৈরি করেছে। সেটা হচ্ছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ।’

বিএনপির প্রার্থী নিয়ে তিনি বলেন, ‘আবার শুনছি, বিএনপি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ে বসছে। এখনো কাকে প্রার্থী দেবে, আমরা বা জাতি জানতে পারিনি। কারণ তাদের মধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের যে সংকট আমরা লক্ষ্য করছি, এই যে দৈন্যতার জায়গায় যোগ্য প্রার্থী দিতে না পারা, সে জায়গা থেকেও আমরা আশা করতে পারি যে কর্নেল সাহেব যোগ্য। তিনি সবার সামনে, জাতির সামনে এসেছেন।’

সচিবালয়ে রাজনৈতিক বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আর একটা বিষয় আমরা প্রতিবাদও করতে চাই। সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা। এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে, শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে, এটা অতীত রেকর্ডে আমাদের জানা নেই। এই যে কাজটি তারা করছেন, তাহলে তারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন? আমার দলের মত হলে গণতন্ত্র, না হলে স্বৈরতন্ত্র। পাঁচ মাস বা ছয় মাসের কার্যক্রম, অতীত থেকে কোনো পরিবর্তন নাই। তাদের মহাসচিব ফখরুল সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটাই জাতি জেনে গেছে। বোঝা যাচ্ছে, তারা আসলে পরিবর্তন চান না বলেই পরিবর্তন হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘পরিবর্তন যদি তারা চাইতেন, তাহলে সংসদের প্রথম শপথের দিন তারা সাংবিধানিক পরিষদে, সংস্কার পরিষদে শপথ নিতেন, অধিবেশন ডাকতেন। এর মধ্যে সংস্কার হতো, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হতো।’ ‘আমরা এখন আশাবাদী হতে চাই। পার্লামেন্টেও আমাদের সংসদ সদস্যরা বারবার বিষয়টি তুলেছেন। রাজপথেও আমরা ভূমিকা রাখছি, আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। তারা যাতে সংসদে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কাজটি করেন, অর্থাৎ গণভোটের রায় কার্যকর করেন, সেই সময় এখনো আছে। তাহলে তারা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সরকার যদি চায়, একটি অধ্যাদেশ জারি করেও এটা করতে পারে। পার্লামেন্ট যেহেতু নেই, অনেক অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে জারি করেছেন। তার সঙ্গে যদি বলতেন, সবাই মিলে যখন একমত হয়েছি, একটা অধ্যাদেশ জারি করে দেই, বাংলাদেশের গণতন্ত্র উচ্চ পর্যায় থেকে চর্চা শুরু হোক, তারাও এটা করার সুযোগ আছে।