দেশের জালানি বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার চালু করেছে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ। তবে এই অ্যাপ কাজে আসছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সার্ভার জটিলতা ও লগইন রেজিস্টার্ড নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে গত কয়দিনের মতো গতকাল সোমবারও দেখা যায় আগের মতো বাইক ও গাড়ির লাইন।
অনেক পেট্রোল পাম্পে তেল মিলছে না। যেগুলোতে মিলছে, সেগুলোতেও অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাথে বিভিন্ন পাম্পে আসে ডিপো থেকে তেলের ট্রাক। তবে গাড়ির লাইনের অবস্থা চিরচেনা। বাইকাররা বলছেন, ফুয়েল পাস অ্যাপ এখন সংকটের আরেক নাম। ফুয়েল পাস অ্যাপের কারিগরি দিকের উন্নয়নের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। এরআগে রোববার থেকে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ফুয়েল পাস অ্যাপ ব্যবস্থা চালু করে রাজধানীর সাতটি ফিলিং স্টেশন। ওই পাম্পগুলোতে তেল পেতে ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোলপাম্পে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। তেলের সীমিত সরবরাহের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রাইভেট কার নিয়ে অপেক্ষা করা মাসুম বিল্লাহ বলেন, ভোর ৬টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত অপেক্ষা করছি, কখন তেল দেবে জানি না। পাম্পের লোকজনের সঙ্গে কয়েকবার দেখা করলে তারা জানিয়েছিল, তেলের গাড়ি না আসা পর্যন্ত তেল দিতে পারবে না। আজ গাড়ি আসবে কি না তাও বলতে পারছে না। তেল যদি আসেও রাত ১০টার আগে তার তেল নেওয়া শেষ হবে না বলে তিনি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ১৫০০ টাকার তেল দেয়, এই টাকার তেল দিয়ে হয় না। ১-২ দিন পর পর তার এই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তালুকদার ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকতা নাম প্রকাশ করার না শর্তে বলেন, তেল আজ আসবে কি না জানি না। অন্যদিন এই সময় বা ৫টার মধ্যে তেল চলে আসে। কিন্তু আজ তেল এখনো আসেনি। এভাবে একটা পাম্প স্টেশন চলতে পারে না। একই পাম্পে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করা চালক রাকিব হাসান বলেন, আমি সকাল ১০টায় এসেছি। এখন ১টা বাজে, এখনো তেল পাইনি। প্রতিদিন এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব না, কিন্তু তেল না নিলে চলব কীভাবে? একজন প্রাইভেট কারচালক জানান, আগে যেখানে ১০ মিনিটে কাজ শেষ হয়ে যেত, এখন সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তেলও সীমিতভাবে দেওয়া হচ্ছে। ১৫০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না অনেক সময়। তাও আবার সারা দিন এই তেলের পেছনে চলে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে চাকরিই থাকবে না বলে জানান তিনি।
কল্যাণপুরের খালেক পাম্পে গিয়ে দেখা যায় আরও করুণ চিত্র। মোটরসাইকেল চালক জোকির হোসেন বলেন, সকালে শুনলাম তেল এসেছে, কিন্তু যখন পৌঁছালাম তখন বলে শেষ। অনেক সময় পাম্পে তেল থাকলেও পরিচিত লোকদের আগে দেওয়া হয়, এটা খুবই অন্যায়। আমাদের যে ফুয়েল পাস দিয়েছে সেটাও কাজ করছে না। আমাদের আগের নিয়মেই তেল নিতে হচ্ছে। এগুলো ভোগান্তি ছাড়া আর কিছুই না। তেল না দিতে পারলে পাম্প একবারে বন্ধ করে দিক। তাহলে আর তেল নিতে আসব না। অন্যদিকে পাম্প র্কর্তৃপক্ষও তাদের সীমাবদ্ধতার কথা বলেছেন। পাম্পের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে যে পরিমাণ তেল আসে, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। প্রতিদিন শত শত গাড়ি আসে তেল নিতে, কিন্তু আমরা দিতে পারি অল্প কিছু গাড়িকে। এতে অনেকেই ক্ষুব্ধ হন, কিন্তু আমাদের করার কিছু নেই। তেল দিতে পারলেই আমরা টাকা পাব, আমাদের ব্যবসা ভালো হবে। কেন আমরা তাদের তেল না দিয়ে ফিরিয়ে দেব।