পার্বতীপুরে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের মাদক ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে ভয়াবহ মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, প্রকাশ্যেই চলছে মাদক কেনাবেচা ও সেবন। অভিভাবক মহলে চরম উদ্দেগ ও উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।

বিগত ৫ আগস্ট খুনি ফেসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর পার্বতীপুরের আওয়ামীলীগ-এর নেতাকর্মীরা এলাকাছাড়া হলেও বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাদের ছত্রছায়ায় দাপিয়ে বেড়ানো অবৈধ মাদক সম্রাজ্যের গড ফাদারেরা বহাল তবিয়তে রয়েছে। পার্বতীপুর পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নের ওয়ার্ড সমুহে প্রায় দুই’শ ৫০ জন মাদক ব্যবসায়ী একদিনের জন্যও মাদক কেনাবেচা বন্ধ রাখেনি। ক্ষমতার পালাবদলে পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে ওই সব চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা অবাদে তাদের অবৈধ মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায় বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে পার্বতীপুরের সকল স্তরের মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের মাসোহারা তুলতো উপজেলা পর্যায়ের প্রথম সারির নেতা ও তার নিয়োগকৃত সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা। বিগত জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর থেকে পার্বতীপুরের মাদক ব্যবসা ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ ও শেল্টার দিচ্ছে স্থানীয় বিএনপি ও তার অংগ সংঘঠনের নেতাকর্মীরা। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা পর্যায়ের প্রথম সারির ওই আওয়ামী লীগ নেতার মাদক ব্যবসায়ীদের গডফাদার তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ এখনো রয়েছে বলে জানা গেছে। আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র সমর্থক মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের গডফাদারের পলাতক জীবনের কষ্ঠ লাঘব করতে সকল মাদক ব্যবসায়ীরা এখনও বিভিন্ন মাধ্যমে মাসোহারা দেয়া অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। ক্ষমতার রাজনীতির টালমাটাল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে পার্বতীপুরে আওয়ামী বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সামাজিক শক্তি সমূহ মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধে কোন ভুমিকাই রাখছেনা। সুত্র আরো জানায় আগে আওয়ামীলীগ একাই খাইতো এখন বিএনপি আওয়ামীলীগ মিলেমিশে খায়। পার্বতীপুরের মাদক ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও মাদক কেনাবেচার স্পটগুলোকে নিয়ন্ত্রন করত আওয়ামীলীগ নেতা ও সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা। এখন এ সব ব্যবসায়ী ও মাদক কেনাবেচার স্পটগুলোকে নিয়ন্ত্রন করছে বিএনপি ও তার অংগসংগঠনের মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীরা। সুত্র আরো জানায়- ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রশাসনের কোন নিরাপত্তা কর্মী রাস্তায় চোখে পড়ে না ফলে এসব মাদক ব্যবসায়ীরা মটর সাইকেল ও প্রাইভেট কার যোগে মাদক পাচারের জন্য নিরাপদ সময় হিসাবে বেচে নেয়। পার্বতীপুরের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজনের ও স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক মহলের অভিযোগ অবৈধ মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে শক্ত পদক্ষেপ না থাকায় শুধু যুবসমাজ নয় স্কুল, কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ব্যাপক হারে মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। পার্বতীপুর পৌরসভার প্রতিটি মহল্লায়, বাসাবাড়ি, রাস্তাঘাট আনাচে-কানাচে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে গাঁজা, টাপেন্ডা, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, হিরোইনসহ হরেক রকম মাদকদ্রব্য। স্কুল-কলেজে অধ্যায়ন শেষে ছাত্ররা মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রীয়তার কারণে অভিভাবকমহল চরম উদ্দ্যেগ ও উৎকন্ঠায় রয়েছে। সচেতন মহল মনে করেন আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র কতিপয় নেতাকর্মীর মধ্যে রাজনৈতিক মতাদর্শের মিল না থাকলেও মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে এদের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। বিগত জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের আগে বিএনপি’র অনেক নেতাকর্মীর আয় রোজগারের কোন পথ বা কর্ম না থাকলেও ৫ আগস্টের পর এখন তাদেরকে মটর সাইকেল ও প্রাইভেটকার নিয়ে ঘুরতে যাচ্ছে।