কুষ্টিয়ার মিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক মো. জোমারত আলী। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় মানুষের পাশে থেকে নানা ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন তিনি। তাঁর এসব কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ তাকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
আসন্ন মিরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা মজলিসে শুরা ও ইউনিট সদস্য অধ্যাপক মো. জোমারত আলী (৫৫)। দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে মিরপুরের উন্নয়ন ও জনসেবায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।
অধ্যাপক মো. জোমারত আলী মিরপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেন্টারপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মৃত জবেদ আলীর ছেলে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ইসলামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৮৩ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরের বছর তিনি ছাত্রশিবিরের কর্মী পদ লাভ করেন এবং আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৭ সালে তিনি উপজেলা সাথী শাখার সেক্রেটারি এবং ১৯৮৮ সালে উপজেলা সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল শাখার ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৮ সালে ছাত্ররাজনীতির অধ্যায় শেষ করে মিরপুর উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তিনি মিরপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি, আমীর এবং মিরপুর পৌর জামায়াতের আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্রজীবনের তিনটি মামলাও রয়েছে। এসব মামলায় তিনি প্রায় তিন মাস কারাভোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।
চলতি বছরের ১৯ মার্চ দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে অধ্যাপক জোমারত আলী মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত গণসংযোগ ও মতবিনিময় করছেন। গণসংযোগকালে তিনি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উপজেলার উন্নয়ন, জনসেবা নিশ্চিত করা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অধ্যাপক জোমারত আলীর সম্পৃক্ততা এবং মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার কারণে তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের একটি আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পেয়েছেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি।
জোমারত আলীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব পেলে মিরপুরের সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
অধ্যাপক মো. জোমারত আলী বলেন, “একজন মানুষ হিসেবে সমাজ ও মানুষের প্রতি আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। সেই দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার জায়গা থেকেই জনকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। আমি জনগণের পাশে আছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকব।”