কিশোরীদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে মানবপ্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) টিকাদান কার্যক্রমকে নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI)-এর সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে গাজীপুরে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সহযোগিতায়, ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহায়তায় এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বাস্তবায়নে এ অ্যাডভোকেসি সভার আয়োজন করা হয়।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফিরোজ আল মামুনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৪) সালমা খাতুন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. মুশফিকুর রহমান, ইউনিসেফের প্রতিনিধি ডা. লি শান্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এছাড়া সভায় সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, মসজিদ-মন্দিরের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় কিশোরীদের মধ্যে এইচপিভি টিকা গ্রহণে সচেতনতা বৃদ্ধি, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সহযোগিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকাদান একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ। নির্ধারিত বয়সের কিশোরীদের টিকার আওতায় আনতে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও সমন্বিতভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।

তারা বলেন, কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে রক্ষায় এইচপিভি টিকা সম্পর্কে সঠিক তথ্য অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে টিকা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও ভীতি দূর করে অভিভাবকদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে এইচপিভি টিকাদান কার্যক্রমের সমন্বয়, মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গাজীপুরে সমন্বিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ১০ বছর থেকে ১১ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়সী কিশোরীদের এইচপিভি টিকাদানের আওতায় আনার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হবে। এর মাধ্যমে কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।