রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : সিরাজগঞ্জ রায়গঞ্জের বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের পটভূমি ঐতিহাসিক সলঙ্গা হাটের বুক চিরে প্রবাহিত গাঢ়দহ নদীটি দখলদারদের কবলে পড়ে হারাতে বসেছে অস্তিত্ব। স্থানীয়দের দাবি প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণেই অবৈধ ভাবে নদী দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, ঐতিহাসিক সলঙ্গার বুকচিরে উত্তর দক্ষিণে প্রবাহিত নদীটির দুই তীর স্থানীয় অবৈধ দখলদার ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দখল করে মাটি ভরাট করে গড়ে তুলেছে বহুতল ভবন ও দোকান ঘর। দখলকারিদের এমন প্রতিযোগিতা প্রকাশ্য চলতে থাকলেও নীরব ভুমিকায় রয়েছে প্রশাসন। প্রাচীন এই গাঢ়দহ নদীটি অবৈধ দখলদার থেকে উদ্ধারে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনকে অনুরোধ জানান সচেতন মহল।
জানা যায়, উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের গাড়দহ নদীটি সলঙ্গা কেন্দীয় জামে মসজিদ থেকে গোজা ব্রীজ পর্যন্ত পুরোপুরি দখলদারদের কবলে পড়েছে। এই এলাকাজুড়ে নদীর পশ্চিম তীরে চলছে বেপরোয়া দখলদারিত্ব, যে যার মতো নদী দখল করে নির্মাণ করছে বড় বড় বিল্ডিং ও স্থাপনা সেই সঙ্গে ময়লা-আবর্জনায় নদীটি রীতিমতো ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এভাবে নদীটি অবৈধভাবে দখল বাজের কবলে নদীটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সলঙ্গা গোজা সেতু থেকে স্লুইসগেট পর্যন্ত যে ব্যক্তিরা নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তারা সবাই প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর। সরকারি জায়গা তারা নিজেদের ইচ্ছে মতো দখলে করে নিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে কারো প্রতিবাদ করার সাহস না থাকার কারণেই প্রকাশ্যে নদী দখলের উৎসবে মেতেছে। এভাবে দখল বাণিজ্য চলতে থাকলে ঐতিহাসিক গাঢ়দহ নদীটি মানচিত্র থেকে মুছে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানিয়রা। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানা, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশ পেলে নদী দখলকারীদের উচ্ছেদ করা হবে। এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, আমি সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।