আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতির নেতৃত্বে আসবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
গতকাল বুধবার লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার ৯নং উত্তর জয়পুর ইউনিয়নে জামায়াতের উদ্যোগে চৌপল্লী কে. ডি. উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে হোয়াইট বোর্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আলাউদ্দীন আল আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর শহর জামায়াতের সেক্রেটারি হারুনুর রশিদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন সেক্রেটারি জাহিদ হোসাইন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ।
ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো ছাত্রদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দেওয়া। কিন্তু অতীতের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী আমলে এ দেশের নতুন প্রজন্মকে শিক্ষাবঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের আত্মপরিচয়কে মুছে দিয়ে ধর্মহীন, বস্তুবাদী চিন্তাচেতনায় অভ্যস্ত করার ষড়যন্ত্র করা হয়। অথচ ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে অবৈধ শাসকগোষ্ঠীকে বিদায় নিতে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অর্জিত বিজয়কে টেকসই করতে শিক্ষার্থীদের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দীপনায় উজ্জীবিত করে তিনি বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনের কা-ারি। কবি যেমন বলেছেন, ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে’। তাই জাতির ভবিষ্যৎ গঠনে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার জন্য রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল হতে হবে।’ তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘পতিত শাসকগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের বদলে তাদের ওপর গুলী চালিয়ে দেশকে রক্তাক্ত করেছে। ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ আন্দোলনের মুখে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এই গণহত্যাকারীদের বিচার না করলে ভবিষ্যতে তারা আবার সহিংস রূপ ধারণ করতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে ড. রেজাউল করিম বলেন, এ সরকার গণআন্দোলনের ফসল। জনগণ আর স্বৈরতন্ত্র বা ফ্যাসীবাদ চায় না। তারা শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও আইনের শাসনের সমাজ চায়। তাই সরকারের উচিত নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা এবং জনআকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।