সাতকানিয়া সংবাদদাতা : দীর্ঘ ১৫৫ কিলোমিটারের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের প্রতিটি বাকঁই যেন মরণফাঁদ। দেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের সাথে সংযুক্ত ব্যস্ততম সড়কটিতে একের পর এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রতি বছরই প্রাণ হারাচ্ছে শত শত মানুষ। সর্বশেষ গত বুধবার জাঙ্গালিয়া এলাকায় মাইক্রোবাস ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে একই পরিবারের একাধিক সদস্যসহ ১০ জন নিহত হওয়ার পর টনক নড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের। দূর্ঘটনাস্থল পরির্দশনে আসেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকা’র অর্থায়নে ১৪৮ কিলোমিটার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। আগামী সেপ্টেম্বরে এ কাজ শেষ হলে প্রকল্প প্রস্তুত করে দরপত্র আহবান করা হবে। তার মতে, আগামী ২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে চার লেন সড়ক উন্নতির কাজ শুরু হতে পারে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার দেশের ব্যস্ততম মহাসড়কের একটি। এর বেশির ভাগ অংশের প্রশস্ততা মাত্র ১৮-৩৪ ফুট। ফলে দূরপাল্লার গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে না। অতিরিক্ত বাঁক, উপসড়ক থেকে যত্রতত্র ছোট বড় গাড়ি মহাসড়কে উঠে আসার কারণে সড়কটি হয়ে উঠেছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা প্রবণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পলিথিন বিহীন ট্রাক ভর্তি লবণ পরিবহন। যেটি সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলায় উৎপাদিত লবণ। যার কারণে রাতের কুয়াশার সাথে লবণ পানি একাকার হয়ে সড়কটি মারাত্মক পিচ্ছিল করে তুলছে। এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটির অত্যাধিক ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কের হাশমতের দোকান, ঠাকুরদীঘি, উপজেলার পদুয়া, লোহাগাড়া শহর, আধুনগর, হাজি রাস্তা, চুনতি, জাঙ্গালিয়া এলাকা, চকরিয়া অংশের ইসলাম নগর ইমাম বুখারী মাদরাসা এলাকা, বানিয়ারছড়া ওরি আমগাছ তলা, হারবাং লালব্রীজ এলাকা আজিজ নগর, চকরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এলাকা, লক্ষ্যারচর জিদ্দা বাজার টার্নিং পয়েন্ট, মালুমঘাটের রিংভং ছগিরশাহকাটা ঢালা, ডুলাহাজারার পাগলিরবিল, খুটাখালী জাতীয় উদ্যান, নাপিত খালী, রামু রাবার বাগান, ঝিলংজার পূর্ব খরুলিয়া, মুক্তারকুল ও কক্সবাজার শহরের প্রবেশদ্বার খ্যাত ডলফিন মোড়। তার মধ্যে গত ছয় মাসে ৬৩টি দূর্ঘটনা সংগঠিত হয় লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায়। এতে ২৯জনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গত বুধবার সকাল সাদে সাতটার সময় সংগঠিত দূর্ঘটনায় মারা যায় নারী শিশুসহ ১০ জন। দূঘৃটনার চারদিন পর চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক এক নারীর মৃত্যু হলে এই দূর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাড়ায় ১১ জন এ। বিআরটিএ চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেল-২ এর মোটরযান পরিদর্শক মো. রেজোয়ান শাহ বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরু এ সড়কে আছে বেশ কয়েকটি বিপজ্জনক বাঁক। সড়কটি চার লেন করা হলে দুর্ঘটনা কমে যেত। বুধবার সড়ক দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ওই সময় ৬টি কারন চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মতে, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, দুই পাশে ঘন বনাঞ্চল, লবণবাহী ট্রাক থেকে নিঃসৃত পানি, অপ্রশস্ত সড়ক, জাঙ্গালিয়ার সড়ক ঢালু এবং দূরপাল্লার গাড়িচালকদের অভিজ্ঞতা নেই এ সড়কে যান চলাচলে। লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার রাখাল চন্দ্র রুদ্র জানান, ঈদের ছুটিতে তিন দিনে মহাসড়কের এ অংশে তিনটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার জন্য আমরা বেশকিছু কারণ চিহ্নিত করেছি। লবণপানি সড়কে পড়ে পিচ্ছিল হওয়া, বিপজ্জনক বাঁক, অন্য জেলার চালকদের এ সড়কে গাড়ি চালনোর অভিজ্ঞতা না থাকা অন্যতম কারণ। সূত্র জানায় সোমবার ভোরে জাঙ্গালিয়া এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয় কিশোরসহ ৫ জন। পরের দিন মঙ্গলবার একই স্থানে ঘটে আবারো দূর্ঘটনা। একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে এতে ৯জন গুরুতর আহত হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ দূর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকাল সাড়ে সাতটার সময়। যাত্রীবাহী বাসের সাথে মাইক্রোবাসনের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ৭ জন, লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন মিলিয়ে ঐদিনই মোট ১০জন নিহত হয়েছিল। সর্বশেষ ঐ দূর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় গতকাল শুক্রবার মারা গেলো প্রেমা নামের আরো এক কিশোরী। এ নিয়ে ওই দূর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাড়ালো ১১ জন। সড়ক দূর্ঘটনারোধে ব্যবস্থা নিতে সরব রাজনৈতিক দলগুলো: উক্ত সড়কে বার বার দূর্ঘটনা সংগঠিত হয়ে প্রাণহানী হওয়ায় সড়ক দূর্ঘটনারোধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবী জানিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এলডিপি।
গ্রাম-গঞ্জ-শহর
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ২১ পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ ॥ দুর্ঘটনা বাড়ছে
দীর্ঘ ১৫৫ কিলোমিটারের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের প্রতিটি বাকঁই যেন মরণফাঁদ। দেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের সাথে সংযুক্ত ব্যস্ততম সড়কটিতে একের পর এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রতি বছরই প্রাণ হারাচ্ছে শত শত মানুষ।