জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। বিএনপিও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতো একই পথে হাঁটছে। জনগণের গণরায় নিয়ে কোনো ধরনের তালবাহানা করলে আওয়ামী লীগের মতোই তাদেরও পরিণতি হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে নাটোর শহরের জেলা পরিষদ হল মিলনায়তনে নাটোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ইউনিট দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো একই পথে হাঁটছে। এ কারণে বিএনপিকেও তাদের অপকর্মের কারণে একই পথে যেতে হবে।” তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীকে বাতিল করেছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে তারাই বিদায় হয়েছে।

তিনি দলের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিটি ইউনিটকে শক্তিশালী করতে হলে দায়িত্বশীলদের শক্তিশালী ইউনিট গড়ে তুলতে হবে। শক্তিশালী ইউনিট গঠন করতে পারলে নির্বাচনে কোনো ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং করার সাহস কেউ পাবে না।

জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় উল্লেখ করে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সবার আগে পরিবারকে ইসলামভিত্তিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। এরপর শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া-মহল্লায় ইসলামের গণভিত্তি রচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে জামায়াতের সব সিনিয়র নেতাকে প্রহসনের রায় দিয়ে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। তারপরও দলের পথচলা বিন্দুমাত্র থেমে থাকেনি। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এ পথচলা অব্যাহত থাকবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কিছুটা স্বচ্ছতা থাকলেও জাতীয় নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। সেখানে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্বের আচরণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের উদ্দেশে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “জনগণের গণরায় নিয়ে কোনো রকম তালবাহানা করবেন না। অনতিবিলম্বে জনগণের গণরায় মেনে নিন। অন্যথায় জনগণ আপনাদেরকে আওয়ামী সরকারের মতো বিদায় করবে।”

তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বাংলার এই জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” এ জন্য সব ধরনের পথ, মত ও মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. মীর নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক সাদেকুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ও প্রফেসর ড. আবুল হাশেম।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক ইউনুস আলী ও অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন খান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি আতিকুল ইসলাম রাসেল, শহর আমীর মাওলানা রাশেদুল ইসলাম রাশেদসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।