সকাল হলেই জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হন মানুষ। কেউ ছুটছেন কর্মস্থলে, কেউ বাজারে, কেউ সন্তানকে নিয়ে স্কুলে। ব্যস্ততম মাওনা চৌরাস্তা তখন মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। যানবাহন, পথচারী আর ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততায় জমজমাট থাকে পুরো এলাকা। কিন্তু সেই ব্যস্ততার মধ্যেই ওত পেতে থাকে চোর-ছিনতাইকারীরা। কারও পকেট, কারও ব্যাগ, আবার কারও ভ্যানিটি ব্যাগ-এক মুহূর্তের অসতর্কতাই যেন ডেকে আনছে সর্বনাশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন উপজেলার কোথাও না কোথাও চুরি, ছিনতাই কিংবা ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। কখনো ব্যস্ত সড়কে পথচারীর ব্যাগ কেটে টাকা ও মোবাইল নিয়ে যাচ্ছে চোরচক্র। কখনো গভীর রাতে মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে চুরি করা হচ্ছে মূল্যবান মালামাল। আবার কোনো কোনো রাতে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুটে নেওয়া হচ্ছে সারা জীবনের সঞ্চয়।

একের পর এক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। সন্ধ্যার পর অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, কৃষক থেকে শুরু করে নারী ও বয়স্ক মানুষ-কারও মধ্যেই যেন স্বস্তি নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরাধের ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় মাওনা চৌরাস্তা ছিল মানুষের ভিড়ে ঠাসা। উড়ালসেতুর নিচ দিয়ে চলছিল ব্যস্ত মানুষের আনাগোনা। দোকানপাট ও মার্কেটগুলোতেও ছিল ক্রেতাদের ভিড়। আর এই জনসমাগমের সুযোগেই এক নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ কেটে প্রায় ১০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে চোরচক্রের বিরুদ্ধে।

হতভম্ব ওই নারী বুঝতেই পারেননি কখন তার ব্যাগ কেটে টাকা ও মোবাইল নিয়ে গেছে চোর। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে তাকে ছুটতে হয় পুলিশ বক্সে।

স্থানীয়রা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মাওনা চৌরাস্তার মতো ব্যস্ততম এলাকায় প্রায়ই কারও পকেট কাটা যাচ্ছে, আবার কারও ব্যাগ কেটে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। দিনের ব্যস্ত সময়ে মানুষের ভিড়ের মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের ঠেকাতে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা।

তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল, সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন এবং সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

শুধু জনবহুল সড়ক কিংবা বাজার নয়, চোরের হাত থেকে নিরাপদ নয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও।

২০ আগস্ট রাত। শ্রীপুর পৌরসভার লোহাগাছ পূর্বপাড়া শাহী জামে মসজিদে নেমে আসে নীরবতা। রাতের নামাজ শেষে মুসল্লিরা যার যার ঘরে ফিরে যান। আর সেই সুযোগে চোরের দল মসজিদের জানালার গ্লাস খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

একটি মসজিদের জানালার গ্লাসও যদি চোরের হাত থেকে নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা সম্পদ নিয়ে কোথায় নিরাপত্তার ভরসা করবে-এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে চুরির মতো ঘটনায় শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতিও আরও তীব্র হয়।

শ্রীপুরের মানুষের আতঙ্কের আরেকটি ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে গোসিংগা ইউনিয়নের পাঁচলটিয়া গ্রামে।

গত ৬ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা। দিনের পরিশ্রম শেষে গভীর ঘুমে ছিলেন ছামাদ মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যরা। চারপাশে তখন গভীর নীরবতা। হঠাৎ দরজায় প্রচণ্ড আঘাতের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় পরিবারের সদস্যদের।

অভিযোগ রয়েছে, একদল ডাকাত পুরোনো দিনের কৃষি উপকরণ ‘ঢেঁকি’ দিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে বেঁধে ফেলে তারা।

বৃদ্ধ ছামাদ মোল্লা ও তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের চোখের সামনে তছনছ করা হয় ঘর। প্রাণের ভয়ে কেউ কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। একপর্যায়ে ডাকাতরা নিয়ে যায় প্রায় ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ এক লাখ টাকা ও কয়েকটি মোবাইল ফোন।

একটি পরিবারের কাছে এসব শুধু টাকা-পয়সা বা স্বর্ণালংকার নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বছরের পর বছর কষ্ট, সঞ্চয়, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন। এক রাতের ডাকাতিতে সেই সঞ্চয় হারিয়ে পরিবারটি শুধু আর্থিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, তাদের মনে তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তাহীনতা।

স্থানীয়দের দাবি, রাতের বেলায় প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে পুলিশের টহল আরও জোরদার করা না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

শ্রীপুরের জিওসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা ভেঙে দুটি সিলিং ফ্যান ও বৈদ্যুতিক সংযোগের তার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চুরি যাওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ১১ হাজার টাকা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হোসাইন জানান, ১৩ আগস্ট বিকেলে বিদ্যালয় বন্ধ করে যাওয়ার পর ১৬ আগস্ট সকালে এসে তারা চুরির বিষয়টি দেখতে পান। পরে ১৯ আগস্ট শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এর আগেও বিদ্যালয়টিতে কয়েকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বারবার চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেখানে একটি বিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানও নিরাপদ নয়, সেখানে সাধারণ মানুষ নিজেদের সম্পদ নিয়ে কতটা নিরাপদ?

মানুষের পাশাপাশি এবার গবাদিপশু চুরির অভিযোগও উঠেছে।

১৯ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে বরমী ইউনিয়নের ব্রাইদ এলাকায় একটি গরু বাছুরসহ চুরির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারী মো. সাদীরের দাবি, মামুনসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন প্রায় ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের গরুটি বাছুরসহ নিয়ে যায়।

গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে একটি গরু শুধু গবাদিপশু নয়। অনেক কৃষক পরিবারের কাছে এটি দীর্ঘদিনের সঞ্চয়, সংসারের প্রয়োজন মেটানোর অবলম্বন কিংবা সন্তানের পড়াশোনা ও চিকিৎসার খরচ জোগাড়ের অন্যতম ভরসা। সেই গরু চুরি হয়ে গেলে ক্ষতিটা শুধু টাকার অঙ্কে মাপা যায় না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চুরি-ছিনতাইয়ের পাশাপাশি গবাদিপশু চুরির ঘটনাও নিয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ করেও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ এভাবে একের পর এক চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় শ্রীপুরের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কোনো ঘটনা ঘটার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ তা যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ একদিকে সর্বস্ব হারাচ্ছেন, অন্যদিকে দ্রুত প্রতিকার পাওয়ার আশাও হারাচ্ছেন।

তাদের প্রশ্ন-“চুরি যাওয়ার পর যদি প্রতিকার না মেলে, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনেক এলাকায় পুলিশের নিয়মিত টহল না থাকায় অপরাধীরা সহজেই সুযোগ নিচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় প্রত্যন্ত গ্রাম, বাজারের আশপাশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নির্জন সড়কে নজরদারি কম থাকায় অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে তাদের দাবি।

স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ও মাদকাসক্ত যুবকদের নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে ছোটখাটো চুরি থেকে শুরু করে বড় ধরনের অপরাধেও জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, থানার সামনে মানববন্ধন

ক্রমবর্ধমান চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীপুর মডেল থানার সামনে মানববন্ধন করেন দুই শতাধিক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, চুরি-ছিনতাই বা ডাকাতির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও অনেক সময় তা যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। এতে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

মানববন্ধন থেকে দ্রুত প্রতিটি অভিযোগ তদন্ত করা, চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, বাজার ও গ্রামাঞ্চলে পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের কণ্ঠে ছিল ক্ষোভের পাশাপাশি নিরাপত্তার আকুতি। তাদের বক্তব্য-তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না; তারা শুধু চান নিজের ঘর, নিজের সম্পদ এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে।

“রাতের ঘর থেকে দিনের ব্যস্ত রাস্তা-কোথাও নিরাপত্তা নেই”

স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রীপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এখন নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। কারণ চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা শুধু রাতের অন্ধকারে সীমাবদ্ধ নেই; দিনের ব্যস্ততম সড়কেও মানুষ চোরের কবলে পড়ছেন। আবার রাতের বেলায় বাড়িতে ঢুকে ডাকাতির ঘটনাও ঘটছে। মসজিদ, স্কুল, গবাদিপশু-কিছুই যেন চোরের হাত থেকে নিরাপদ নয়।

ফলে শ্রীপুরবাসীর মধ্যে এখন এক ধরনের অদৃশ্য আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে রাতে ঘুমানোর আগে ঘরের দরজা-জানালা বারবার পরীক্ষা করছেন। কেউ কেউ বাড়ির বাইরে থাকা গবাদিপশু নিয়ে চিন্তায় থাকছেন। আবার কর্মজীবী মানুষ দিনের বেলায় বাজার বা কর্মস্থলে যাওয়ার সময় পকেট, ব্যাগ ও মোবাইল ফোন নিয়ে সতর্ক থাকছেন।

শ্রীপুরবাসীর এখন একটাই প্রশ্ন-রাতের ঘর থেকে দিনের ব্যস্ত রাস্তা, মসজিদ থেকে স্কুল-কোথাও যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকবে কোথায়?

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, “অনেক সময় পুলিশকে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। আসলে এলাকার মানুষ লাখ লাখ টাকার গরু পাহারা না দিয়ে অল্প কিছু টাকার লিচু পাহারা দেয়।”

তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকায় রাতে অপরিচিত কাউকে দেখা গেলে তার পরিচয় জানতে হবে। কোনো ব্যক্তিকে সন্দেহজনক মনে হলে দ্রুত পুলিশকে খবর দিতে হবে। পুলিশকে তথ্য দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ওসি শাহীনুর আলম আরও বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন থাকতে হবে। এলাকার কোথাও সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গতিবিধি দেখা গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হবে।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, “আপনারা সহযোগিতা করবেন। যদি কোনো ঘটনায় কেউ অভিযোগ করার পর পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে না গেলে আমাকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে না গেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে তা খতিয়ে দেখা হবে। শ্রীপুরবাসীর প্রত্যাশা একটাই-চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির আতঙ্ক নয়, নিরাপদ পরিবেশে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার অধিকার নিশ্চিত হোক।