মো. খোরশেদ আলম কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : এক সময় গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ছিল গরু দিয়ে হাল চাষ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন বিলুপ্তির পথে এই পদ্ধতি। এই হালচাষের পরিবর্তে এখন ট্রাক্টর অথবা পাওয়ার টিলার দিয়ে অল্প সময়ে জমি চাষ করা হয়। অথচ দুই যুগ আগেও নিজের সামান্য জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে হালচাষ করে সংসারের ব্যয়ভার বহন করত গ্রামের দরিদ্র মানুষ। প্রতিদিন কাক ডাকা ভোরে কৃষকরা গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল নিয়ে মাঠে বেরিয়ে পড়তেন। আর গানে গানে মুখরিত হতো গ্রাম বাংলার মাঠ। এ দৃশ্য এখন আর তেমন একটা চোখে পড়ে না। জমি চাষের প্রয়োজন হলে অল্প সময়ের মধ্যেই পাওয়ার টিলার চলে আসছে। এতে শ্রম ও সময় দুইটাই বেঁচে যাচ্ছে কৃষকদের। ফলে গরু দিয়ে হাল চাষ ছেড়ে ঝুঁকে পড়েছে ট্রাক্টর অথবা পাওয়ার টিলারের দিকে।
কলারোয়া উপজেলার গ্রামগুলো থেকে প্রায় বিলুপ্তি হতে চলেছে এই পদ্ধতি। গরু দিয়ে জমি চাষ ঐতিহ্যবাহী ও একটি সনাতনি পদ্ধতি হলেও এর অনেক উপকারীতা ছিল। লাঙলের ফলা জমির অনেক গভীর অংশ পর্যন্ত আলগা করতো। গরুর পায়ের ক্ষুরে জমিতে কাদা হতো অনেক। গরুর গোবর পড়ে জমির উর্বরতা শক্তি অনেক বৃদ্ধি পেতো।
কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস এম ইনামুল হক বলেন, কৃষিতে শ্রমিকের ঘাটতি নিরসনে এবং দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করার জন্যই কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করা হয়েছে। এক সময় গরু ও লাঙ্গল দিয়ে হালচাষ করা হতো। এখন প্রায় অধিকাংশ কার্যক্রম যন্ত্রের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। কৃষকদের জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ধান প্যাকেটজাত কারণে সকল কাজই অত্যাধুনিক কৃষিযন্ত্রের মাধ্যমে সহজ ও দ্রুততার সঙ্গে করা হচ্ছে। এতে শ্রম ও সময় দুটোই কম লাগে।