নুুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুারো : ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এখন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. মাসুদ হাসান জুয়েল। তিনি গত বছরের ১০ নবেম্বর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে যোগদান করেন। লোকমুখে প্রচারিত রয়েছে বড় অংকের টাকার লেনদেনের মাধ্যমে এ পদে যোগ দিয়েছেন।

চট্টগ্রামের ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে চট্টগ্রামের কোটায় চাকরি নিয়েছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. মাসুদুর রহমান। তিনি গত ১০ নবেম্বর ২০২৪ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে যোগদান করেন। প্রাপ্ত অভিযোগে প্রকাশ: তার স্থায়ী ঠিকানা ধানমন্ডি রোড, থানা: কোতোয়ালী, জেলা: কুমিল্লাতে অবস্থিত হলেও তিনি চট্টগ্রামের মুরাদপুরের ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তরে যোগদান করেন।

জানা যায়, মো. মাসুদ হাসান জুয়েল কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ফুলতলী গ্রামের ভূইয়া বাড়ির জনৈক মনিরুল হক ভূইয়ার পুত্র। তিনি ২০০৮ সালে ছাত্রজীবনে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

তার আপন বড় বোনের জামাই প্রাক্তন সহ: প্রধান কারারক্ষী শাহীন কুমিল্লা কারাগারে কর্মরত থাকাকালীন ১ লক্ষ পিস ইয়াবাসহ আটক হবার কারণে চাকুরীচ্যুত হন এবং জেল খাটেন।

প্রাপ্ত অভিযোগে আরও প্রকাশ, পরবর্তী সময়ে জেলার মো: মাসুদ হাসান জুয়েল এর আপন ভাই মোহাম্মদ নাজমুল হোসেন কুমিল্লা নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হন।

তার আপন মামাতো ভাই মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (ডিস ব্যবসায়ী), কুমিল্লার সাবেক এমপি বাহারের ঘনিষ্ট জন হিসেবে স্থানীয়দের কাছে পরিচিতি রয়েছে।

গোপন সূত্রে জানা যায়, জেলার মোহাম্মদ মাসুদ হাসান এর ভাই মোহাম্মদ নাজমুল হোসেন ও মামাতো ভাই মোহাম্মদ সালাউদ্দিন কুমিল্লা থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামের কারা অধিদপ্তরের জেলারের সরকারি বাসভবনে গত দুই মাস ধরে আত্মগোপন ছিলেন। তিনি বর্তমান ভারতে অবস্থান করেছেন। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনার সঙ্গে ভারতে দেখা করতে গেছেন তিনি।

লোকমুখে প্রচলিত আছে, প্রায় কোটি টাকা লেনদেনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম কারাগারে পোস্টিং নেন জেলার মোহাম্মদ মাসুদ হাসান। কারাগার সূত্র জানায়, তিনি নিজে এককভাবে কারাগারের ক্যান্টিন পরিচালনা করেন। অতীতে ক্যান্টিনের বাজার-সদাই কারারক্ষীরা করে থাকলেও বর্তমান কারাগারের সকল বাজার জেলার নিজে করেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম কারাগারের ক্যান্টিনে ৭০ লাখ টাকা লাভ হয় বলে প্রচারিত আছে। কিন্তু জেলার ২০ লাখ টাকা লাভ দেখান। লাভের বাকি ৫০ লাখ টাকা পদস্থরা ভাগাভাগি করেন।

জেলার মোহাম্মদ মাসুদ হাসান চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে কারাগারের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করে থাকেন। এ কাজে চট্টগ্রাম কারাগারের আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী বলে পরিচিত ঠিকাদার আলম ও বর্তমান জেলারের মামাতো ভাই মোহাম্মদ সালাউদ্দিন লেনদেনের বিষয়টি দফারফা করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এ অনৈতিক সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা বিচারাধীন বন্দী সাবেক এমপি লতিফ, সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, সাবেক এমপি আবু রেজা মো: নেজামুদ্দিন নদভী, সাবেক পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম ও টেকনাফ এর সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদি।

জেলখানা সংলগ্ন জেল রোডের আমানত শাহ(র.) মাজারের পাশে ঠিকাদার আলমের বাড়িতে বন্দীদের প্রতিনিধির সাথে চট্টগ্রাম কারাগারের পদস্থ ব্যক্তি গোপন বৈঠক করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কারাগারের একটি সূত্র জানায়, এদিকে মো. এমরান (৩২),পিতা-মৃত আব্দুস ছামাদ, সাং-সেকেন্দার চেয়ারম্যান ঘাট,রমজান আলীর বাপেরবাড়ি, থানা-বাকলিয়া,জেলা চট্টগ্রাম, এই আসামী ১ মে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ঠিকাদার আলমের মাধ্যমে জেলার মোহাম্মদ মাসুদ হাসান আসামীর বাড়ি গিয়ে পুলিশের সহযোগীতা নিয়ে আসামীকে ধরে নিয়ে আসেন। টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেস্টা করেন।

আসামী মো. এমরান এর পলায়নের ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে গত ১০ মে। কমিটিতে কারা কারা রয়েছেন তা জানাতে কারাগার সূত্র অপারগতা জানিয়েছে।

এই বিষয় বক্তব্য নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ হাসান জুয়েলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। কল না ধরায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।