বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের পরাজয়ের পেছনে দলের কিছু নেতা-কর্মীর ভূমিকা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি অভিযোগ করেছেন, দিনে বিএনপি করলেও রাতে গুপ্ত ষড়যন্ত্র করে দলের প্রার্থীদের হারানো হয়েছিল।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা পরাজিত হন। চারটি আসনেই জয় পান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।
সভায় এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, চারজন সংসদ সদস্যকে হারানোর পেছনে দলের কিছু নেতা-কর্মী ‘মুখ্য ভূমিকা’ পালন করেছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চারজন এমপিকে হারানোর জন্য আপনারা ষড়যন্ত্র করেছেন।’
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘চারজন এমপিকে হারানোর জন্য দিনে বিএনপি, রাতে গুপ্ত ষড়যন্ত্র করেছেন। আমার কাছে সবার আমলনামা আছে।’ কারও প্রয়োজন হলে এসব তথ্য নিয়ে তিনি একান্তে কথা বলবেন বলেও জানান।
দলের মধ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দলীয় সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় দল একজনকে মনোনয়ন দিলে সবাইকে তাঁর পক্ষে কাজ করতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘদিনের অর্জন নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, ‘রাজনীতি খুব নিষ্ঠুর জায়গা।’ দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কাউকে দল সমর্থন করবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় নেতা-কর্মীদের বক্তব্যের সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, অনেকেই বক্তব্যে বারবার ‘আমি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন—‘আমি সব করেছি, আমিই ত্যাগ করেছি, আমি নির্যাতিত হয়েছি’। অথচ বিএনপির মৌলিক আদর্শের জায়গা হলো ‘আমরা’।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বক্তব্য ছিল—‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়।’ তাই দলের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের ‘আমিত্বকে আমরাতে রূপান্তরিত’ করতে হবে। এটি করতে পারলে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো নেতা-কর্মী যত ত্যাগী বা দলের প্রতি নিবেদিতই হোন না কেন, এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাঁকে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।