স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর: কুয়েটের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার জেরে টঙ্গী তাথমীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার এক ছাত্রকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় জনতা ঘটনাস্থল থেকে এক ছাত্রদল কর্মীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
আহত শিক্ষার্থীর নাম ফজলে রাব্বি (১৮)। তিনি টঙ্গী তাথমীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের ওয়ার্ড সভাপতি। অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীর নাম জুনায়েদ আহম্মেদ মামুন (১৮), যিনি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার রসুলপুরের বাসিন্দা।
ফজলে রাব্বির অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় ছাত্রদল কর্মী মামুন তাকে মাদরাসার দক্ষিণ পাশের সিএনজি পাম্পে আসতে বলে। যেতে রাজি না হলে তাকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে সেখানে গেলে ছাত্রদল কর্মীরা তাকে টেনে নিয়ে গিয়ে বাঁশপট্টির একটি ঘরে আটকে রাখে।
প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রেখে তাকে মারধর করা হয় এবং হাতে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। পরে তাকে শিবির না করার মর্মে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়। এ ছাড়া পরিবারের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টাও করা হয়। একপর্যায়ে তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করা হলে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে এবং হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। জনতা মামুনকে ধরে পুলিশে দেয়।
এ ঘটনায় ফজলে রাব্বি বাদী হয়ে রাতেই টঙ্গী পূর্ব থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় টঙ্গী পূর্ব থানা ছাত্রদলের সভাপতিপ্রার্থী ফজলে রাব্বিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তার নেতৃত্বেই ওই এলাকায় মাদক ও ছিনতাই চক্র সক্রিয়।
অপর আসামিরা হলেন জুনায়েদ আহম্মেদ মামুন, সামি শিকদার, সাজ্জাদ, নাহিয়ান, রাশেদ আহম্মেদ, নাবিউল ও মাহফুজ। মামুনের ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার এবং মাদক সেবনের একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
হামলার প্রতিবাদে তাথমীরুল মিল্লাত মাদরাসার শিক্ষার্থীরা রাতেই মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে তারা মাদরাসার সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা থানায় ছুটে যান। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এইচ এম আবু জাফর, গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর, সাধারণ সম্পাদক মিরণের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা থানায় উপস্থিত হন। তারা দাবি করেন, আটক মামুন ছাত্রদল কর্মী নন এবং ঘটনাটি নারীসংক্রান্ত বিরোধ থেকে ঘটেছে। তবে ভিকটিম ফজলে রাব্বি এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান জানান, "কুয়েটের ঘটনার প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে ফজলে রাব্বির ওপর হামলা চালানো হয়। স্থানীয়রা একজনকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।"
টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, "কে শিবির, কে ছাত্রদল তা নয়, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।