বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী: পদ্মা নদীর অন্যতম শাখা বড়াল নদী নিয়ে যেনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো শেষ নেই। এতে আবারো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

বড়াল নদী রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলার পদ্মা নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে রাজশাহী জেলার চারঘাট, পুঠিয়া এবং নাটোর উপজেলার বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম এবং পাবনা জেলার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাগমারা উপজেলার আত্রাই নদীতে পতিত হয়েছে। এছাড়া বড়াল নদী হতে হাপানীয়া নামক স্থানে নারদ নদ, পুরাতন নারদ নদ, নন্দকুজা নদী উৎপন্ন হয়েছে। কিন্তু একসময়ের প্রমত্তা বড়াল নদী আজ হারাতে বসেছে তার গৌরবময় ঐতিহ্য। অপরিকল্পিত খনন, রেগুলেটর নির্মাণ, অবৈধ দখল আর দীর্ঘদিনের অবহেলায় নদীটি আজ প্রায় মৃতপ্রায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন সময়ে নেয়া উদ্যোগগুলোর কোনো কার্যকর প্রভাব পড়েনি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে।

নদীতীরবর্তী এলাকাবাসীরা জানান, নদীর স্রোতধারা সচল রাখতে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বড়াল নদীর ইনটেক চ্যানেল খনন প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রায় ১৩ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯.১০ কিলোমিটার এলাকায় খননকাজ সম্পন্ন হয় ২০১০ সালে। তবে প্রকৃত মোহনা থেকে কিছুটা দূরে খনন হওয়ায় কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যায়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমেও বড়ালে পানি কম থাকে, আর শুষ্ক মৌসুমে মোহনা হয়ে পড়ে পানিশূন্য। নদীর দুপাশজুড়ে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি থাকলেও পানি সংকটে পড়ছেন কৃষকরা।

এদিকে নতুন করে এতে আবারো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে পাউবো। এর আওতায় ১৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বড়াল নদী, ৭২.৬৩ কি.মি. দীর্ঘ নারদ নদ এবং ৫.৬০ কি.মি. দীর্ঘ মুসা খাঁ নদী পুনখননের মাধ্যমে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পাদন করা হয়েছে। সমীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুমোদিত হয়। এই প্রতিবেদনে বড়াল নদী এবং এর অববাহিকায় পানি সম্পদের ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সুপারিশমালা প্রণয়ন করে। এর মধ্যে রয়েছে, বড়াল নদীর নিষ্কাশন ক্ষমতা এবং সেচের পানি ধারণ ক্ষমতার উন্নয়নে উৎসমুখ হতে (পদ্মা নদী হতে) ১০৫ কি.মি. পুনঃখনন, নারদ নদের নিষ্কাশন ক্ষমতা এবং সেচের পানি ধারণ ক্ষমতার উন্নয়নে বড়াল নদীতে এর উৎসমুখ হতে ৪৩.৬৩ কি.মি. পুনঃখনন, মুসা খাঁ নদীর নিষ্কাশন ক্ষমতা এবং সেচের পানি ধারণ ক্ষমতার উন্নয়নে বড়াল নদীতে এর উৎসমুখ হতে ৫.৫৯ কি.মি. পুনঃখনন, বড়াল নদীর চারঘাটে বিদ্যমান রেগুলেটরের পাশে অতিরিক্ত তিন ভেন্ট নিষ্কাশন অবকাঠামো নির্মাণ, নারদ, বড়াল এবং মুসা খাঁ নদীতে সরকারি বিভিন্ন বিভাগ কর্তৃক নির্মিত অপ্রশস্ত ও অপরিকল্পিত ২৬টি ব্রিজ অপসারণ ও পুনঃনির্মাণ, নাটোর শহর এলাকায় নারদ নদের দুই তীরে ২০ কি.মি. ওয়াক-ওয়েসহ তীর সংরক্ষণ কাজ। এছাড়া দ্বিতীয় পর্যায়ে বড়াল নদীর অববাহিকার উন্নয়নে নদীর অবশিষ্টাংশের পুনঃখনন এবং বড়াল নদীর আটঘরিয়া নামক স্থানে দুই কি.মি. লুপকাট এবং প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ প্রকল্পটির অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।