ফটিকছড়ি সংবাদদাতা : আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অনুপস্থিতির কারণে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সেখানে প্রশাসক বসানো হয়। আবার অনেক ইউপি সদস্য নিয়মিত কার্যালয়ে আসছেন না। ফলে এসব ইউনিয়নের নানাবিধ নাগরিক সেবা কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। বঞ্চিত হচ্ছেন কাঙ্কিত সব সেবা থেকে।
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় সেবা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ। ফলে ট্রেড লাইসেন্স, জাতীয়তার সনদ, প্রত্যয়ন ও জন্ম-মৃত্যু সনদের কার্যক্রমসহ সব ক্ষেত্রে স্থবিরতা বিরাজ করছে। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও সেবা নিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
এসব ইউনিয়নে চেয়াম্যানসহ নারী-পুরুষ ৭৮ সদস্যের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত অনেকেই স্ব-স্ব ইউপি কার্যালয়ে আসছেন না। ফলে এর প্রভাব পড়েছে জনসাধারণের ওপর। কারণ ঠিকমতো নানা ধরনের কাজের মনিটরিং হচ্ছে না।
অনুপস্থিত চেয়ারম্যানদের মধ্যে বাগান বাজার ইউনিয়নের মো. শাহাদাত হোসেন সাজু, দাঁতমারা ইউনিয়নের মো. জানে আলম, নারায়ণহাট ইউনিয়নের আবু জাফর মাহমুদ, কাঞ্চনগর ইউনিয়নের মো. দিদারুল আলম, সুন্দপুর ইউনিয়নের মো. শাহনেওয়াজ চৌধুরী এবং সুয়াবিল ইউনিয়নের মো. জয়নাল আবেদিন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাদের অনুপস্থিতিতে পূর্ব-প্রস্তুতির সকল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া নাগরিক সনদ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ ১৭ ধরনের সনদ ইস্যু হচ্ছে ধীর গতিতে। তারা অনুপস্থিত থাকলেও নাগরিক সেবা ঠিক রাখতে এসব কার্যক্রম তরান্বিত ও সঠিকভাবে পরিচালনা জরুরি। প্রশাসন দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
সুয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কয়েকজন অনুপস্থিত থাকলেও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সব সেবা চলমান আছে। তবে কিছু কিছু কাজ করতে গিয়ে কিঞ্চিত সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। আশা করছি সরকার শীঘ্রই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কাজেও গতি ফিরবে।’