চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না, এমনকি রাজনৈতিক পরিচয় টেনে মামলায় জড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি—এমন অভিযোগ তুলে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় বিএনপির তিন নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ইটভাটা ব্যবসায়ীরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, গেল বছর মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি শেখ মো. আব্দুল্লাহ ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ ঘোষণা করেন। ২০ দিন মাটি কাটা বন্ধ থাকার পর সিরাজদীখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী, থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী নুর হোসেন ও লতব্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান হারুন ভূঁইয়া মাটি কাটার আশ্বাস দেন এবং ৬০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে সমঝোতার ভিত্তিতে দুই বছরের জন্য ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা পরিশোধও করা হয়েছে। কিন্তু বাকি টাকার জন্য এখনো ভয়ভীতি ও চাপ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সিরাজদীখান-গোডাউন বাজার সড়কের লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে দুই শতাধিক মানুষ অংশ নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বাদশা মিয়া, ব্যবসায়ী রুবেল আহমেদসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।

মাটি ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া বলেন, "চলতি মৌসুমে ব্যবসা শুরু করতে গেলে প্রথমে এমপি আর পুলিশ আমাদের মাটি কাটা বন্ধ করে দেয়। পরে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী আমাদের মাটি কাটতে দেবেন—এমন আশ্বাসে কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাপুরে তাঁর অফিসে আমাদের ডাকেন। ওখানে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও লতব্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী নুর হোসেন এবং লতব্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান হারুন ভূঁইয়াসহ অন্যান্যরা ছিলেন। পরে আব্দুল্লাপুরে এম হায়দার আলীর কার্যালয়ে ডেকে ৬০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে দুই বছরে ৫০ লাখ টাকায় সমাধান হয়। প্রথম বছর ২৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও আমরা ২০ লাখ টাকা দিয়েছি। কিন্তু অবশিষ্ট অর্থের জন্য নিয়মিত চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়।"

মানববন্ধনে ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দ ও ত্রাণসামগ্রী ওই তিন নেতার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এতে জনপ্রতিনিধিরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী। তিনি বলেন, "আমি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার মাদক, সন্ত্রাস ও অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কাজ করছি। এ কারণেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।"