শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা : ঝিনাইদহের শৈলকুপা অবৈধ মাদক ও রমরমা জুয়ার হাটে পরিণত হয়েছে। শুধু হাটই নয় নিরাপদ গেটওয়ে হিসেবে পাচার হয়। গাঁজার পাশাপাশি ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে মরণ নেশা ইয়াবা। আর উঠতি বয়সের ঘাতক মাদকের প্রধান ক্রেতা। হাটে-ঘাটে মাঠে ময়দানে সর্বত্র চলছে মাদকের বেচাকেনা। ফলে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। এই উপজেলার চতুর্দিকে রাজবাড়ি, কুষ্টিয়া ও মাগুরা এই জেলার সীমান্ত হওয়াতে মাদক ব্যবসায়ীরা সহজেই নানা রুট ব্যবহার করে গাঁজা ইয়াবাসহ নানা রকমের মাদক ব্যবসা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ প্রশাসনের যেন মাদক নিয়ন্ত্রণে কোনো উদ্যোগই নেই। যার ফলে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাকারবারিদের সাথে যোগসাজস করে এ উপজলোয় অবৈধ মাদকের চালান আসছে। ছোট ব্যবসায়ীরা মাঝে মাঝে গ্রেফতার হলেও, ধরাছোয়াঁর বাইরে রয়েছে মাদকের শীর্ষ গডফাদাররা।

এদিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় যৌথবাহিনীর অভিযানে ১০০ লিটার বাংলা মদ উদ্ধার ও ধ্বংস করা হয়েছে। শৈলকুপা থানার পাশে হরিজন সম্প্রদায়ের মধ্যে মদপানের জন্য মাসে নির্দিষ্ট ৯ লিটার বাংলা মদ নিয়ে আসার লাইসেন্সটির ও মেয়াদ চলে গেছে এক বছর আগে যা এখনো নবায়ন হয়নি। লাইসেন্স না থাকলে ও মাদক সম্রাট আনন্দ পূর্বের লাইসেন্সকে পুঁজি করে শত শত লিটার বাংলা মদ, ভারতীয় মদ মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করে আসছে। এছাড়াও শৈলকুপার বহু স্থানে মাদক ব্যবসায়ীরা সক্রিয় রয়েছে।

মির্জাপুর ইউনিয়নের বালাপাড়া চরগোলক নগর চায়ের দোকানের, কেরাম বোর্ড খেলার আড়ালে রাতভর চালানো হয় মাদক ব্যবসা। মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সিংড়া (নাটোর)

নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি রাজশাহী বিভাগের একটি টিম দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে ৩৬৫ বোতল ফেনসিডিলসহ দুজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. মুক্তারুল ইসলাম ওরফে দিলদার (২৭) ও মো. শহীদুল ইসলাম ওরফে বাবু (২৫)। তারা দুজনই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার শ্যামপুর গোপাল নগর দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা এবং পরস্পর ভাই। অভিযানকালে তাদের বহনকৃত পাওয়ার টিলারের টুলবক্সে অভিনব কায়দায় লুকানো অবস্থায় ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, মাদকের এই চালানটি চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীর তানোর, বাগমারা ও নওগাঁর আত্রাই হয়ে সিংড়া পর্যন্ত পৌঁছায়। আটকদের বিরুদ্ধে নাটোরের সিংড়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওসির দায়িত্বে থাকা সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

চাঁদপুর

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পশ্চিম ফতেপুর ইউনিয়ন থেকে ৫০২ পিচ ইয়াবাসহ তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। স্থানীয় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুর সদর আর্মি ক্যাম্প ও মতলব উত্তর থানা পুলিশ কর্তৃক তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঐ যৌথ অভিযানে মতলব উত্তর উপজেলার পশ্চিম ফতেপুর ইউনিয়ন থেকে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী রেজাউল করিম (২৫) কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নিকট হতে ৫০২ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত দ্রব্যসামগ্রী ও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে মতলব উত্তর থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

ভোলাহাট

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ৫০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ১ জনকে আটক করেছে ভোলাহাট থানা পুলিশ।

সম্প্রতি গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসি শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এস আই রামজীবিন, এস আই কামাল হোসেন, এস আই খাইরুল, এস আই ফজলেবারী এ এস আই ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রাত ৩ টা ৫০ মিনিটে সময় উপজেলার হোসেনভিটা গ্রামের মৃত হুয়ায়ন রেজার ছেলে শহিদুল ইসলাম (৫০)কে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫০ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক করা হয়।

ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান আটককৃত আসামীর বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা রুজু করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মাগুরা

মাগুরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ দুইজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার এস আই মানিক কুমার শিকদারের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল সন্ধ্যায় শ্রীপুর উপজেলার গোয়ালদহ ঘাট এলাকার আব্দুল কাদেরের অস্থায়ী মুদি দোকানের সামনে থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করার সত্যতা নিশ্চিত করেছে শ্রীপুর থানা অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) ইদ্রিস আলী।

আটককৃতরা হলেন রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার কোনাগ্রামের আবু বক্কার মন্ডলের পুত্র বিপ্লব মন্ডল ও মাগুরা জেলার শ্রীপুর সদর ইউনিয়নের মোঃ মতিয়ার রহমান বিশ্বাসের পুত্র মেহেদী হাসান শফিক।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) ইদ্রিস আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জেলা ডিবি পুলিশের একটি টিম দুইজনকে মাদকসহ আটক করেছে। তাদের মধ্যে বিপ্লব মন্ডলের কাছ থেকে ১৭ পিচ ও মেহেদী হাসান শফিকের কাছে থেকে ১০ পিচ ইয়াবা উদ্বার করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মানিক কুমার শিকদার বাদী হয়ে একটি মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ধুনট (বগুড়া)

বগুড়ার ধুনটে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীর ঘরে ঢুকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে আনারুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। রোববার ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে ধুনট থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে গত ২২ এপ্রিল রাতে উপজেলার বেলকুচি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় যুগ আগে ওই নারী ও তার স্বামীর মধ্যে ডিভোর্স হয়। এরপর থেকে ওই নারী তার বাবার বাড়িতে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে ওই নারীর ছেলে ঢাকায় অবস্থান করায় ওই নারী গ্রামের বাড়িতে একাই থাকেন। ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল আলম জানান, স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নীলফামারী

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামের এক সময় শাহ কলন্দর পীরের মাজারে আয়োজন হতো ধর্মীয় মিলাদ মাহফিল ও আত্মিক শুদ্ধির অনুষ্ঠান। এখন সেই পবিত্র স্থানেই বসেছে বাণিজ্যিক মেলা, চলছে নানা অসামাকিজক কার্যকলাপ।

রেওয়াজ অনুযায়ী, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় এলাকায় প্রতিবছর বৈশাখ মাসের ২৬, ২৭ ও ২৮ তারিখে ওরশ অনুষ্ঠিত হয়। মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষও অংশ নেয় এই আয়োজনে। দেশের বিভিন্ন স্থান হতে আগত হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে মাজার এলাকায়। মাজারে আগত ভক্তদের অনেকের বিশ্বাস মানত করার মাধ্যমে পূরণ হয় মনোবাসনা।

মনোবাসনা পূরণের আশায় অনেকে মাজারে মানত করেন। কেউ নগদ অর্থ, ছাগল, হাঁস-মুরগী ও ফল-মূল দান করেন। যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এ ছাড়া মাজারের আশে পাশে ওরশ উপলক্ষে বসে মেলা, চলে পণ্যের বিকিকিনি। সেই পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে সেই ওরশ এখন রূপ নিয়েছে নানা অনৈসলামিক কর্মকা-ে। শুরু হয়েছে মাজার পূজাসহ নানা অনৈসলামিক কর্মকা-।