দুর্ঘটনার আশঙ্কা
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গাড়ির জ্বালানি লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ফিলিং স্টেশনে অবৈধভাবে রিফিল করা হচ্ছে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার।
উপজেলার বেশ কয়েকটি এলপিজি স্টেশনে নিয়মিত এমন অবৈধ রিফিলের কাজ চলছে। এতে যে কোনো সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে এলপিজি এবং রান্নার গ্যাসের পার্থক্য না বুঝেই ক্রেতা বিক্রেতারা এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা।
গত রোববার উপজেলার কদমতলী এলাকায় অবস্থিত অরুণ কুমার ঘোষের মালিকানাধীন একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনে ১৫টি খালি সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার সময় স্থানীয়দের সহায়তায় ডিলাররা একটি অটোরিকশা আটক করে। এ সময় ঘটনা¯’লে সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে ফিলিং ষ্টেশনের ম্যানেজার অফিস বন্ধ করে পালিয়ে যান এবং তার মুঠোফোন বন্ধ করে রাখেন।
বিস্ফোরক অধিদপ্তর সূত্র বলছে, রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজিতে ৭০ শতাংশ কোপেন ও ৩০ শতাংশ ডিউটেন সংমিশ্রণ থাকে। আর গাড়িতে ৬০ শতাংশ কোপেন ও ৪০ শতাংশ ডিউটেন সংমিশ্রণ করে ব্যবহার করতে হয়। কোপেন ও ডিউটেন সংমিশ্রণের পার্থক্য থাকায় এলপিজি গ্যাস কোনোভাবেই রান্নার কাজে ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু না জেনে না বুঝে এলপিজি স্টেশনগুলো রান্নার সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল করে দিচ্ছে। আর এসব সিলিন্ডার ব্যবহার হচ্ছে রান্নার কাজে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ গ্যাস তৈল জাতীয়। রিফিল সংমিশ্রণ সঠিকভাবে না হলে গ্যাস সিলিন্ডারের নিচে বসে থাকে। নাড়াচাড়ার কারণে বিস্ফোরণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
যমুনা গ্যাসের ডিলার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, 'এভাবে অবৈধ রিফিলের মাধ্যমে গ্রাহকরা প্রতারিত হচ্ছেন এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছেন। এই অবৈধ কার্যক্রম রোধে জনগণের সচেতনতা জরুরি।' ডিলার রাজিবুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে অবৈধ রিফিল বন্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানান।
রান্নার গ্যাসের প্রতি লিটার ১০৭ টাকার বেশি দামে বিক্রি হলেও গাড়ির গ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৬৭ টাকা ২১ পয়সা। এই পার্থক্য কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ১২ লিটারের সিলিন্ডার ১০০০ টাকায় রিফিল করছেন, যা বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় ৫০০ টাকা কম।
অভিযুক্ত ফিলিং স্টেশনের মালিক অরুণ কুমার ঘোষ এই অভিযোগকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে বলেন, 'বাজারের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ায় ডিলাররা মিথ্যা অভিযোগ এনেছে। তবে ফিলিং স্টেশনের কিছু কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অবৈধ রিফিলের বিষয়টি স্বীকার করেন।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আকরাম হোসেন জানান, রান্নার গ্যাসে ৭০ শতাংশ কোপেন ও ৩০ শতাংশ ডিউটেন মিশ্রণ থাকে, যেখানে গাড়ির গ্যাসে থাকে ৬০ শতাংশ কোপেন ও ৪০ শতাংশ ডিউটেন। এই অনুপাতের পার্থক্য থাকায় রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে এলপিজি রিফিল করা বিপজ্জনক। সামান্য নড়াচড়াতেও সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।