আল হেলাল, নালিতাবাড়ি শেরপুর : ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তেলি খালি থেকে নেমে আসা ভুড়ি ভোগাই নদীর শাখা খাল অবৈধ দখলদারদের কারণে ভরাট ও দখল হয়ে যাচ্ছে শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার ০৯নং মরিচপুরান ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কয়ার পাড় ও বাড়িগাই বিলের চয়টি শাখা খাল।
খাল গুলোর কিছু অংশ প্রাকৃতিক ভাবে ভরাট হলেও বেশির ভাগ খালের পাড় মাটি দিয়ে কেটে ভরাট করে তৈরি হচ্ছে আবাদি জমি । পাশের গ্রাম গুলোর প্রভাবশালী লোকজন বর্তমানে ওই জমির মালিক। দীর্ঘদিন থেকে ইরি-বোরো মৌসুমে খালের মাঝে জমিতে চলছে ধান চাষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে , কয়ার পাড় বিলের শাখাখাল গুলোর মধ্যে ছনটাল গ্রামের লড়ি খাল হয়ে বাড়িগাই বিল পর্যন্ত খালটির সবচেয়ে বড়। এর দৈর্ঘ্য প্রায় তিনকিলো মিটার । এছাড়া বাড়িগাই বিল থেকে নকলা উপজেলার দুর্রন্ত ভোগাইয়ের শাখা কালগাঙ্গ পর্যন্ত খালের দৈর্ঘ্য প্রায় একই রকম । ইতোমধ্যে খাল ভরাটের কারণে কয়ার বিল থেকে বাশকান্দা গোজাকুড়া, ছনটাল, উত্তর কোন্নগড়র, ফকিরপাড়া, মরিচপুরান, মৌলভীপাড়া, উল্লারপাড়, বেনিপুরি গোপ পর্যন্ত খাল গুলো একেবারে ভরাট হয়ে সমতল জমিতে পরিণত হয়েছে। খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় একদিকে বর্ষা মৌসমে জলাবদ্ধতার কারণে আমন আবাদ করা সম্ভব হয় না। অন্যদিকে বন্ধ হয়ে গেছে নৌকা চলাচল। অপরদিকে আগে খালের পানি দিয়ে জমিতে রবিশষ্য চাষাবাদ হলেও বন্ধ হয়ে গেছে সেসব চাষাবাদ। বিল পার্শ^বর্তী গ্রামের বাসিন্দারা এ প্রতিবেদক কে জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন থেকে খালগুলো খনন না করা এবং তদারকির অভাবে অবৈধ দখলদাররা খালের পাড় কেটে মাটি দিয়ে ভরাট করেছে খালের তলদেশ। এই কারণে এখন সব কটি খালের বেহাল দশা। ছনটাল খালপাড় গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ (৬২) বলেন, এক সময় কয়ার পাড় বিলের খালগুলো ছিলো মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। আগে এই খাল দিয়ে বেশির ভাগ মানুষ নৌকা যোগে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী নকলা উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতো।
মরিচপুরান গ্রামের রিফোজি পাড়ার জেলে শ্রী চিনিবাস বলেন, খাল ভরাট হয়ে যাওয়া ও সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জেলেরা। কারণ আগে এই খালগুলো এতই গভীর ছিল যে, সারা বছর খালে পানি থাকতো। প্রচুর মাছ থাকার কারণে জেলেরা খাল ও বিল থেকে মাছ ধরে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতেন। বর্তমানে খাল সহ কয়ারপাড় বিল ও বাড়িগাই বিল প্রায় ভরাট হয়ে যাওয়া খরা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই শুকিয়ে যায় খালের পানি। এইকারণে বর্ষার ৩-৪ মাস খাল-বিলে জেলেরা মাছ ধরতে পারলে ও বছরের বাকি সময় তারা বেকার জীবন যাপন করেন। তাদের সংসার চলে অর্ধাহারে-অনাহারে।
৯নং মরিচপুরান চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী সরকার জানান, কয়ারপাড় বিল ও বাড়ীগাই বিলের শাখা খাল গুলো মরিচপুরান ইউনিয়ন সহ পার্শ^বর্তী হালুয়াঘাট ও নকলা উপজেলা কালাগাঙ্গ পর্যন্ত অবস্থিত। তিনি বলেন, এই ব্যাপারে নালিতাবাড়ি (এলইজিডি) অফিসে খাল খননেন জন্য একটি পস্তাবনা দিয়েছিলাম কিন্তু বাস্তবায়ন হয় নাই। খালটি খনন করা হলে কয়ারপাড় গোজাকুড়া মৌজা প্রায় ৬০ একর জমিতে ইরি-বোরো আবাদের উপযোগী হবে। এবং খালটি খননের জরুরি প্রয়োজন।