বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা ও থানা কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, আনুগত্য, পরামর্শ ও মুহাসাবা একটি সংগঠনের মূল ভিত্তি। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সংগঠনের প্রতি আন্তরিক আনুগত্য অত্যন্ত জরুরি। আনুগত্য মানে অন্ধ অনুসরণ নয়, বরং সত্য ও ন্যায়ের পথে নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করা এবং তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।

তিনি আরও বলেন, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পরামর্শের কোনো বিকল্প নেই। পারস্পরিক মতবিনিময়, ভ্রাতৃত্ববোধ ও দায়িত্বশীল আলোচনার মাধ্যমে সংগঠন শক্তিশালী হয়। একজন কর্মী যেমন নেতৃত্বকে পরামর্শ দিবে, তেমনি নেতৃত্বও কর্মীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে—এটাই একটি আদর্শ সংগঠনের বৈশিষ্ট্য।

মুহাসাবার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আত্মসমালোচনা ছাড়া ব্যক্তিগত ও সংগঠনগত উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রতিনিয়ত নিজের কাজের হিসাব নেওয়া, ভুল-ত্রুটি সংশোধন করা এবং নিজেকে আরও পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। তিনি উপস্থিত সকলকে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থেকে সততা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কারসহ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী গণমিছিল সফল করার জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। তিনি বলেন, এই দাবি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং জনগণের ভোটের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের বার্তা রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দিতে হবে। তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করে এই আন্দোলনকে গণমানুষের আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।

প্রধান অতিথি জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়, সুবিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই সংগ্রাম চলমান থাকবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার জন্য সকলকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

শেষে তিনি বলেন, যদি আমরা আনুগত্য, পরামর্শ ও মুহাসাবার এই তিনটি গুণ নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ ব্যক্তি, সংগঠন এবং সমাজ—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল সহকারী: ড. মোঃ আবু সাদেক, সংসদ সদস্য (চুয়াডাঙ্গা ১) এডভোকেট মাসুদ রাসেল পারভেজ এমপি

শিক্ষা শিবিরে সভাপতিত্ব করেন, জেলা আমীর রুহুল আমিন এমপি, জেলা সেক্রেটারী এডভোকেট আসাদুজ্জামান এর সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা আজিজুর রহমান, তারবিয়ত সেক্রেটারী জিয়াউল হক প্রমূখ।