সর্বোচ্চ ১২২২ নম্বর পেয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী সিমন যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। একই স্কুলের শিক্ষার্থী আহাদ হোসেন প্রিন্স ও যুখরুফ হাসনাইন ১২২০ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে। আর ১২২১নম্বর পেয়ে খোকসা জানিপুর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে বলে জানা যায়। যশোর বোর্ডে এ সাফল্যে শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। প্রশংসায় ভাসছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃতি শিক্ষার্থীরা।

প্রথম স্থান অধিকারী জেলা স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী সামিউল হক সিমন যশোর মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২২২নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে।

সিমনের পিতা জিল বাংলা সুগার মিলের জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) রকিবুল হক জানান, বিভিন্ন বোর্ডের তথ্য নিয়ে জানতে পেরেছি আমার ছেলে যশোর বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে উর্ত্তীর্ণ হয়েছে। এব্যাপারে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুন্সী কামরুজ্জামান জানান, আমাদের শিক্ষার্থী সিমন যশোর বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২২২নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে। আমি তার সাফল্য কামনা করি। সেই সাথে জিলা স্কুলেরা আরো ২জন শিক্ষার্থী যৌথভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে।

এদিকে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক ও বর্তমান চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনিসুর রহমান জানান, যশোর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী মাহিম সর্বোচ্চ ১২১৯নম্বর পেয়ে ৪র্থ স্থান লাভ করেছে। খুলনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে জেনেছি যে, খুলনা জিলা স্কুলের দুজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১২১৫ নম্বর পেয়েছে।

আর যশোর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা সর্বোচ্চ ১২১৬ নম্বর পেয়ে মেয়েদের মধ্যে যশোর বোর্ডের প্রথম স্থান লাভ করেছে। তিনি আরো জানান, আমি কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী সিমনের নম্বর পত্র দেখেছি সে ১২২২ নম্বর তাতে সিমনের নম্বরটি যশোর শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর হবে।

যশোর শিক্ষাা বোর্ডের উপ-পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) জানান, বোর্ডের মাধ্যমে মেধা তালিকা বাছাই করা সম্ভব হয়নি। তাই মেধা তালিকা নিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই।

কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের নিজ ফ্লাটে সিমনের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। সিমন মহান সৃষ্টিকর্তার শোকরিয়া জ্ঞাপন করে বলেন, নিমমাবর্তিতার মধ্যে দিয়ে লেখাপড়া করেছি। সময় নষ্ট না করে লেখাপড়ার প্রতিমনোযোগী হওয়ার ফলে আজকের এই কাংখিত ফলাফল।

সে জানায়, পিতা-মাতার পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষকেরা তাকে সহযোগিতা করেছেন। সিরিয়াসনেস না থাকলে ভাল কিছু করা অসম্ভব। তাই আমি লেখাপড়াকে সিরিয়াস হিসেবে নিয়েছিলাম। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি গনিত অলিম্পিয়াডে জাতীয় পর্যায়ের পদক অর্জন করেছে। বাসার শোকেচে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পদক ক্রেষ্ট দেখা গেল। অবসরে বই পড়ে সময় কাটে সিমনের। সিমনের মা শামীমা আহমেদ জানান, সিমন ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়ায় ভাল ফলাফল অর্জন করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সে যশোর জেলার প্রথম স্থান অধিকার করে। আমরা দারুন খুশি। আশা করি পরবর্তিতে আরো ভাল ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে সে আমাদেও সম্মানকে সমুজ্জল করবে।

নিয়োমিত পড়ালেখা এবং বই পড়ার মাধ্যমে অবসর সময় কাটাই। সিমন বুয়েট থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিতে আগ্রহী। সিমনের মা সমাজসেবা অধিদপ্তরে কর্মরত। সিমনের পিতা রকিবুল হক জানান, ছেলের ফলাফলে আমরা দারুন খুশি এবং তৃপ্ত। তার মেধা, আত্ম বিশ্বাস,অক্লান্ত পরিশ্রম,কঠোর অধ্যবসায় ও নিয়মাবর্তিতাই তাকে গৌরবময় ফলাফল অর্জনে সহায়তা করেছে। ওর স্বপ্ন বিজ্ঞানী হয়ে দেশ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করবে। তিনি আরো বলেন সিমনের এই সাফল্যের পিছনে তার মায়ের ভুমিকা অনেকাংশে প্রশংসার দাবী রাখে। সন্তানকে সর্ব সময়লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ করে তুলতে সে সাংঘাতিক কৌশলী ভুমিকা রেখেছে।