একেএম আবদুর রহীম, ফেনী থেকে

দেশ যখন গ্যাস সংকটে কাবু তখনো সরকার ফ্যাসিস্ট সরকার কর্তৃক বন্ধ করে রাখা গ্যাস ফিল্ডগুলোর গ্যাস উত্তোলনের কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যেও প্রায় দুই দশক ধরে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে ফেনীর গ্যাসক্ষেত্রটি। ভারতের ত্রিপুরায় এই কূপের অপর মুখ থেকে ভারত গ্যাস উত্তোলন করছে বলে জানা যায়। সম্ভাবনাময় এই গ্যাস ক্ষেত্রটিতে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস থাকার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এটি পুনরায় চালুর কোনো দৃশ্যমান সরকারি উদ্যোগ নেই। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন জানা গেছে, ১৯৮১ সালে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে আবিষ্কৃত হয় ফেনী গ্যাসক্ষেত্র। এটি উদ্বোধন করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। প্রায় ৩ হাজার মিটার গভীরে অবস্থিত এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে একসময় প্রতিদিন গড়ে ২০ লাখ ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এখানে আরও কূপ খনন করা হলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো সম্ভব ছিল। তবে ২০০৫ সালে ছাতক গ্যাসক্ষেত্রের ভয়াবহ বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে কানাডীয় প্রতিষ্ঠান ‘নাইকো’ ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে আইনি বিরোধ শুরু হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ফেনী গ্যাসক্ষেত্রেও। নাইকোর সঙ্গে আইনি জটিলতা ও দরকষাকষির কারণে পরবর্তীতে এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।সে সময় এই গ্যাসক্ষত্রে আর গ্যাস নেই ঘোষনা দিয়ে গ্যাসক্ষেত্রটি সিসা ঢেলে সিলগালা করে দেয়া হয়।সেই থেকে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই গ্যাসক্ষেত্রটি সম্পূর্ণ অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং এর মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও অবকাঠামো পরিত্যক্ত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের অভিযোগ, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং প্রতিবেশী দেশের স্বার্থ রক্ষার্থেই বিগত সরকারের আমলে এই গ্যাসক্ষেত্রটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। স্থানীয় আবদুর রহমান জানান, জিয়াউর রহমানের আমলে এবং পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের সময় এখানে কূপ খনন ও উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নেওয়া হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এটি রহস্যজনকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে দেশের জ্বালানি সংকটের এই সময়ে এই ক্ষেত্রটি পুনরায় চালু করা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, ফেনী গ্যাসক্ষেত্র পুনরায় চালু করার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে এখন পর্যন্ত সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো পরিকল্পনা বা নির্দেশনা আসেনি। পেট্রোবাংলা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো হালনাগাদ বার্তা দেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষ মনে করে ফেনীর সংসদ সদস্যগন বিষয়টি সংসদে উঠালে এব্যাপারে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বর্তমানে দেশে গ্যাসের যে তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে বন্ধ থাকা এই গ্যাসক্ষেত্রগুলো পুনর্বিবেচনা ও পুনরায় চালুর দাবি জোরালো হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ফেনী গ্যাসক্ষেত্রটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনবে।

এদিকে ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নে অপর একটি গ্যাসকূপ খননের সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত খনন করা হয়নি। সেই কূপটিও খননের জন্য এখন প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত বর্তমান নির্বাচিত সরকারের।