বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম বলেছেন, জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব জামায়াতে ইসলামীকে দিতে চায়। তবে সে দায়িত্ব পালনের জন্য দলের নেতা-কর্মীদের যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, “আল্লাহ বলেন, পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অনুসরণ কর, শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। কিন্তু পরিপূর্ণ ইসলাম পালনকারী খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম ছাড়া পরিপূর্ণ ইসলাম পালন করা সম্ভবও নয়। অথচ কাজটি ফরজ। এই ফরজ আদায়ের জন্য ইসলামী আন্দোলন করাও ফরজ।”
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফেনী জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘লিডারশিপ প্রশিক্ষণ কর্মশালা’র সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আবদুর রহিমের সঞ্চালনায় কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ আবদুর রব, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও অঞ্চল টিম সদস্য নজরুল ইসলাম খাদেম এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
সমাপনী দিনে দারসুল কোরআন পেশ করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন।
মাওলানা এটিএম মাছুম বলেন, দ্বীন কায়েমের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শতধা বিভক্ত হয়ে দ্বীন কায়েমের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। খানকা বা হুজরায় বসে থেকে দ্বীন কায়েম করা সম্ভব নয়; এটি নবী-রাসুলদের সুন্নাহর পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দ্বীন কায়েমের জন্য প্রয়োজনে ফাঁসির রশি হাসিমুখে গলায় পরার প্রস্তুতি থাকতে হবে। সমাজ পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে, সমাজের প্রতিটি কাজে সম্মুখসারিতে থাকতে হবে এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখতে হবে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ আবদুর রব বলেন, দেশ ও জাতির পরিবর্তন করতে হলে সবার আগে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। সব রুকন ও দায়িত্বশীলকে ব্যক্তিজীবনে পরিপাটি এবং সাংগঠনিক জীবনে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। দ্বীনকে জীবনের উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
তিন দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল জব্বার, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, অধ্যাপক মফিজুর রহমান (ভার্চুয়াল) এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন।
প্রথম দিন কোরআনের দারস পেশ করেন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা ফারুক আহমাদ। দ্বিতীয় দিন দারস পেশ করেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হক।